Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

মায়ের কান্না ঘিরে ভোটের অঙ্ক! পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী অভয়াজননীকে নিয়ে প্রশ্ন

রত্নাদেবীর শাড়ির পাড়ে লেখা ‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই’ নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। বিচারের দাবি কি শেষমেশ গেরুয়া আবির আর ভোটের অঙ্কেই ঢাকা পড়ে গেল?

Advertisement
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১২:৪৫

link
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১২:৪৫

options
link
মায়ের কান্না ঘিরে ভোটের অঙ্ক! পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী অভয়াজননীকে নিয়ে প্রশ্ন zoom
পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথকে নিয়ে প্রশ্ন বাসিন্দাদের। ফাইল ছবি

পানিহাটির (Panihati) তপ্ত দুপুরে ধুলো উড়িয়ে ছুটছে বিজেপির প্রচার গাড়ি। সঙ্গে দলীয় কর্মীদের গলায় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান। শব্দগুলো পরিচিত, তবে এখন তার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখানেই প্রশ্ন, আর জি কর কাণ্ডের সুবিচারের সেই দাবি কি তবে নির্বাচনী ময়দানে ‘ভোটের পুঁজি’ হয়ে উঠছে? রোদে পুড়ে, ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মা, রত্না দেবনাথ, বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তাঁর শাড়ির পাড়ে বড় করে লেখা ‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই’। সেখানেই দ্বিধা। যে ‘মেরুদণ্ডে’র কথা বলে তিনি রাজনীতিতে এলেন, সেটাই কি সেদিন সোজা ছিল না, যখন সিবিআই ও কেন্দ্রের গড়িমসি নিয়ে তিনি সরব হয়েছিলেন? নাকি গেরুয়া উত্তরীয় কাঁধে উঠতেই সেই মেরুদণ্ড সুবিধামতো বেঁকে গেল?

রত্না দেবনাথ প্রচার করে এগোতেই এক প্রবীণ বাসিন্দা রুমা দে বলেন, “তদন্তের গতি নিয়ে যাকে এক সময় গালমন্দ করলেন, আজ তাঁরই ছায়ায় বসে বিচারের কথা বলছেন।” আরেক যুবতী রিঙ্কু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “মেয়ের মর্মান্তিক পরিণতিতে যাদের দোষ দিলেন, আজ তাদেরই দলের হয়ে ভোট চাইছেন?”

প্রচারের সময় রত্নাদেবী (Ratna Debnath) বারবার ফিরে যাচ্ছেন মেয়ের মর্মান্তিক পরিণতির স্মৃতিতে। সেই আবেগ থেকেই তুলছেন সুবিচারের দাবি। কিন্তু পানিহাটির বাসিন্দারা ভুলে যাননি। এই সেই মা, কয়েকমাস আগেও যিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকায়। অথচ আজ সেই তিনিই গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হয়ে একই সুবিচারের কথা বলছেন। রত্না দেবনাথ প্রচার করে এগোতেই এক প্রবীণ বাসিন্দা রুমা দে বলেন, “তদন্তের গতি নিয়ে যাকে এক সময় গালমন্দ করলেন, আজ তাঁরই ছায়ায় বসে বিচারের কথা বলছেন।” আরেক যুবতী রিঙ্কু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “মেয়ের মর্মান্তিক পরিণতিতে যাদের দোষ দিলেন, আজ তাদেরই দলের হয়ে ভোট চাইছেন?”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পানিহাটিতে প্রতিদিন রত্না দেবনাথের সকাল বিকেলে পায়ে পায়ে জনসংযোগ, সন্ধ্যায় সভা সব মিলিয়ে জোরকদমে প্রচার চলছে। অনেকের চোখে এটি শুধু বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই নয়, বরং এক মর্মান্তিক স্মৃতিকে সামনে রেখে ক্ষমতার কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা। প্রচারে নাগরিক সমস্যা ও নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে রত্নাদেবী বারবার দাবি করছেন, “আমি জিতলে পানিহাটিবাসী জিতবে। মানুষ আমার সঙ্গে আছে। এলাকাবাসী আমার মেয়েকে ভোলেনি।” কিন্তু মানুষের মনে ঘুরছে একটাই সংশয়। একজন শোকার্ত মা হিসেবে যে অরাজনৈতিক সম্মানটা তাঁর প্রাপ্য ছিল, প্রার্থী হওয়ার পর সেই সম্মান কি অটুট রইল? চায়ের দোকান থেকে বাজারের ভিড়, সব জায়গায় এখন একই আলোচনা। বিচারের দাবি কি শেষমেশ গেরুয়া আবির আর ভোটের (West Bengal Assembly Election) অঙ্কেই ঢাকা পড়ে গেল?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.