Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

প্রথম দফার বঙ্গভোটে ১৪ প্রার্থী নিরক্ষর, কোনওক্রমে নাম সই করতে পারেন মাত্র ২৯

যাঁদের ভোট দিয়ে রাজ্যের বিধানসভায় পাঠাবেন সাধারণ মানুষ, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে পিলে চমকানোর জোগাড়। সম্প্রতি প্রার্থীরা যে হলফনামা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে, তা বিশ্লেষণ করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস।

Advertisement
নব্যেন্দু হাজরা
নব্যেন্দু হাজরা

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১৪:১৩

link
নব্যেন্দু হাজরা
নব্যেন্দু হাজরা

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১৪:১৩

options
link
প্রথম দফার বঙ্গভোটে ১৪ প্রার্থী নিরক্ষর, কোনওক্রমে নাম সই করতে পারেন মাত্র ২৯ zoom
গত ৫ বছরে সম্পত্তি কমেছে ১৬ বিধায়কের

বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) প্রথম দফার ১৫২ টি কেন্দ্রে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জন প্রার্থীই নিরক্ষর। নাম সই পর্যন্ত করতে পারেন না। বিশ্বাস হচ্ছে না? বিশ্বাস না হলে আবার পড়ন। যাঁদের ভোট দিয়ে রাজ্যের বিধানসভায় পাঠাবেন সাধারণ মানুষ, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে পিলে চমকানোর জোগাড়। সম্প্রতি প্রার্থীরা যে হলফনামা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে, তা বিশ্লেষণ করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস।

তথ্য় বলছে, ১৪ জন প্রার্থী নিরক্ষর। ২৯ জন নাম সইটুকু করতে পারেন। মানে স্বাক্ষর। ভোটে লড়া প্রার্থীদের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেছেন ৩২জন। আর অষ্টম শ্রেণি পাশ করে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন ১৮০ জন। এই তথ্য দেখে অনেকেই হয়তো ভুরু কোঁচকাবেন। তবে এখানেই শেষ নয়, ক্লাস টেন পাস করে এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন ২৪৬ জন।

সেখানকার তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, ১৪ জন প্রার্থী নিরক্ষর। ২৯ জন নাম সইটুকু করতে পারেন। মানে স্বাক্ষর। ভোটে লড়া প্রার্থীদের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেছেন ৩২জন। আর অষ্টম শ্রেণি পাশ করে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন ১৮০ জন। এই তথ্য দেখে অনেকেই হয়তো ভুরু কোঁচকাবেন। তবে এখানেই শেষ নয়, ক্লাস টেন পাস করে এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন ২৪৬ জন।

Advertisement

আবার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় স্নাতক প্রার্থী রয়েছেন ৩৬১জন। আর স্নাতকোত্তর প্রার্থী ২২৫ জন। ডক্টরেট প্রার্থীও আছেন সেই তালিকায়। সংখ্যাটা ২০। 

এবার নির্বাচনে ৭০টির বেশি দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মোট ১৪৭৫ জন প্রার্থী। তবে বেশিরভাগেরই যে পড়াশোনা নেই, তেমন নয়। এই প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতক প্রার্থী রয়েছেন ৩৬১জন। আর স্নাতকোত্তর প্রার্থী ২২৫ জন। ডক্টরেট প্রার্থীও আছেন সেই তালিকায়। সংখ্যাটা ২০। এবারের এই প্রার্থীদের বয়সসীমার ভিত্তিতে যে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রথম দফার ভোটে ২৫-৩০ বছর বয়সি প্রার্থী রয়েছে ১০৩ জন। ৩১-৪০ বছর বয়সি ৩৪৭, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৫৩ জন প্রার্থী। ৭১-৮০ বছর বয়সিদের মধ্যে ৪৯ জন। এবং সবচেয়ে প্রবীণ ৮১-৮৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ২ জন। এবার লড়াইয়ে ১৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন ১৩০৮ জন, আর মহিলা প্রার্থী ১৬৭জন। এবার ভোটে ৪৬৬ জন নির্দল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে এটা কেবলই প্রথম দফার নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য।

নির্বাচনে লড়া প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রতিবছরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকেই মনে করেন, একজন জনপ্রতিনিধি যিনি কি না সেই কেন্দ্রের দাবিদাওয়া বিধানসভায় জানাবেন, তাঁর ন্যূনতম একটা শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত। তাই নির্বাচন কমিশনের উচিত এক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি বেঁধে দেওয়া। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটা হয়নি। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচের রাজ্য সংযোজক উজ্জয়িনী হালিম বলেন, “আসলে আমরা চাই প্রার্থীদের হলফনামার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ভোটকেন্দ্রের বাইরে ডিসপ্লে বোর্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হোক। যেখানে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতাও উল্লেখ থাকতে হবে। যাতে মানুষ ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিতে পারেন, প্রার্থীর শিক্ষা কতটা, সেইমতো বিবেচনা করতে পারেন।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.