BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

গঙ্গাদূষণ নিয়ে চিন্তায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 22, 2016 9:56 am|    Updated: July 22, 2016 10:44 am

An Images

তরুণকান্তি দাস: কেউ সন্ধ্যা নামলেই বন্ধ করে দিচ্ছে দূষণ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র৷ কোথাও তা খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে দিনের পর দিন৷ খাতায়-কলমে তা চালু রয়েছে মাত্র৷ তদন্তে গিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলির এই হাল দেখে অবাক রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদের লোকজন৷ কয়েকটিকে নোটিস ধরানো হয়েছে৷ এদিকে কারখানার দূষণ রোধের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিনা নোটিসে নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মধ্যরাতের হানাদারিতে ক্ষুব্ধ শিল্পসংস্থাগুলি৷ কর্তৃপক্ষের দাবি, আগাম জানিয়ে গেলে তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারত৷ উচচপদস্থ আধিকারিকরা হাজির থেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারতেন৷ অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না শুনে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ এতে শিল্পের ক্ষতি হচ্ছে৷

যদিও সেই দাবি উড়িয়ে পর্ষদ কর্তারা বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কড়া মনোভাব নিয়েছে সরকার৷ এ নিয়ে সমঝোতার প্রশ্নই নেই৷ গঙ্গার দূষণ নিয়ে আদালতও তৎপর৷ তাই পর্ষদ আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়৷ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, শুধু আসানসোল-দুর্গাপুরের কারখানাগুলি নিয়ে নয়, কলকাতার ৩৪টি ও হাওড়ার ২০টি খালের জল গঙ্গায় ব্যাপক দূষণ ছড়াচ্ছে৷ হাজার সতর্কীকরণ সত্ত্বেও বিধিনিষেধ মানছে না৷ তারা বর্জ্য ফেলছে খালে৷ কারখানার দূষিত জল পুনর্ব্যবহারযোগ্য না করে সরাসরি খালে ফেলায় সমস্যা বাড়ছে৷ কেন না সেই জল গিয়ে পড়ছে গঙ্গায়৷ কয়েকটি ক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থা নিলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না৷

কল্যাণবাবু বলেন, “আমরা কোনও কারখানা বন্ধ করতে চাই না৷ কিন্তু বেশ কয়েকটি কারখানা আইনের ফাঁক-ফোকর খুঁজে তার অসৎ প্রয়োগ করছে৷ ফলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতেই হচ্ছে৷” তিনি বলেন, “স্পঞ্জ আয়রন শিল্প নিয়ে দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ সবচেয়ে বেশি৷ গঙ্গাদূষণেও রাজ্যের ৬০টি ওই ধরনের কারখানার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে৷ কলকাতার ৩৪টি চ্যানেলের ১২টি ৯৫ শতাংশ দূষণ ছড়াচ্ছে৷ এর মধ্যে সার্কুলার ক্যানেল, টালিনালার দূষণ মারাত্মক৷ হাওড়ার দিক থেকে আসা ২০টি জলনিকাশির ৮টিই, ৮০ শতাংশ দূষিত জল ও বর্জ্য ফেলছে গঙ্গায়৷ স্পঞ্জ আয়রন কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই সমস্যা বাড়াচ্ছে৷ দূষণের জন্য ১৬টি কসাইখানা, বেশ কিছু কারখানাকে বন্ধের নোটিস ধরানো হয়েছে৷”

রাজ্যের ৬টি বৃহৎ শিল্পসংস্থা বারবার আইন ভাঙছে বলে পর্ষদ সূত্রে খবর৷ কারখানার বর্জ্য থেকে জলদূষণ রুখতে পুনর্ব্যবহার পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে৷ গ্রিন বেঞ্চের সেটাই লক্ষ্য৷ এতে বর্জ্য বা ব্যবহৃত দূষিত জল আর বাইরে ফেলার দরকার হবে না৷ তবে সেই পদ্ধতি প্রয়োগে বিভিন্ন শিল্পসংস্থা কতটা আগ্রহী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে৷ কারণ সরকার প্রতিটি কারখানায় জল ধরো জল ভরো প্রকল্পে জলাশয় খনন করতে বললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা হয়নি৷ দূষণ কমাতে সবুজায়ণ প্রকল্পও তেমন গুরুত্ব পায়নি শিল্পক্ষেত্রে৷

পর্ষদের সূত্রের খবর, আগামী দিনে অনলাইনে প্রতিটি সংস্থার নিয়মিত দূষণের পরিমাণ চেক করা হবে৷ ইতিমধ্যে কয়েকটি সংস্থা এই পদ্ধতির আওতায় চলে এসেছে৷ এতে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদও পুরো বিষয়টি সরাসরি খতিয়ে দেখতে পারবে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement