BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

পাকিস্তানের মদতেই জঙ্গি হানা বাংলাদেশে!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 3, 2016 2:24 pm|    Updated: July 4, 2016 11:35 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় অভিজাত রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হানার দায় স্বীকার করেছিল মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন আইসিস৷ এবার এই আক্রমণের পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আএসআই-এরও হাত আছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা৷

হলি আর্টিজান বেকারি নামে ঢাকার স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় যে কায়দায় হামলা চালানো হয়েছিল, তাতে আইসিস জঙ্গিদের কার্যকলাপের ছায়াই স্পষ্ট হচ্ছিল৷ পণবন্দিদের মুক্তির শর্ত হিসেবে জঙ্গিরা এই হানাদারিকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অভিযান হিসেবে স্বীকৃতিও দাবি করেছিল৷ যদিও বাংলাদেশ প্রশাসন তা মেনে নেয়নি৷ ফলে ভোররাতে সেনা অভিযান চালিয়ে খতম করা হয় ছয় জঙ্গিকে৷ কম্যান্ডোবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে এক জঙ্গি৷ বেশ কয়েকজন পণবন্দিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, প্রায় ২০ জন বন্দিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে জঙ্গিরা৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, যাঁরা ইসলাম ধর্মাবলম্বী নন বা ইসলামের নিয়মাকানুন মানেন না বা কলমা পড়তে পারেননি, তাঁদেরকেই বেছে বেছে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে৷ নিহতদের তালিকায় তাই বিদেশিদের সংখ্যাই বেশি৷ যাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতীয় তরুণী তারিষি জৈনও৷ এমনকী বাংলাদেশের নাগরিক, যিনি ইসলাম ধর্মের নিয়ম ততটা মানেন না, তাঁকেও গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছে৷ ধর্মের নামেই যে এই জঙ্গিহানা তা এই কার্যকলাপেই পরিষ্কার৷  জঙ্গিদের মুখে শোনা গিয়েছিল ‘আল্লা-হু-আকবর’৷ পরে এই প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘যাঁরা রমজানে মানুষ খুন করে তাঁরা কেমন মুসলমান!’  সময় যত গড়াচ্ছে তত হানার নেপথ্যে অন্য ছবি স্পষ্ট হচ্ছে৷

আইসিস এই হামলার দায় স্বীকার করলেও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, ‘জঙ্গিরা সকলেই নিষিদ্ধ সংগঠন ‘জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ’-এর সদস্য৷ তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক৷ ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে এদের কোনও যোগাযোগ নেই বলেই দাবি করেন তিনি৷’  এদিকে জামাতের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আএসআই যোগাযোগ নিয়েও দীর্ঘদিন সরব গোয়েন্দারা৷ এই প্রসঙ্গে তুলেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আইএসআই-এর সঙ্গে জামাতের যোগের কথা সকলেই জানেন৷ তারা একযোগে এই সরকারকে গদিচ্যুত করতে চায়৷ স্থানীয় জামাত জঙ্গিরা যেভাবে গলা কেটে খুন করে, এখানেও সেই একই ছায়া দেখা গিয়েছে৷’ শেখ হাসিনার সরকার জামাতদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা আটকাতেই এই হামলা বলে আগেই অনেকে সন্দেহ করেছিলেন৷ সরকারের পতন হলে যে সমস্ত জামাত সদস্য বিচারাধীন আছে তাদের মুক্তি হতে পারে বা বিচার পিছিয়ে যেতে পারে৷ আর তাই বড়সড় হামলা করে সরকারকে নড়িয়ে দেওয়াই ছিল লক্ষ্য৷ যদিও সেনার দক্ষতায় শেষমেশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আঘাত সামলে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ প্রশাসন৷

এদিকে বাংলাদেশকে ঘাঁটি করে ভারতের উপর আইসিস আক্রমণের ছকও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ভারতীয় গোয়েন্দারা৷ এই হামলার মাত্র ক’দিন আগেই হায়দরাবাদে খোঁজ মিলিছে আইএস মডিউলের৷ বাংলাদেশে আইএস জঙ্গিদের কাজ নিয়ে অসম ও ত্রিপুরার মতো রাজ্য রিপোর্ট পাঠিয়েছিল কেন্দ্রের কাছে৷ বাংলাদেশ প্রশাসন যদিও এই হামলার সঙ্গে আইসিস যোগ অস্বীকার করলেও বাংলাদেশে আইসিস জঙ্গিরা যে সক্রিয় তা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না কোনওমতেই৷ সেই সঙ্গে জামাতের এতবড় পদক্ষেপে পাকিস্তানের মদতও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা৷ হিন্দুদের উপর বহুদিন থেকেই অত্যাচার চালাচ্ছে জামাত-জঙ্গিরা, কিন্তু তা ছিল ছোটখাট আক্রমণ৷ কূটনৈতিক এলাকার মতো অভিজাত অঞ্চলে এত অস্ত্রসমেত এতবড় হামলা কীভাবে ঘটাল এই সংগঠন তাইই এখন খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা৷ সেখানেই বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে পাক-যোগ৷ পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতেই কি এতবড় হামলা ঘটাতে পারল জামাত সদস্যরা? এ প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement