BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

অন্য দলগুলির চেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছে বিজেপি: মোদি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 19, 2016 12:21 pm|    Updated: August 19, 2016 12:21 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিটি পদক্ষেপকেই সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখা হয়৷ অন্য দলগুলির থেকে অনেক বেশি আত্মত্যাগ করেছে বিজেপি৷ অথচ জন্মলগ্ন থেকেই তাদের সবচেয়ে বেশি প্রতিকূলতার সামনে পড়তে হয়েছে৷ স্বাধীন ভারতে তারা যে ঝড়-ঝাপটা সহ্য করেছে, ইংরেজ শাসনে কংগ্রেসকেও তা সহ্য করতে হয়নি৷ বৃহস্পতিবার এই আক্ষেপ শোনা গিয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে৷ দলের নতুন সদর দফতরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে৷ যা নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ কংগ্রেস৷ তাঁর এই মন্তব্যের জন্য মোদিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল৷

এদিনের অনুষ্ঠানে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, অরুণ জেটলির মতো শীর্ষ নেতৃত্ব৷ তাঁদের উপস্থিতিতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি বিভাজনকারী গোষ্ঠী দেশে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে৷ তার কারণ, দেশ দ্রুত উন্নতি করছে, শক্তিশালী হচ্ছে৷ তাতে বাধা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য৷ এই পরিস্থিতিতে সমাজে সম্প্রীতি ও বন্ধন যাতে আরও দৃঢ় হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে৷ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলিত ও সংখ্যালঘুদের উপর নিগ্রহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে৷ যার সঙ্গে নাম জড়িয়ে গিয়েছে বিজেপি নেতা-কর্মীদেরও৷ দলের শীর্ষ পদাধিকারীদের সামনে রেখে মোদি পরোক্ষে তাদেরও বার্তা দিলেন বলে অনেকে মনে করছেন৷

‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “দলীয় কর্মীদের গণতান্ত্রিক বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে৷ প্রমাণ করতে হবে, তাঁরা আদর্শের অনুগামী৷ কোনও বংশের প্রতি নয়৷ যেভাবে বিজেপিকে বর্ণনা করা হয়, দল মোটেই সেই রকম নয়৷ জন্মলগ্ন থেকেই বিজেপিকে প্রচুর প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয়েছে৷ আমাদের দল সবচেয়ে বেশি বলিদান দিয়েছে৷ ব্রিটিশ শাসনে কংগ্রেসকেও তা সহ্য করতে হয়নি, যা গত ৫০-৬০ বছরে বিজেপি কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে৷” তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি নিশানা করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের ভয়ে কলকাতার মতো জায়গাতেও দফতর করার জন্য বিজেপিকে জায়গা দিতে চাননি অনেকে৷ তাঁর মত, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অনেকে কাজ করতে পারে৷ কিন্তু আদর্শে অবিচল থাকাটাই আসল৷ ১৯৬৯ সালে তাঁরা মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতায় আসার পর জনসংঘকে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা গবেষণা করেছিল৷ অটলবিহারী বাজপেয়ী কেন্দ্রে সরকার গঠন করার পর তাদের আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে মোদি দাবি করেন৷ দলের সদস্যসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মীদের দলের আদর্শ ও কর্মপতি শিক্ষাও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি জানিয়েছেন৷

প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বলে উল্লেখ করে দলের সভাপতি অমিত শাহ জানান, বিজেপি সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে৷ মোদির জনপ্রিয়তা ও সংগঠনের শক্তিতে যাতে সেই ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে কর্মীদেরই৷ শাহ বলেন, “বিজেপির এই স্বর্ণযুগকে আরও উন্নত করতে হবে৷ আত্মসন্তুষ্ট হলে চলবে না৷ দলকে আরও ছড়িয়ে দিতে হবে৷ দেখতে হবে যে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যেন পূরণ করতে পারি৷” দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে দু’একর জুড়ে নতুন দফতরে একসঙ্গে দু’-তিন হাজার কর্মীকে নিয়ে সভা করা যাবে৷ সাততলা দফতরের ভূমিপূজা অনুষ্ঠানে শাহকে সামনে রেখে আড়াই ঘণ্টা ধরে যজ্ঞ হয়৷ ২০১৮-য় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর জন্মদিনে দফতর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব৷

এদিকে, মোদির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস৷ দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, “গোটা স্বাধীনতা সংগ্রামকেই অসম্মান ও অস্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তাঁর মুখে এই মন্তব্য শোভা পায় না৷ আমরা কিছুতেই সহ্য করব না৷ তাঁকে অবিলম্বে মন্তব্য প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে৷” তাঁর আরও কটাক্ষ, বিজেপি ও সংঘ পরিবার স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেয়নি৷ উলটে তারা ইংরেজদের সমর্থন করেছিল৷ তাই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করতেও তারা দু’বার ভাবে না৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement