Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

শারদীয়ায় কার্ড পাঠিয়ে আমন্ত্রণ, বনেদি বাড়ির পুজোয় অভিনব রীতি

দশমীতে পরিবারের সদস্যদের হাতে বাঁধা হয় ‘অপরাজিত বলয়’।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮, ১৭:৫৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮, ১৭:৫৯

options
link
শারদীয়ায় কার্ড পাঠিয়ে আমন্ত্রণ, বনেদি বাড়ির পুজোয় অভিনব রীতি zoom
জমিদার বাড়ির দুর্গা প্রতিমার ফাইল চিত্র।

সেই কবেকার কথা। আজও একইরকম ঐতিহ্য বহন করে চলেছে বনেদি বাড়ির পুজো। কত নাজানা ইতিহাস কথা বলে পুজোর দালানে। কলকাতা ও শহরতলি ও জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে এমন বহু পুজো। পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুড়ে নবপত্রিকা বরণ করে পুজো হত যে বাড়িতে,  সেই তিলাসন জমিদার বাড়ির গল্প আজ।

অভিরূপ দাস: সময় গিয়েছে। কিন্তু আদব কায়দা বদলায়নি। সফেন কার্ডের মধ্যে লাল কালিতে ছাপা শারদীয়ার আমন্ত্রণপত্র। তার উপর নকশা করা কাজ। পুত্রকন্যা-সহ মা দুর্গার সনাতনী রূপ। আজও সেই রীতি। মালদহের তিলাসন সিংহাবাদ জমিদার বাড়ির ছেলেরা এখনও রানারের কাজ করেন। হাতে হাতে নেমন্তন্নের চিঠি পৌঁছে দেন পড়শিদের বাড়িতে।

Advertisement

আকাশ জুড়ে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ। নদীর ধার ধরে কাশফুলের সারেঙ্গি। চাষের কাজ সেরে হারান চারদিনের জন্য তুলে নেন পালক লাগানো ঢাক। তবে সে ছবিতে পুজোর আমেজ খোঁজেন না এই গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের কাছে আগমনি সুর মানেই সদর দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ। বাইরে থেকে আওয়াজ আসে, “বোধনের দিন সপরিবার এসো।”  ফি বছরের মতো এবারও তাই। ২১৪ বছরেও বদলায়নি রুটিন। পুজোর দশ দিন আগে ঠিক তিলাসন সিংহাবাদ গ্রামের ৩০০ পরিবারের কাছে পৌঁছে যাবে দুর্গোৎসবের নিমন্ত্রণপত্র। জমিদারির জৌলুস চলে গিয়েছে কবেই। ঝাড়বাতিতে ধুলো জমেছে। ঘোড়াশালে ভাঙা জাবনার বালতি। পুজোর আগে মরচে ধরা রেলিং ঝেড়েমুছে নেন বাড়ির পরিচারকরা। ঐতিহ্যের কেতা অক্ষুণ্ণ রেখে বড়কর্তা হাঁক পাড়েন, “কে আছিস। নেমন্তন্নর চিঠিগুলো পাঠিয়ে দে।”

[এবার পুজোয় আপনিও দুর্গা কিংবা অসুর, জানেন কীভাবে?]

জমিদারবাড়ির নবম পুরুষ রাকেশকুমার রায়ের সময় থেকেই গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে নিমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে পুজোয় আমন্ত্রণ জানানোর রেওয়াজ চালু হয়েছে। নিমন্ত্রণপত্র হাতে এলে গ্রামের দ্বিজেন রায়, চিত্ত রায়, মথুর ঘোষ, রাজেন সরকার, নিখিল রায়দের বছরভর প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। সে নিমন্ত্রণ পত্রের বয়ান এখনও একই রকম। নয়া বাংলা সাহিত্য থাবা বসাতে পারেনি মহেন্দ্র গুপ্তর সাহিত্য কায়দায়। সে সময়কার রীতি মেনে আজও লেখা হয়-‘সুধী, শরতের মেঘমুক্ত নীল আকাশ আজ শিউলির মনমাতানো গন্ধ ও কাশবনের শিহরিত হিল্লোলে মাতোয়ারা। শিশির স্নিগ্ধ দূর্বাদলে মুক্তরেণুর মতো শোভিত ধরণী মাঝারে আনন্দময়ী মা মৃন্ময়ীর আবরণ উন্মোচন করে চিন্ময়ী রূপে আত্মপ্রকাশ করবেন এই ধরাধামে। সমগ্র অনাচারকে দমন করে। সমস্ত ধর্মের গণ্ডির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার জয়ই ধ্বনিত হয়েছে শারদোৎসবের আয়োজনে। মায়ের এই পুণ্য আবির্ভাব মুহূর্তে প্রতিবারের ন্যায় এই দুইশত পনেরো (২১৫) বৎসরেও আমরা মায়ের পূজার আয়োজন করিয়াছি।’

উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর জেলা থেকে অবোধনারায়ণ ব্যবসার প্রয়োজনে নৌকাযোগে মালদহে যাতায়াত করতেন। বর্তমান জমিদারি এলাকায় বাস করতেন দুই সন্ন্যাসী-সহ অঘোরবাবা। অঘোর বাবার পরামর্শে রায় পরিবারে প্রথম দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন অবোধনারায়ণ। সময়টা বাংলা ১২২২। অবোধনারায়ণের পুত্র শিবপ্রসাদ রায়ের আমলে জমিদারবাড়ি, মণ্ডপ এবং মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

সপ্তমীর সকালে রায়বাড়ির পুরুষ ও মহিলারা কলাবউ নিয়ে যান পুনর্ভবা নদীর ঘাটে। সে সময় শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুড়ে নবপত্রিকা বরণ করে পুজোর সূচনা হয়। তবে আজ সময়ের অভাবে হারিয়ে গিয়েছে কিছু বিশেষত্ত্ব। বোঁদে-জাতীয় দই বা ‘ছনৌরি’ নামক মিষ্টি আগে ভোগের তালিকায় থাকত। আজ কারিগরের অভাবে সে মিষ্টি আর নেই। তবে এখনও পুজোর চার দিন প্রায় শ’চারেক লোক প্রসাদ গ্রহণ করেন। দশমী পুজো শেষে পুরোহিত প্রথা মেনে বাড়ির সদস্যদের হাতে ‘অপরাজিত বলয়’ বেঁধে দেন। বরণ করার রীতিকে জমিদার বাড়িতে বলা হয় ‘পরছন’। দশমীর দিন আশপাশের সাঁওতালরা জমিদারবাড়িতে জড়ো হন। ধামসা-মাদল সহযোগে রায়বাড়ির নিজস্ব পুকুরঘাটে চলে বিসর্জনের পালা।

[নস্করি মায়ের আশীর্বাদ পেতে কাঁটাতার পেরিয়ে আসেন ওপার বাংলার মানুষ]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.