‘অতো দামি বেনারসিখানায় যেন দাগ না লাগে…’ — নববধূ সবে এসেছে শ্বশুরবাড়ি। দুধ-আলতায় পা ছোঁয়ানো থেকে শুরু করে চলছে নানারকম ঘরোয়া প্রথাপালন। আনন্দ-আয়োজনে চারিদিকে হইহই। আর ঠিক তার মধ্যেই ভেসে আসে একজন বর্ষীয়সীর সাবধানবাণী। বাঙালি বিয়েবাড়িতে এ খুব চেনা কথা। হাজারও দৃশ্যের ভিতর নববধূর মহার্ঘ শাড়িখানা বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ, চোখে ভাসে। আসলে বিয়েবাড়ির শাড়ি-কিস্সা সবসময়ই স্পেশাল।

বাঙালি বিয়ের সঙ্গে বেনারসি-যোগ আদি এবং অকৃত্রিম। কনের সাজ বেনারসি ছাড়া যেন হতে নেই! তাই কী? দিন বদলেছে। এখন কন্যের চোখ থাকে ইনস্টা বা ফেসবুকে। আর দুনিয়াকাঁপানো সেলিব্রিটি দুলহনেরা বেনারসির বদলে চোখজুড়োনো সাজে বেছে নিচ্ছেন আরও নিত্যনতুন শাড়ির সম্ভার। আর সেই তালিকা ঢুকে যাচ্ছে বাঙালি কনের বিয়ের সাজেও।
প্রথমেই আছে কাঞ্চিপুরম। চওড়া জরির পাড়ের এই জমকালো দক্ষিণী শাড়িটি অনায়াসে পাল্লা দিতে পারে সাবেকি বেনারসির সঙ্গে। উজ্জ্বল, ভারি কাজের কাঞ্চিপুরম বিয়ের সাজে এনে দিতে পারে রাজকীয় মাত্রা। এরপরেই চোখ যেতে বাধ্য আদি অকৃত্রিম ঢাকাই জামদানির দিকে। ঐতিহ্যের সঙ্গে রুচিবোধের মেলবন্ধন ঘটাতে এর চাইতে ভালো অপশন আর কীই বা হতে পারে?

আলিয়া ভাটের ছিমছাম সাদামাটা বিয়ের সাজ মন জয় করেছিল অনেকেরই। আলিয়ার বিয়ের শাড়ি ছিল অর্গ্যানজা ফ্র্যাবিকের। তাই ভারি কাজের বেনারসি না পরে অনেক কনেই ইদানীং বেছে নিচ্ছেন অর্গ্যানজা শাড়ি। স্নিগ্ধ, হালকা সাজের জন্য নেট ফ্র্যাবিকের শাড়িও রয়েছে কনেদের পছন্দের তালিকায়। এরপরেই রয়েছে বঙ্গললনাদের অতীব পছন্দের তসর। যদিও এটি পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব শাড়ি নয়, কিন্তু প্রতিবেশী ঝাড়খন্ডের এই শাড়িটি বঙ্গনারীদের বিশেষ পছন্দের। রঙিন তসরের সঙ্গে খোঁপায় ফুলের মালা আর গয়নায় কনের সাজ হয়ে উঠতে পারে নজরকাড়া।

এছাড়াও বেনারসির বিকল্প হিসেবে অনেকেই বেছে নেন মুর্শিদাবাদী ঘরানার বালুচরী এবং স্বর্ণচরী। স্বর্ণচরীর সোনালি জরির কাজে সাবেকি বাঙালি কনের সাজ হয়ে ওঠে মনোরম। একটু অন্যরকম সাজ পছন্দ করেন যাঁরা, তাঁরা বেছে নিচ্ছেন কাঁথা স্টিচের শাড়ি অথবা গাদোয়াল, পৈঠানি, বাঁধনির মতো ভিনরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি।