২ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বিতর্কিত ধর্মগুরু জাকিরের বিরু‌দ্ধে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 7, 2016 2:21 pm|    Updated: July 7, 2016 2:21 pm

An Images

জ্যোতির্ময় কর্মকার: ঢাকার হামলার প্রেক্ষিতে মুম্বইয়ের বিতর্কিত ইসলাম প্রচারক ও টিভি ব্যক্তিত্ব জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ বুধবার এ কথা জানিয়েছেন স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু৷ প্রসঙ্গত, ঢাকায় সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনার পরই নায়েকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ অভিযোগ, নিজের বক্তৃতায় সরাসরি সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে মদত দেন তিনি৷ আরও নির্দিষ্ট করে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ডেইলি স্টার দাবি করে, পাঁচ সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে অন্যতম রোহন ইমতিয়াজ গত বছর নায়েকের কথা উদ্ধৃত করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করে৷ সম্প্রতি পিস টিভি নামে ইসলাম ধর্মকথা প্রচারকারী একটি আন্তর্জাতিক চ্যানেলে বক্তৃতা করার সময় জাকির নায়েক আবেদন করেন, সব মুসলিমেরই উচিত সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠা৷

এই প্রসঙ্গেই কিরেণ রিজিজু বলেন, “জাকির নায়েকের বক্তব্য আমাদের কাছে অত্যন্ত চিন্তার একটি বিষয়৷” যদিও নায়েককে গ্রেফতার করা হবে কি না সে বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি রিজিজু৷ বরং তিনি জানান, “তদন্তকারীরা সব দিকই খতিয়ে দেখছেন৷” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের দাবি, জাকির নায়েকের বিতর্কিত বক্তব্য কোনও নতুন ঘটনা নয়৷ তাঁর জেহাদি বক্তব্যের জন্য ভারত ছাড়া বিদেশের মাটিতেও মৌলবাদী মানসিকতার মানুষের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি৷ এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ৷ বিশেষত পিস টিভিতে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জন্যই তাঁর জনপ্রিয়তা মৌলবাদী মানসিকতার মানুষের মধ্যে হু হু করে বেড়েছে৷ ইতিমধ্যেই অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইউনাইটেড কিংডম এবং কানাডা৷ মালয়েশিয়ার ১৬ জন নিষিদ্ধ মুসলিম প্রচারকের মধ্যে অন্যতম নাম জাকির নায়েক৷ কিন্তু এতদিন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে সে ভাবে নজর দেয়নি ভারত সরকার৷ এমনকী, মুম্বইয়ে ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থারও প্রতিষ্ঠাতা তিনি৷ এবার ঢাকায় হামলার ঘটনার পর জাকিরের নাম উঠে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি৷ ঢাকা হামলার সঙ্গে কোনও পরিস্থিতিতেই যাতে ভারতের নাম জড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কোনও ভুল বার্তা না যায় সেবিষয়ে সতর্ক নরেন্দ্র মোদির সরকার৷ নয়াদিল্লির এই সাবধানী অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েই রিজিজু বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যন্ত ভাল৷ বিশেষত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুই দেশ বরাবরই একযোগে কাজ করছে৷ একমাত্র একজোট হয়ে লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করা সম্ভব৷”

এদিকে জাকির নায়েকের মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও তীব্র শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শিবসেনা৷ অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, পুরো বিষয় খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্হা নিক সরকার৷ দলের তরফে মণীশ তিওয়ারি বলেন, যদি কেউ প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে৷ তাঁর মন্তব্যের জন্য কোনও বড় ধরনের ঘটনা ঘটে যায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতেই হবে৷ এদিকে ভারতের মাটিতে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করারও দাবি তুলেছে বিভিন্ন মহল৷ এ বিষয়ে তিওয়ারির বক্তব্য, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রকের সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ এবং নিয়ম রয়েছে৷ যদি তা লঙ্ঘন হয়ে থাকে তবে আইন মেনে এক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এদিকে, ৫০ বছর বয়সি জনপ্রিয় ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েক ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে জানিয়েছেন, ইসলামিক স্টেট ইসলাম বিরোধী৷ আইএস ইসলামের নাম ব্যবহার করে ইসলামের বদনাম করছে৷ ওরা মুসলিম পুরুষ ও যুবকদের বিপথে চালনা করছে৷ ওসামা বিন লাদেলের তিনি প্রশংসা করেছেন, এরকম একটি ভিডিও ইউচিউবে সম্প্রচারিত হওয়া প্রসঙ্গে জাকিরের দাবি, তিনি লাদেনের প্রশংসা করে কোনও কথা বলেনইনি৷ ওই ভিডিওটি বিকৃত করা হয়েছে৷

তিনি বলেন, বাংলাদেশে হামলাকারী যুবক আমার ভাষণ শুনত ও আমার বক্তব্য অনুসরণ করত, এটা ভেবেই আমি হতবাক৷ এই যুবকটি নবি হজরত মহম্মদের ভক্ত৷ তার মানে কি নবি তাকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন এভাবে মানুষ খুন করতে? তাহলে আমি বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার জন্য কীভাবে দায়ী হব? তিনি বলেন, আমার ২০ কোটি ফেসবুক ফলোয়ারের মধ্যে ৯০ শতাংশই হল বাংলাদেশি৷ তার মধ্যে কেউ কোনও জঙ্গি হামলা চালালে আমি দায়ী হতে পারি না৷ ইসলাম অনুসারে আমি কাউকে জঙ্গি হতেও বলিনি৷ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে জাকিরের বিরুদ্ধে৷ এই খবর প্রচারিত হওয়ার পরই কি ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিবৃতি জারি করলেন বিতর্কিত এই ধর্মপ্রচারক?

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement