Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

প্রয়োজনে ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি ভারতের

এখনই জঙ্গিদের মদত দেওয়া বন্ধ না করলে আরেক ২৯ সেপ্টেম্বরের সাক্ষী থাকতে হবে ইসলামাবাদকে৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৬, ১৪:৫৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৬, ১৪:৫৯

options
link
প্রয়োজনে ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি ভারতের zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘লাইন অফ কন্ট্রোল’ ভারতের কাছে এখন আর অলঙ্ঘনীয় নয়৷ ইসলামাবাদকে স্পষ্ট বার্তা নয়াদিল্লির৷ পাকিস্তান অবিলম্বে জঙ্গি রফতানি ও জঙ্গিদের মদত দেওয়া বন্ধ না করলে আরেক ২৯ সেপ্টেম্বরের সাক্ষী থাকতে হবে পাকিস্তানকে৷ ভারতীয় সেনা ফের একই কায়দায় নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড ধূলিসাৎ করে দেবে৷ এটাই ভারতের নয়া নীতি৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তা সোমবার এই খবর জানিয়েছেন৷

তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়ের চেয়ে অনেকটাই আলাদা৷ সে সময় পাক সরকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে গিয়ে সেনা অভিযান চালায়নি ভারত৷ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন সে সময় মন্তব্য করেছিলেন, “রক্ত দিয়ে সীমান্ত আঁকা উচিত নয়৷” কিন্তু স্বাধীনোত্তর পাকিস্তানের স্বভাব এতটুকু পাল্টায়নি৷ ভারতের মাটিকে রক্তাক্ত করতে লস্কর জঙ্গিদের প্রত্যক্ষভাবে মদত দিয়ে এসেছে পাক সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই৷ মুম্বইয়ে, পাঠানকোট ও উরির সেনাঘাঁটিতে হামলা-একের পর এক ঘটনায় ভারতের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে৷ এখন ভারতের নীতি, মারের বদলে পাল্টা মার৷

Advertisement

ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি অবিলম্বে ভারতীয় ভূখণ্ডে জঙ্গি রফতানি বন্ধ না করে, তাহলে ভারতও নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গি নিকেশ করবে৷ ২০০৪ সালে প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারফ আশ্বাস দিয়েছিলেন, পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ভারতে জঙ্গি আক্রমণে উৎসাহ দেওয়া হবে না৷ কিন্তু মুশারফের উত্তরসূরীরা কথা রাখেননি৷ গত পাঁচ বছরে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে পাকিস্তান৷ বেড়েছে পাক সেনাবহর, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দও৷ ২০০৬ হোক বা ২০০৮, পাকিস্তানের ছোট-বড় হামলার নজির থামেনি৷ উরির ঘটনার পর পাকিস্তান স্বাভাবিকভাবেই আঁচ পেয়েছিল ভারত এবার মরণকামড় বসাতে পারে৷ সেই মতো জঙ্গিদের পাক সেনাঘাঁটির আরও কাছাকাছি সরিয়ে নিয়ে গিয়ে নিরাপত্তা প্রদানের চেষ্টাও হয়েছিল৷ কিন্তু ভারতীয় জওয়ানরা পাক রেঞ্জার্সের চোখে কার্যত ধুলো দিয়ে জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দিয়ে এসেছে, নিকেশ করেছে অন্তত ২০ লস্কর জঙ্গিকে৷

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সাফ বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রতিরক্ষায় ভারতও এখন কারও চেয়ে কম নয়৷ জলপথে একাধিক নিউক্লিয়ার সাবমেরিন, আকাশে ব্রহ্মস, সুখোই ও ভূমিতে গরুড়-মার্কোসের মতো বাহিনী নিয়ে ভারত আজ বিশ্বের যে কোনও দেশের সঙ্গে সমর কৌশলে পাল্লা দিতে পারে৷ ডিআরডিও-র অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সাহায্য ভারতীয় সেনাকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে৷ এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত যে ফ্রন্টফুটে খেলবে, সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীও৷ ভারতীয় সেনার গায়ে হাত পড়লে যে পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে এক মুহূর্ত দেরি করা হবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে৷

অন্যদিকে, পাক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ সোমবার নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কয়েকটি পাক সেনাঘাঁটিতে যান৷ হাজি পির সেক্টরে গিয়ে পাক সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷ ভারতীয় বাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর এই প্রথম নিয়ন্ত্রণরেখায় সফরে এলনে তিনি৷ পাক সেনাবাহিনী এক বিবৃতি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাহিনীর প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান৷ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি, চকিত হামলা প্রতিরোধের মতো খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় কমান্ডারদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি৷ পাক সেনাদের প্রতিরক্ষা, কড়া নজরদারির প্রশংসা করেন তিনি৷ ভারতীয় সেনাপ্রধান দলবীর সিং সুহাগের নিয়ন্ত্রণরেখায় সফরের এক সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে সফরে গেলেন পাক সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ৷ এই সফরের পর প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পালটা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে পাক সেনা?

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.