৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অংশ, পাল্টা তোপ প্রধানমন্ত্রীর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 13, 2016 9:36 am|    Updated: August 13, 2016 9:36 am

An Images

নন্দিতা রায়: ক’দিন আগেই পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছিলেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন কাশ্মীর পাকিস্তানের হবে৷ আর শুক্রবার দেশের প্রত্যয়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরও জন্মু ও কাশ্মীরের অংশ৷ শুধু তাই নয়, পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং বালুচিস্তানের মাটিতে পাকিস্তান যে হিংসা চালাচ্ছে তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা আজাদ কাশ্মীরের প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্যও প্রধানমন্ত্রী বিদেশমন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছেন৷
দু’দিন আগে সংসদে বিরোধীরা অশান্ত কাশ্মীর নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানায়৷ সরকার বিরোধীদের সেই দাবি মেনে নেয়৷ এই সংক্রান্ত আলোচনায় জবাবি ভাষণে সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, পৃথিবীর কোনও শক্তিই ভারত থেকে জম্মু-কাশ্মীরকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না৷ তখনই ধরে নেওয়া গিয়েছিল, সর্বদলে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রতিবেশী দেশকে আরও কড়া বার্তা দিতে চলেছেন৷ বাস্তবে হলও তাই৷
শুক্রবারের সর্বদল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “পাক অধিকৃত কাশ্মীর আমাদেরই৷ পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা আজাদ কাশ্মীরের প্রবাসীদের সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আলোচনা হওয়া উচিত৷” টানা চার ঘণ্টার বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও সমঝোতা করব না৷ কিন্তু আমরা জন্মু ও কাশ্মীরের জনগণের আস্থা অর্জন করবই৷”
কাশ্মীরের অস্থিরতা থামিয়ে সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার সমাধান সূত্র খুঁজতেই এদিন সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়৷ কাশ্মীরের অস্থিরতার জন্য যে পাকিস্তানকেই দায়ী করা হচ্ছে, এ দিন সেই বার্তা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বার বার উঠে এসেছে৷
এদিনের বৈঠকে বিরোধী সব রাজনৈতিক দলই কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্যালেট গানের ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে৷ বিরোধীদের পক্ষ থেকে এদিন দাবি করা হয়, সরকার কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলুক৷ বিরোধীদের আরও দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ, রাজ্য সরকার, বিরোধীদের পাশাপাশি সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গেও কথা বলুক৷ কিন্তু বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, “সরকার সব পক্ষের সঙ্গেই কথা বলবে৷ তবে, হুরিয়তের সঙ্গে কথা বলবে কিনা তা সরকার অবস্থা বুঝেই নীতি তৈরি করবে৷” কাশ্মীরে সর্বদল প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য এ দিনের বৈঠকে বারবার দাবি তোলেন বামেরা৷ কিন্তু এদিনের বৈঠকে সে বিষয়েও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি৷ এ দিন এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি সরকারের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷ এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি৷” বিরোধীদের পক্ষ থেকে এদিন বসতি এলাকা থেকে আফস্পা প্রত্যাহার করারও দাবি উঠেছে৷ যদিও জেটলি এখনই এই পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন৷
এদিনের বৈঠকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কাশ্মীরের বিষয় নিয়ে তাদের সরকারের যেমন খামতি ছিল, এই সরকারেরও অনেক খামতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন৷ কেন্দ্র সরকারকে কাশ্মীরের সমস্যা সমাধানের জন্য যত্নশীল হতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন৷ বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীরের কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন৷ জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান শাসক পিডিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাশ্মীরের সমস্যা আগের মতো নেই৷ কিন্তু এখন সেখানকার যুব সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে৷ কাশ্মীরের প্রধান বিরোধীদলের পক্ষ থেকে অবশ্য এ দিন ওমর আবদুল্লা বা অন্য কোনও নেতা বৈঠকে হাজির ছিলেন না৷ কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেই তাঁরা অভিযোগ করেছেন৷ তৃণমূল কংগ্রেসের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে মানুষের কাছে যাওয়ার ও যুবকদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন৷ দলের আরেক নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, বর্তমানে কাশ্মীরের মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার আগের থেকে অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই যে কোনও ঘটনার প্রচার বা অপ্রচার দুটোই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাড়াতাড়ি হতে পারে- সেই বিষয়টি সরকারকে মাথায় রাখতে হবে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement