BREAKING NEWS

১৫ মাঘ  ১৪২৮  শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

উত্তুরে হাওয়া, শীত মনে হলেও এ কিন্তু শীত নয়!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 17, 2016 10:03 am|    Updated: October 17, 2016 10:03 am

Winds from the snow-capped Himalayas have started blowing in, plunging the mercury in the October night air.

অনির্বাণ বিশ্বাস: সকালে চড়া রোদ৷ সন্ধ্যা নামতেই দ্রুত কমছে তাপমাত্রা৷ ভোররাতে পাখা চালিয়ে শোওয়া দায়৷ হঠাৎই টান ধরছে ত্বকে৷ ফাটছে ঠোঁট৷ পুজো মিটতেই কি তাহলে শীতের পদধ্বনি শহরে৷ ভাবছেন শীত এসে গেল? কেউ বলছেন গত কয়েক বছরের অধরা শীত এবার পুষিয়ে দেবে৷ আবার কেউ বলছেন গতবারের মতো আশা জাগিয়েও হয়তো নাগাল পাওয়া যাবে না শীতের৷

ট্রেন, বাস থেকে অফিসের আলোচনায় যতই শীত ঢুকে পড়ুক, এই আবহাওয়াকে কোনওভাবেই শীতের পদধ্বনি বলতে রাজি নন আবহাওয়াবিদরা৷ আবহাওয়া দফতরের বিজ্ঞানী জি কে দাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই পরিস্থিতির কথা৷ তার কথায়, “এই পরিস্থিতিকে কোনওভাবে শীত বলা যাবে না৷ পুজোর পর গত পাঁচদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি হয়নি৷ বৃষ্টি এখন চলে যাওয়ার রাস্তায়৷ তার উপর উত্তুরে হাওয়া দক্ষিণবঙ্গের আকাশে ঢোকায় এই হিমশীতল পরিবেশের তৈরি করেছে৷” আবহাওয়াবিদদের মতে, দিনের বেলায় প্রখর সূর্যতাপ থাকলেও রাতে তার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে৷ সঙ্গে মধ্য ভারত থেকে উত্তুরে হাওয়া রাজ্যের আকাশে ঢোকায় সন্ধের পর তাপমাত্রা কমছে৷ রাতের দিকে তাপমাত্রা কমে ২৩-২৪ ডিগ্রির আশপাশে নেমে যাচ্ছে৷ ফলে রাতের দিকে ও ভোররাতের পরিবেশ শীতল হয়ে যাচ্ছে৷ যদিও সকাল হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো পরিস্থিতি আবার বিপরীত চেহারা নিচ্ছে৷

আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্ষার জলীয় বাষ্প দ্রুত মেঘে রূপান্তরিত হয়েছে৷ এমনকী, পুজোর সময় যে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছিল তা-ও দ্রুত পিঠটান দেওয়ায় পাঁচদিনের একটি শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে৷ সেই শূন্যস্থানেই মধ্য ভারত থেকে উত্তুরে হাওয়া ঢুকে গোটা পরিবেশটাই পাল্টে দিয়েছে৷ তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় দিনের বেলায় গরম অস্বস্তিকর হচ্ছে না কখনওই৷ এই পুরো পরিবেশটাই সাময়িক৷ আগামী তিন থেকে চারদিন এমন পরিবেশ আরও চলবে৷ কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না এখনই৷ ফলে নতুন করে ফের চড়তে পারে পারদ৷ তেমনটাই পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের৷

তাহলে শীতের দেখা মিলবে কবে? আবহাওয়াবিদরা এখনই এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ৷ তাঁদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথমে শীতের পদধ্বনি শোনা গেলেও যেতে পারে৷ তবে শীতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে মাঝ ডিসেম্বর পর্যন্ত৷ এবারও কি শীত গতবারের মতো আশা দেখিয়ে চলে যাবে? এই বিষয়ে আশার বাণী শোনাচ্ছে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থাগুলি৷ দেশের কৃষিক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত এক আবহাওয়া সংস্থার বিশেষজ্ঞ ডাঃ কান্তিপ্রসাদ রায় জানিয়েছেন, গতবছর পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা ও শীতে খামতি লক্ষ করা গিয়েছে৷ কিন্তু চলতি বছর লা নিনা (এল নিনোর বিপরীত পরিবেশ) সহায়ক হওয়ায় ভালই বৃষ্টি হয়েছে রাজ্যে৷ তবে আবহাওয়া না আঁচালে বিশ্বাস নেই৷ কারণ গতবছরের অভিজ্ঞতা বলছে আশা দেখিয়েও ঘূর্ণাবর্ত, নিম্নচাপ অক্ষরেখা, অনুকূল পরিবেশ, বঙ্গোপসাগরেও বিপরীত প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ, পশ্চিমি ঝঞ্ঝা জেরবার হতে হয়েছিল শীতকে৷ উষ্ণতম ডিসেম্বরের তকমাও জুটছিল শীতের কপালে৷

(ছবি: শুভাশিস রায়)

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে