BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কেন্দ্র নয়, ‘ফোর লেন’ বানাবে মমতার সরকার

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 1, 2016 8:58 am|    Updated: August 1, 2016 9:11 am

An Images

কিংশুক প্রামাণিক: বারাসত-কৃষ্ণনগর, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ফোর লেন প্রকল্প থেকে মাঝপথে হাত গুটিয়ে নিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, প্রকল্পের কাজ আর তারা করবে না৷ খুবই সামান্য কাজ হয়েছে৷ বকেয়া কাজ চাইলে রাজ্য করতে পারে৷ সেক্ষেত্রে অর্থের জোগানের দায়িত্ব নেবে কেন্দ্রই৷ যে ঠিকাদারি সংস্থা প্রকল্পটি করছিল, তাদেরকে নতুন করে কোনও কাজ করতে বারণ করা হচ্ছে৷ রাজ্যকে বলা হয়েছে, ৮৭.৫ কিলোমিটার রাস্তাটির জন্য নতুন করে গ্লোবাল টেন্ডার করা যাবে৷ প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১৮০০ কোটি৷

নবান্ন সূত্রে খবর, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ প্রকল্পের শ্লথ গতি ও টালবাহানায় এমনিতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এর মধ্যে যেভাবে বারাসত-কৃষ্ণনগর অংশে নিজেদের দায় ঝেড়ে প্রকল্পটি জাতীয় সড়ক উন্নয়ন মন্ত্রক রাজ্যকে দিতে চাইছে, তা বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার আরও এক উদাহরণ৷ তবুও এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাজ্যের ভাবনা ইতিবাচক৷ যেহেতু এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে বিরাট সমস্যার সমাধান হবে, সেই জনস্বার্থের দিকে তাকিয়ে এটি গড়ার দায়িত্ব রাজ্য হাতে নিতে পারে৷

আর সব ঠিকঠাক চললে বহু দিন পর পূর্ত দফতরের তত্ত্বাবধানে রাজ্যে জাতীয় সড়ক প্রকল্প হবে৷ এ ব্যাপারে দফতরের প্রধান সচিব ইন্দিবর পাণ্ডেকে রবিবার প্রশ্ন করা হলে তিনি খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে, রাস্তাটি বানিয়ে আবার আমরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেব৷ ওরা টোল আদায় করবে৷ যদিও কাজের টেন্ডার নতুনভাবেই করা হবে৷ তবে সব কিছুই চূড়ান্ত করবেন মুখ্যমন্ত্রী৷”

আরও জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের প্রস্তাব পান পূর্তসচিব৷ সূত্রের খবর, এই সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে নিজেদের ইচ্ছার কথা জানাতে পারে রাজ্য৷ ঠিক হয়েছে, পূর্ত দফতরের(রোডস)এর নদিয়া ডিভিশনকেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে৷ যেহেতু অন্য প্রকল্প নিয়ে বারাসত ডিভিশন ব্যস্ত, সেই জন্য দায়িত্ব পাবে নদিয়া৷ আপাতত তাদের হাতে গ্রামীণ প্রকল্পগুলি ছাড়া তেমন কোনও কাজ নেই৷

জানা গিয়েছে, নতুন রাস্তাটির বারাসত অংশে হবে পুরোপুরি উড়ালপুল৷ ডাক বাংলো মোড় থেকে বারাকপুর রোড পর্যন্ত টানা উড়ালপুল গড়া হবে যানজটের এড়াতে৷ বাম জমানা থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে জটিলতা ও জমির সমস্যা ছিল৷ রাজ্যে পরিবর্তনের পর কাজে গতি আসে৷ কিন্তু আটকে গিয়েছে বারাসত-কৃষ্ণনগরের কাজ৷ পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যা মিটলেও উত্তর ২৪ পরগনায় জমির সমস্যা এখনও খানিকাটা রয়েছে৷ যেহেতু শাসক দলের হাতে এই এলাকার সমস্ত লোকসভা-বিধানসভা ক্ষেত্র, পঞ্চায়েত ও পুরসভা, সেই জন্য রাজ্য হাতে নিলে দ্রুত সমস্যা মিটবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

তবে এ প্রশ্নও উঠেছে, যদি রাজ্যকেই দিতে হয়, তা হলে এত দেরি কেন করা হল৷ এদিকে, যে সংস্থা কাজ করছিল, বহু অর্থ বিনিযোগ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা কিন্তু স্পষ্ট নয়৷ পূর্ত দফতরের এক অফিসার বলেন, এসব কেন্দ্র বুঝবে৷ দায়িত্ব পেলে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে ফেলা হবে৷ বারাসত থেকে ডালখোলা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার রাস্তা উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সেতুবন্ধন করছে৷ ফোর লেন প্রকল্পটি সমাপ্ত হলে শিলিগুড়ি থেকে কলকাতার যোগাযোগের সময় অনেক কমে যাবে৷ যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে বিপ্লব আসবে৷ সাত আট ঘণ্টায় কলকাতা থেকে পৌঁছে যাওয়া যাবে শিলিগুড়ি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement