জ্যোতির্ময় কর্মকার, নয়াদিল্লি: জিএসটির টানাপোড়েনের মধ্যেই এনিমি প্রপার্টি আইন সংশোধনী নিয়ে ক্রমশ অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে বিরোধী শিবিরে৷ তালিকা অনুযায়ী চলতি সপ্তাহেই রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য আসার কথা এনিমি প্রপার্টি সংশোধনী বিল৷ ইতিমধ্যেই এই সংশোধনী নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কংগ্রেস, বাম, সমাজবাদী পার্টি, জেডিইউ-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক রাজনৈতিক দল৷ লোকসভায় পাস হয়ে গেলেও এই বিল পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল ২৩ সদস্যের সিলেক্ট কমিটিতে৷ সেখানেই নিজেদের তীব্র আপত্তির কথা জানিয়ে ‘ডিসেণ্ট নোট’ জমা দিয়েছে বিরোধী দলগুলি৷
যাতে বলা হয়েছে, “আমাদের বিবেচনা অনুযায়ী বিলের বর্তমান খসড়ায় মূল আইনের মানবাধিকার, নৈতিকতা এবং ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’-এর মৌলিক বিষয়গুলিকেই লঙ্ঘন করা হয়েছে৷ এছাড়াও এই বিল আদতে শত্রু দেশের সরকারের উপর কোনও প্রভাব না ফেলে আদতে আমাদের দেশের নাগরিকদেরই পরোক্ষভাবে শাস্তি দেবে৷” রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাবের মতো যে সব রাজ্য দেশভাগের ফলে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এই সংশোধনী পাস হলে এই সব রাজ্যে নতুন করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে৷
প্রসঙ্গত, ১৯৬৫ এবং ’৭১-এর যুদ্ধের পর যাঁরা দেশ ছেড়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিল তাদের স্থাবর সম্পত্তি এবং সংস্থাই ‘এনিমি প্রপার্টি’ বা শত্রুপক্ষের সম্পত্তি হিসাবে চিহ্নিত করে অধিগ্রহণ করেছিল ভারত সরকার৷ আইন মোতাবেক এই অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চললেও বংশপরম্পরায় পূর্বপুরুষদেরই সম্পত্তি এতদিন পর্যন্ত ভোগ করে চলেছে দেশত্যাগীদের পরিবার, পরিজন বা পরিচিতরা৷ যা এতদিন ছিল নিছক খাতায় কলমে, তাই এবার পাকাপাকিভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করতে উঠে পড়ে লেগেছে সরকার৷ দিন কয়েক আগেই অর্ডিন্যান্স জারি করে এনিমি প্রপার্টির নতুন করে হাতবদল রোধ করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র৷
এবার সেই সিদ্ধান্তকেই সংশোধনীর মাধ্যমে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷ আর তাতেই সরব হয়েছে বিরোধীরা৷ সিপিআই-এর ডি রাজা, জেডিইউ দলের কে সি ত্যাগী, সমাজবাদী পার্টির জাভেদ আলি খান এবং কংগ্রেসের পি এল পুনিয়া ও হুসেন ডালওয়াইয়ের দাবি, সব দিক বিচার করে ১৯৬৮ সালে ভারসাম্যপূর্ণ এনিমি প্রপার্টি আইন পাস করা হয়েছিল৷ যেখানে বলা হয়েছিল, শত্রূতা কখনই চিরন্তন নয়৷ এমনকী, এনিমি প্রপার্টি আইনেই যাঁরা ভারতে থেকে গিয়েছিলেন সেই নাগরিকদের বংশানুক্রমে সম্পত্তি পাওয়ার অধিকারও স্বীকৃত হয়েছিল৷ স্বাভাবিকভাবেই জিএসটি’র মতো লোকসভায় সংখ্যার জোরে এনিমি প্রপার্টি সংশোধনী বিল পাস হয়ে গেলেও রাজ্যসভায় তীব্র সংঘোতের মুখে পড়তে হবে সরকারকে৷
সর্বশেষ খবর
-
যৌনগন্ধী মন্তব্য বিতর্ক অতীত, জন্মদিনে প্রেমিকার সঙ্গে মহাকালের দরবারে ‘শাপমোচন’ রণবীরের
-
বিশ্বকাপের আগে মেসির মুকুটে নতুন পালক, প্রথম ফুটবলার হিসাবে জিতলেন এই পুরস্কার
-
কলকাতা পুরসভা বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা! ১৯ জুন অধিবেশনের ডাক ‘পুরনো তৃণমূলে’র
-
আইসক্রিম ভেবে ‘ক্ষতিকর’ ফ্রোজেন ডেজার্ট খাচ্ছেন না তো? পার্থক্য না বুঝলেই মুশকিল
-
মমতার দুর্দিনে বেসুরে গাইছেন বাবুলও! রাজনীতিতে সবই ন্যায্য দেখছেন সুপ্রিয়?