৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

আহত আধিকারিকদের তদারকিতে খোদ রাষ্ট্রপতি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 16, 2016 9:03 am|    Updated: July 16, 2016 9:03 am

An Images

নন্দিতা রায় (রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী): সবে সোনাদা পার হয়ে গিয়েছে রাষ্ট্রপতির গাড়ি, ঠিক তারপরই ঘটনা৷ চোখের নিমেষে রাষ্ট্রপতির কনভয়ের এসকর্টের প্রথম গাড়িটাই হুড়মুড় করে নেমে গেল খাদের অতলে৷ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি তখন বেশ কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে গিয়েছে৷ পিছনে ছুটছে এসকর্টের দ্বিতীয় গাড়িটি৷ পরের গাড়িটিই যে নেই তা প্রথমে টেরই পাননি৷ বুঝতে পেরেই গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি৷ দার্জিলিং থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দর যাওয়ার মাঝপথেই কার্শিয়াংয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি যে সেখান থেকে যাবেন না, সেকথা পরিষ্কারভাবে নিজের আধিকারিকদের জানিয়ে দেন৷ পরে দিল্লিগামী বিমানে প্রোটোকল ভেঙে রাষ্ট্রপতিকে নিজের আহত আধিকারিককে দেখতে আসার বিস্মিত সাক্ষীও হলাম৷ দুঁদে রাজনীতিবিদ, দেশের রাষ্ট্রপতির এহেন মানবিক মুখ দেখে অনেকে অবাকও হলেন৷
এদিকে তখন ধুন্ধুমার কাণ্ড৷ এসকর্ট ওয়ানের গাড়িটা পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে খাদে পড়া, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি থামিয়ে নেমে যাওয়া৷ নিজে মাইক হাতে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, এসব চলছে৷ তারই মধ্যে জানতে পারলাম, রাষ্ট্রপতি প্রবল দুশ্চিন্তায় রয়েছেন৷ কার্শিয়াং থেকে জানতে চাইছেন খাদে পড়ে যাওয়া পাঁচজন কী অবস্থায় রয়েছেন৷ এই পাঁচজনের মধ্যে তাঁরই ‘চিফ সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার’, সিএসএলও এ পি সিংয়ের কী অবস্থা সেকথা জানতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন প্রণববাবু৷ কার্শিয়াংয়ের টুরিস্ট লজে বসে তিনি যে সাংঘাতিক দুশ্চিন্তা করছেন সে খবর আসে মমতার কাছে৷ প্রণবদা চিন্তা করছেন জানতে পেরেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ফোন করেন৷
তাতে খানিকটা হলেও শান্ত হন প্রণববাবু৷ এর আগেও জাতীয় সড়কে একবার রাষ্ট্রপতির কনভয় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিল৷ এবারের দুর্ঘটনা পাহাড়ে হওয়ার কারণেই রাষ্ট্রপতি আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বলেই সূত্রের খবর৷
এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে রাষ্ট্রপতির বিমান দুপুর দুটোয় বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল৷ রাষ্ট্রপতির সিংকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি ফেরার সিান্তের পরে সেই বিমান নির্ধারিত সময়ের একঘণ্টা দেরিতে বেলা তিনটের সময় বাগডোগরা থেকে ছাড়ে৷ ইতিমধ্যেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে সিংকেও রাষ্ট্রপতির বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে তুলে দেওয়া হয়৷
বিমানে উঠেও বারবার সিংয়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন প্রণববাবু৷ বিমান যখন পালামের মাটিতে অবতরণ করেছে তখন রাষ্ট্রপতি নিজেই সিংয়ের কাছে চলে আসেন৷ কথা বলেন৷ সিং যে কথা বলতে পারছেন এবং তাঁর চোট গুরুতর নয় দেখে স্মিত হাসিও ফোটে রাষ্ট্রপতির মুখে৷ সিংয়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পরেই প্রণববাবু আশ্বস্ত হয়ে বিমান থেকে নামেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement