BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাষ্ট্রপতি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 13, 2016 10:20 am|    Updated: July 13, 2016 10:31 am

An Images

নন্দিতা রায়: “আমি তোমাদেরই লোক, অতিথি নয়”৷
তিন দিনের দার্জিলিং সফরের প্রথম দিনে এই ভাষাতেই পাহাড়কে স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ করতালিতে ফেটে পড়ল পাহাড়ি জনতা৷ পাশে তখন হাসিমুখে দাদার বোন মমতা৷ রাষ্ট্রপতি আর মুখ্যমন্ত্রীর যুগলবন্দিতে হিমালয়ের কোলে তখন চাঁদের হাট৷
মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণেই মঙ্গলবার তিনদিনের দার্জিলিং সফরে এসেছেন রাষ্ট্রপতি৷ রাইসিনা হিলসে যাওয়ার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পাহাড়ে প্রণববাবু৷ সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাহাড়ের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমই যে ফল দিয়েছে সেকথা উল্লেখ করে প্রণববাবু বলেন, “তুমি খুব ভাল কাজ করছ, চালিয়ে যাও৷ ভগবান তোমার সহায়ক হবেন৷” পাহাড়ের জাতি, উপজাতিসহ সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষজনকে নিয়ে মমতা যে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেই বিষয়টির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি৷ বলেছেন, পাহাড়ের উন্নতির জন্য মমতার যে উদ্যোগ তা প্রশংসনীয়৷ ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বিষয়টি উল্লেখ করে পাহাড়ে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে একতা বজায় রাখার আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি৷
এদিন বিকালে দার্জিলিঙের ম্যালে রাজ্য সরকারের তরফে প্রণববাবুকে সম্বর্ধনা দেন মমতা৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন তাঁর প্রণবদাকে শাল পরিয়ে দেন৷ নিজের তোলা কাঞ্চনজঙ্ঘার একটি বাঁধানো ছবিও উপহার দেন তাঁকে৷ এদিনের পাহাড়ের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তাঁ হামারা’ উল্লেখ করে পাহাড় যে রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সেকথাই মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে বারবার উঠে এসেছে৷ নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে প্রণবদাকে ‘প্রাণ ভরিয়ে, তৃষা হরিয়ে’, ‘তুমি নব নব রূপে এস প্রাণে’ বলে আহ্বান জানিয়েও মানুষের প্রভূত হাততালি পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীও৷ প্রণববাবুর কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন তিনি৷ জিটিএ চেয়ারম্যান বিমল গুরুং এবং লেপচা, তামাং, শেরপা, ভুটিয়া বোর্ডের তরফ থেকেও রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷
এদিন দার্জিলিঙের মানুষ যেভাবে রাষ্ট্রপতির আগমনে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন সাম্প্রতিকালে এহেন দৃশ্য প্রায় দেখা যায়নি বললেই চলে৷ সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পরে খারাপ আবহাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারের পরিবর্তে সড়কপথেই দার্জিলিং আসেন রাষ্ট্রপতি৷ প্রায় দু-ঘন্টার সফরে কার্শিয়াং, সোনাদা, ঘুম পার করার সময়ে রাষ্ট্রপতিকে একঝলক দেখার জন্য বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তার ধারে কাতার দিয়ে মানুষজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে৷ দার্জিলিঙে ঢোকা থেকে রাজভবনে প্রবেশ পর্যন্ত একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি৷ পরে বিকালে মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায় ও সাংসদ পুত্র অভিজিত্‍ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রণববাবু যখন ম্যালে সংবর্ধনার জন্য হাজির হন সেখানেও স্থানীয় মানুষজনের উল্লাস ধ্ধনিতে কান পাতা দায় হয়৷
দার্জিলিঙকে ‘মিনি ভারত’ বলে নিজের ভাষণে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি৷ পাহাড় পশ্চিমবঙ্গের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি৷ পাহাড়ের একতা বজায় থাকলেই যে এর রূপ, রং, গন্ধ, বর্ণ বজায় থাকবে সেকথাও বলেন তিনি৷ রাষ্ট্রপতির সম্মানে পাহাড়ের লেপচা, ভুটিয়া, তামাং, শেরপাদের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ অনুষ্ঠানে রাজ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে গান শোনান৷ অনুষ্ঠানে গৌতম দেব সহ রাজ্যের আরেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন৷ এদিন অনুষ্ঠান শেষে প্রণববাবুকে নিয়ে মমতা ম্যালের কাছে মহাকাল মন্দির দর্শনে চলে যান৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement