Advertisement
Advertisement
বঙ্গে পালাবদল
West Bengal Assembly Election

রাজেশ-বিশ্বজিৎকে মন্ত্রী করা চাই! কুড়মিদের ‘প্রেসার পলিটিক্সে’ চিন্তায় বিজেপি

জাতিসত্তার আন্দোলনকে আরও জোরদার করতেই দুই কুড়মি আন্দোলনকারীকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাইছে জঙ্গলমহলের কুড়মি জনজাতির মানুষজন।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ৭, ২০২৬, ২৩:২০

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ৭, ২০২৬, ২৩:২০

options
link
রাজেশ-বিশ্বজিৎকে মন্ত্রী করা চাই! কুড়মিদের ‘প্রেসার পলিটিক্সে’ চিন্তায় বিজেপি zoom
বাম দিকে বিশ্বজিৎ মাহাতো। ডানদিকে রাজেশ মাহাতো।

বিজেপির উপর ‘প্রেসার পলিটিক্স’ শুরু কুড়মিদের! কুড়মি আন্দোলনকারী বিজেপির ২ জয়ী প্রার্থী রাজেশ মাহাতো ও বিশ্বজিৎ মাহাতোকে মন্ত্রী করতে হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার একদিন পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় যেমন দাবি উঠছে। তেমনই খোলামেলা আলোচনায়, প্রকাশ্যেও।

ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর আসন থেকে ২৬হাজার ৬৭৫ ভোটে জিতেছেন রাজেশ মাহাতো। তিনি কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য উপদেষ্টা ছিলেন। একেবারে ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। অন্যদিকে পুরুলিয়ার জয়পুর আসন থেকে ২২হাজার ২১৮ ভোটে জয়ী বিশ্বজিৎ মাহাতো আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর ছেলে। তিনি ওই সামাজিক সংগঠনের পুরুলিয়া জেলা যুব সম্পাদক ছিলেন। জাতিসত্তার আন্দোলনকে আরও জোরদার করতেই দুই কুড়মি আন্দোলনকারীকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাইছে জঙ্গলমহলের কুড়মি জনজাতির মানুষজন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “শুধু আমাদের সামাজিক সংগঠনের দাবি নয়। এই দাবি সমগ্র কুড়মি জনজাতির। বিজেপির দুই বিজয়ী প্রার্থী রাজেশ মাহাতো ও বিশ্বজিৎ মাহাতোকে মন্ত্রী করা হোক। তৃণমূলের জমানায় কুড়মি জনজাতি পিছিয়ে ছিল। আদিবাসী তালিকাভুক্তি-সহ আমাদের অধিকাংশ দাবি পূরণ করেনি তৃণমূল সরকার। তাই জাতিসত্তার আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে আদিবাসী তালিকাভুক্তির বিষয়ে আমাদের এই দাবি।” আদিবাসী কুড়মি সমাজের তরফে জানানো হয়েছে, এখানে কোথাও কোনও চাপ দেওয়ার রাজনীতি নয়। জঙ্গলমহলের কুড়মি জনজাতিদের নায্য দাবি সকল স্তরের কুড়মি মানুষদের কাছ থেকে উঠে আসছে। সেই সঙ্গে কুড়মি জনজাতির বিধায়কদের কুড়মালি ভাষায় শপথ নিতে হবে বলে সোশাল মিডিয়ায় দাবি উঠেছে।

ঝাড়গ্রাম জেলার ক্ষেত্রে রাজেশ মাহাতোর মন্ত্রীর বিষয়টি খুব স্বাভাবিকভাবেই তালিকায় রয়েছে। তবে পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে বিজেপির অন্দরে তা সেভাবে জোরালো নয়। কিন্তু গত বুধবার থেকে জঙ্গলমহলের কুড়মি জনজাতির মানুষজন যেভাবে মূল মানতার ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতোকে মন্ত্রী করার দাবি তুলেছেন তাতে রীতিমতো ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে বঙ্গ বিজেপিতে বলে দলীয় সূত্রে খবর। আসলে মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর ‘নো ভোট টু টিএমসি’-র ডাকের কারণেই জঙ্গলমহলের প্রায় সমগ্র কুড়মি ভোট-ই পদ্ম শিবির পেয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই মূল মানতাকে পুরস্কার হিসেবে তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতোকে মন্ত্রী করার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না গেরুয়া শিবির।

সেক্ষেত্রে পুরুলিয়া বিধানসভা থেকে তিনবার পরপর জয় পেয়ে হ্যাটট্রিক করলেও সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের ভাগ্যে মন্ত্রিত্ব জুটবে কি না, তা বলা মুশকিল। কারণ এই জেলা থেকে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডুকে হারিয়ে মন্ত্রিত্বের দাবিদার মানবাজারের আদিবাসী বিধায়ক ময়না মুর্মু। তবে ময়না একেবারেই নতুন। সেদিক থেকে সুদীপের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বজিৎ একেবারে নতুন হলেও মূল মানতার কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রিত্বের দৌড়ে ঢুকে গিয়েছে জয়পুরের বিধায়কের নাম। কয়েকদিন ধরেই বিশ্বজিৎকে কুড়মি জনজাতির তরফে সম্বর্ধনায় ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে মন্ত্রিত্ব বিষয়ে এই দুই কুড়মি আন্দোলনকারী রাজেশ মাহাতো ও বিশ্বজিৎ মাহাতো কোনও কথা বলতে নারাজ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.