১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

প্রবল বৃষ্টিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত কিশোর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 9, 2016 2:23 pm|    Updated: August 9, 2016 2:23 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: সোমবার বিকেলের প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতার রাস্তার বাতিস্তম্ভে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক কিশোরের৷ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ভবানীপুরের রমেশ মিত্র রোডে৷ ১৪ বছরের যশ বেঙ্গানি সেই সময় ৩২ নম্বর রমেশ মিত্র রোডের ফুটপাথ ধরে টিউশন থেকে বাড়ি ফিরছিল৷ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সে৷ বাড়ি কাছেই৷ একটি আবাসনে থাকত৷ জলে পিছলে নালায় পড়তেই সে বিদ্যুৎস্তম্ভকে ধরতে যায়৷ বাতিস্তম্ভে ফিউজ বক্সে হাত লাগতেই সে তড়িদাহত হয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন৷ তবে সে কীভাবে তড়িদাহত হল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে৷

আচমকা এমন মৃত্যুতে গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ তাঁর বক্তব্য, “অত্যন্ত বেদনাদায়ক মৃত্যু৷ কেন তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু হল খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা সেখানে গিয়েছেন৷” এদিন দুপুর থেকেই কলকাতাজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে৷ উত্তরের তুলনায় দক্ষিণে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল মারাত্মকভাবে বেশি৷ আবহাওয়া অফিসের সূত্রে খবর, এটি নিম্নচাপের বৃষ্টি৷ ঘূর্ণাবর্তে রূপান্তরিত হওয়ার পর গভীর নিম্নচাপের ফলে মঙ্গল ও বুধবারও দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস৷

ঘূর্ণাবর্তের পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস৷ তবে ‘শ্রাবণ ধারা’ শুরু হল সোমবার দুপুরের পর থেকে৷ বেলা যত গড়িয়েছে বৃষ্টির দাপট ততই বেড়েছে৷ কলকাতা তো বটেই গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে দুপুর থেকে আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু হয়৷ আবহাওয়া দফতর বলছে, আরও দু’দিন এমন বৃষ্টি হবে বরং বৃষ্টির বেগ আরও বাড়বে৷ আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গোকুলচন্দ্র দেবনাথ এদিন বলেছেন, “বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে সোমবার বিকেলে ঘূর্ণাবর্তে পরিবর্তিত হয়েছে৷ সন্ধ্যার পর থেকেই ওই ঘূর্ণাবর্ত দক্ষিণবঙ্গে স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসছে৷ এর ফলেই আগামী ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ব্যাপক বৃষ্টি হবে৷”

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিকেল পাঁচটা থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটেই ঢাকুরিয়ায় একশো চার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে৷ চেতলায় ওই সময়ে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৯০ মিলিমিটার৷ এছাড়া সাদার্ন অ্যাভিনিউ, যাদবপুর, লেক গার্ডেন্স এলাকায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে৷ বিকেলের ব্যাপক বৃষ্টিতে বেশ কিছুক্ষণ ধরে নিচু এলাকায় জল জমে যায়৷ দক্ষিণের রমেশ মিত্র রোডের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে সেই সময় কোমরসমান জলও হয়ে যায়৷ মূলত উত্তরের মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট ও সাদার্ন অ্যাভিনিউ, যাদবপুরে জল দাঁড়িয়ে যায়৷ বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়৷ মা উড়ালপুলেও সারি দিয়ে প্রচুর গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল৷ অফিসে ফেরত মানুষ দুর্ভোগের মুখে পড়েন৷ এমন বৃষ্টি যে হতে পারে তা আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে পুরসভাকে আগেই জানানো হয়েছিল৷ সেই মতো পাম্পিং স্টেশনগুলিতে নজরদারি ছিল৷

যশ তড়িতাহত হওয়ার পর পুলিশ এসে তাকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানেই তার মৃত্যু হয়৷ সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ দুর্ঘটনার সময় মা সবিতা বেঙ্গানিই শুধু বাড়িতে ছিলেন৷ ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে মাঝেমাঝেই অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন৷ শোকাহত আবাসনের মানুষও৷

এদিকে, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস পেয়ে সেচ দফতরের পক্ষ থেকে সব নদীবাঁধগুলি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রতি ১৫মিনিট অন্তর নদীবাঁধগুলির রির্পোট সেচ দফতরে এসএমএস বা অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে হবে৷” অন্যদিকে, হাওড়া থানা এলাকায় জিটি রোডের ধারে একটি দেওয়াল ভেঙে একজন জখম হয়েছেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement