Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

বিজেপির পরিবর্তনের ডাককে থোড়াই কেয়ার! বো ব্যারাকের অ্যাংলোরা চান ‘ঘরের মেয়েকে’ই

চৌরঙ্গী কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে বো ব্যারাক, এখানে লড়াই তৃণমূলের নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির সন্তোষ পাঠকের মধ্যে।

Advertisement
নিরুফা খাতুন
নিরুফা খাতুন

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১৫:৪৫

link
নিরুফা খাতুন
নিরুফা খাতুন

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১৫:৪৫

options
link
বিজেপির পরিবর্তনের ডাককে থোড়াই কেয়ার! বো ব্যারাকের অ্যাংলোরা চান ‘ঘরের মেয়েকে’ই zoom
বো ব্যারাক চায় 'ঘরের মেয়ে' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই।

‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপরই আস্থা রাখছে কলকাতার পাড়া, অলিগলি। মধ্য কলকাতার অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পাড়া ‘বো ব্যারাক’। ভোটের (West Bengal Assembly Election) বাজারে শহরের অধিকাংশ নাগরিক এখন জল মাপছেন। কিন্তু বো ব্যারাকের বাসিন্দারা তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে রয়েছেন। অন্তত ভোটমুখী পরিবেশে তাঁদের কথাবার্তায় সেই ইঙ্গিতই উঠে আসছে। বিজেপির পরিবর্তনের ডাককে পাত্তাই দিচ্ছেন না তাঁরা। বরং তৃণমূল সরকারের প্রত্যাবর্তন চাইছেন অ্যাংলো পাড়ার বাসিন্দারা, যাঁরা এতদিন এই শহরকে ভালোবেসে রয়ে গিয়েছেন কলকাতাতেই।

বাম ও কংগ্রেসকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ধরছেন না অ্যানি, চার্লিরা। তাঁদের মতে, এই কেন্দ্রে বিজেপি বনাম তৃণমূলের লড়াই হবে। তাহলে কি বো ব্যারাক এবার পরিবর্তন চাইছে? পাশে বসে থাকা অ্যান্টনি বলে ওঠেন, ‘‘কোনও পরিবর্তন নয়, প্রত্যাবর্তনের পথে রয়েছি। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ – এঁরা এখানে বহিরাগত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের ঘরের মেয়ে। বো ব্যারাকের মানুষ এবারও দিদির পাশে রয়েছে।”

বউবাজার থানার পিছনের সরু গলি ধরে হেঁটে গেলে পড়বে লালবাড়ি। কলকাতার অন্যতম হেরিটেজ। এই লালবাড়ি বো-ব্যারাক নামে পরিচিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের থাকার জন্য এই ব্যারাক তৈরি করা হয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হলেও অনেক সৈন্য নিজেদের দেশে ফিরে যাননি। তাঁরা ওই ব্যারাকে থেকে যান। এখানে অ্যাংলো ইন্ডিয়ানের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। মাত্র ১০০-এর মতো বাসিন্দা এখানে রয়েছেন। অধিকাংশই প্রবীণ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে বো ব্যারাক। এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তৃণমূলের নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকেই প্রার্থী করেছেন। অন্যদিকে এখানে বিজেপির প্রার্থী সন্তোষ পাঠক। কংগ্রেস থেকে সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েই প্রার্থী হয়েছেন। বামফ্রন্টের প্রার্থী সঞ্জয় বসু। কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন মানস সরকার। বাম ও কংগ্রেসকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ধরছেন না অ্যানি, চার্লিরা। তাঁদের মতে, এই কেন্দ্রে বিজেপি বনাম তৃণমূলের লড়াই হবে। তাহলে কি বো ব্যারাক এবার পরিবর্তন চাইছে? পাশে বসে থাকা অ্যান্টনি বলে ওঠেন, ‘‘কোনও পরিবর্তন নয়, প্রত্যাবর্তনের পথে রয়েছি। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ – এঁরা এখানে বহিরাগত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের ঘরের মেয়ে। বো ব্যারাকের মানুষ এবারও দিদির পাশে রয়েছে।”

সত্তরোর্ধ্ব জেনি এই পাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা। একসময় দার্জিলিংয়ে থাকতেন। টি-এস্টেটে চাকরি করতেন। ছেলেমেয়েরা সব বিদেশে থাকেন। এখানে জেনি ও তাঁর দুই ভাই থাকেন। বাড়ির দালানে বসে সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে জেনি বললেন, ‘‘অসম, বিহার, ওড়িশায় বিজেপি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করছে। খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করছে। বাংলার মানুষ এসব হতে দেবে না।” বো ব্যারাক কলকাতার শুধু ঐতিহ্য বহন করছে না, বাংলার সম্প্রীতিও বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। বড়দিনে এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ সকলেই আসেন। আমাদের সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠেন। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি এলে এই সম্প্রীতি নষ্ট করে দেবে। বিজেপিকে রুখতে আমরাও দিদির সঙ্গে রয়েছি।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.