Advertisement
Advertisement
বঙ্গে পালাবদল
BJP

কোচ-রাজবংশী ভোট স্যুইংয়ে উত্তরের ২৮টি আসন পদ্মে, ভাইরাল ভিডিওয় খুশি কেএলও সুপ্রিমো

উত্তরে কোচ-রাজবংশী ভোট স্যুইং করাতে অন্তত ২৮টি আসন পদ্ম শিবিরে! বিজেপির এই সাফল্যে খুশি কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) সুপ্রিমো জীবন সিংহ।

Advertisement
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মে ৫, ২০২৬, ২০:৫১

link
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মে ৫, ২০২৬, ২০:৫১

options
link
কোচ-রাজবংশী ভোট স্যুইংয়ে উত্তরের ২৮টি আসন পদ্মে, ভাইরাল ভিডিওয় খুশি কেএলও সুপ্রিমো zoom
কোচ-রাজবংশী ভোট স্যুইংয়ে উত্তরের ২৮টি আসন পদ্মে।

উত্তরে কোচ-রাজবংশী ভোট স্যুইং করাতে অন্তত ২৮টি আসন পদ্ম শিবিরে! বিজেপির এই সাফল্যে খুশি কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) সুপ্রিমো জীবন সিংহ। ভাইরাল ভিডিও বার্তায় তিনি উত্তরের কোচ-রাজবংশী সমাজকে ধন্যবাদ জানালেন। তাঁর দাবি, বিজেপির জয় আলাদা রাজ্য ও ভাষার দাবির পক্ষেই জনতার রায়। যদিও এই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।

উত্তরের কোচ-রাজবংশী অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এবার বিজেপির আসন বাড়বে, ভোটের আগে এমনই দাবি ছিল তৃণমূলের। কিন্তু বিজেপি সোমবার ভোট গণনা শুরুর পরই সেই দাবি নস্যাৎ করে সাতটি জেলা থেকে একের পর এক আসন ঘরে তুলে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পথ মসৃণ করেছে। উত্তরের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি মহকুমা (দার্জিলিং জেলা), উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার কোচ-রাজবংশীবহুল অন্তত ২৮টি বিধানসভা আসন দখল করেছে বিজেপি। জলপাইগুড়ি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি, ধুপগুড়ি, ফালাকাটা, কুমারগ্রামের মতো আসনগুলোতে তৃণমূল রীতিমতো ধরাশায়ী হয়েছে। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

উত্তরে কোচবিহার জেলায় কোচ-রাজবংশী অধ্যুষিত আসনের সবচেয়ে বেশি। ওই জেলার নয়টি বিধানসভা আসনই কোচ-রাজবংশী অধ্যুষিত। সেখানে আটটি আসন গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। জলপাইগুড়ির পাঁচটি, আলিপুরদুয়ারে দুটি এবং দার্জিলিং জেলায় দু’টি কোচ-রাজবংশী অধ্যুষিত আসন ঘরে তুলেছে বিজেপি। এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে আটটি এবং মালদহে দু’টি আসনে কোচ-রাজবংশী ভোটের প্রাধান্য রয়েছে। সেখানে বিজেপির সুনামি দেখা গিয়েছে। কার্যত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে প্রথম এলাকাগুলো পদ্মফুলের দখলে। 

West Bengal Assembly Election Result 2026: KLO supremo Jiban Singh happy with BJP's victory in 28 seats in north
ছবি: পিটিআই

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কিছুটা প্রভাব কমলেও কোচ-রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকায় তৃণমূল তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় তৃণমূল শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর এবং মালদহে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। কিন্তু মাত্র দু’বছরের মধ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা তো বটেই। কোচ-রাজবংশী অধ্যুষিত আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর এবং মালদহ জেলায় নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে অনেক বেশি মজবুত হয়ে ওঠে বিজেপি।

প্রশ্ন, কেমন করে সেটা সম্ভব হল? বিজেপি নেতৃত্ব বুঝে নিয়েছিলেন কোচ-রাজবংশী ভোট পেতে পৃথকভাবে কখনও অনন্ত মহারাজ অথবা বংশীবদনের উপরে ভরসা করে লাভ নেই। একসময় শুধু অনন্ত মহারাজই ভরসা ছিল বিজেপির। তাকে রাজ্যসভাতেও পাঠায় দল। কিন্তু অনন্ত কখনও প্রকাশ্যে দলের তথা কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করতে থাকেন। কখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের বাড়িতে অভ্যর্থনা জানান। এসব দেখে বিজেপি নেতৃত্ব বিকল্প কোচ-রাজবংশী প্রভাবশালী মুখের খোঁজ শুরু করেন। যোগাযোগ হয় গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মনের সঙ্গে। বংশীবদন বিজেপিতে যোগ না দিলেও ঘোষণা করেন, এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করবেন। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব উপলব্ধি করেন উত্তরে ভালো ফল করতে হলে কোচ-রাজবংশী ভোট বিভাজন বন্ধ করা জরুরি।

West Bengal Assembly Election Result 2026: KLO supremo Jiban Singh happy with BJP's victory in 28 seats in north
গেরুয়া আবির বিলি কর্মীদের। নিজস্ব চিত্র

তারা কৌশলে ২০২৫ সাল থেকে সেই কাজ শুরু করেন আত্মসমর্পণকারী কেএলও সুপ্রিমো জীবন সিংহের মাধ্যমে। শুরুতে জীবন সিংহের একের পর এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে চলে যাওয়া কোচ-রাজবংশী ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা চলে। সবশেষে কোচ-রাজবংশী বিভিন্ন সংগঠনকে এক ছাতার তলায় আনতে তৎপর হন কেএলও সুপ্রিমো। গঠন করেন কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল। একই সঙ্গে জীবন সিংহ কামতাপুরি বিভিন্ন সংগঠনের উপরে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। বিজেপির তরফেও যোগাযোগ বাড়ানো হয়। যার নিট ফলাফল ছিল ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের অগে পরস্পর বিরোধী বংশীবদন এবং অনন্ত মহারাজকে বিজেপির মঞ্চে পাশাপাশি বসতে দেখা যায়।

এর মধ্যে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের তরফে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। প্রচারে নামেন কর্মীরা। বিজেপি নেতৃত্ব সেটা ভালোভাবে নেননি। জীবন সিংহকে দিল্লিতে ডেকে বুঝিয়ে দিতে তিনি ভিডিও বার্তায় কোচ-রাজবংশীদের বিজেপি প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আবেদন জানাতে শুরু করেন। নির্বাচনে ওই প্রচারের প্রভাব যে কতটা গভীর ছিল সেটা ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। ওই কারণে কেএলও সুপ্রিমো সোমবার রাতে ভিডিও বার্তায় ‘অসম ও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য কোচ-রাজবংশী, কামতাপুরিদের ধন্যবাদ জানান।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.