Advertisement
Advertisement
বঙ্গে পালাবদল
West Bengal Assembly Election Result 2026

কোতোয়ালি ভবনের বাইরের প্রার্থীতেও ‘হাত’ ছাড়া সুজাপুর, গনির গালিচায় ফের ফুটল ঘাসফুল

বঙ্গের রায়-পরিবর্তন। তবে গনির গালিচায় ফের ফুটল ঘাসফুল। সুজাপুর তৃণমূলের। ৬০ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে জিতলেন ঘাসফুল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৪, ২০২৬, ২৩:১২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৪, ২০২৬, ২৩:১২

options
link
কোতোয়ালি ভবনের বাইরের প্রার্থীতেও ‘হাত’ ছাড়া সুজাপুর, গনির গালিচায় ফের ফুটল ঘাসফুল zoom
সুজাপুরে বিশাল ব্যবধানে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। গ্রাফিক্স ছবি।

১৯৬২ থেকে ২০১৬। ৫৪ বছর। সুজাপুর ছিল কংগ্রেসের দখলে। বলা ভালো শাসন ছিল গনি খানের পরিবারের হাতে। বরকত গনি খান হয়ে ইশা খান চৌধুরী। পাঁচ দশকে বিভিন্ন সময় সুজাপুর কেন্দ্রে গনির কোতোয়ালি ভবনের সদস্যরাই প্রত‍্যেকটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। জিতেছেনও। অটুট ছিল ‘গনির দুর্গ’। ‘২১ সালে রাজ্যজুড়ে সবুজ ঝড়ে বদলে যায় সেই ছবি। সুজাপুরের ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল। আজ, ১৫ বছর পর পরিবর্তনের বাংলাতেও গনির গালিচায় ফের ঘাসফুল ফোটালেন সাবিনা ইয়াসমিন। সুজাপুর তৃণমূলের। রেকর্ড ব্যবধানে জিতলেন তিনি।

নিজের কেন্দ্র মোথাবাড়ি নয়। সুজাপুরে ‘অগ্নিপরীক্ষা’র মধ্যে পড়েছিলেন সাবিনা। সেই পরীক্ষায় তিনি সফল। ১ লক্ষ ১২ হাজার ৭৯৫ ভোট পেয়েছেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিকে হারিয়েছেন ৬০২৮৭ ভোটের ব্যবধানে। কংগ্রেস গনি পরিবারের বাইরে কাউকে প্রার্থী করায় তৃণমূল ওয়াকভার পেয়েছে। এই কথা আগেই জানিয়েছিলেন কালিয়াচক এক নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ। কার্যত সেটাই প্রমাণিত। কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল হান্নান পেয়েছেন ৫২৫০৮ ভোট । ধারে কাছে নেই বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ রজক। চতুর্থ হয়েছেন তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গনি ‘দুর্গ’ তৃণমূলের দখলে যাওয়ার পিছনেও রয়েছে প্রবল পরিবারতন্ত্র বিরোধী হাওয়াও। ১৯৬২ থেকে ২০১৬। ৫৪ বছর। সুজাপুর ছিল কংগ্রেসের দখলে। বলা ভালো শাসন ছিল গনি খানের পরিবারের হাতে।

সুজাপুরের লড়াইয়ে কোনও ভাবেই ছিল না বিজেপি। তৃণমূল ও হাত শিবিরের দ্বিমুখী লড়াই প্রত্যাশিত ছিল। সেই ‘যুদ্ধে’ শেষ হাসি হাসল ইয়াসমিন। কিন্তু কেন? সুজাপুরের মোট ভোটারের অধিকাংশই মুসলিম ভোটার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের সরাসরি সাহায্য পেয়েছেন তাঁরা। তাছাড়া বিজেপিকে রুখতে এই কেন্দ্রে একজোটে ভোট দিয়েছেন তাঁরা। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। এছাড়াও গনি ‘দুর্গ’ তৃণমূলের দখলে যাওয়ার পিছনেও রয়েছে প্রবল পরিবারতন্ত্র বিরোধী হাওয়াও।

সুজাপুরের নির্বাচনী ইতিহাসে ঘাটলে দেখা যাবে, আবু বরকত আতাউল গনি খান চৌধুরী এই কেন্দ্র থেকেই ৫ বার বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর বোন রুবি নূর জিতেছেন ৪ বার। রুবির মেয়ে মৌসম বেনজির নূর জিতেছেন একবার‌। গনির ভাই আবু নাসের খান চৌধুরী জিতেছেন ২ বার। ডালুর ছেলে ঈশা খান চৌধুরী জিতেছেন একবার। যতবার গনি পরিবার এখানে জিতেছে ততবার এলাকার মানুষের না পাওয়া তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে। বাস স্ট্যান্ড থেকে কলেজ। দমকল থেকে পুরসভা। বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা থেকে জল নিকাশি ব্যবস্থা। ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব। না পাওয়ার তালিকাটি দীর্ঘ। 

সেই হাওয়া বুঝতে পেরে ছাব্বিশের নির্বাচনে সুজাপুরের কোতোয়ালি ভবনের বাইরের কাউকে প্রার্থী করে কংগ্রেস। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজসেবক আবদুল হান্নানকে প্রার্থী করা হয়। ‘২১ সালে তৃণমূল প্রার্থী হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আবদুল গণির কাছে ইশা খান চৌধুরীর পরাজয়েক পর। এই আসনে ফের ফুটল ঘাসফুল। এলাকার বিধায়ক হলেন কোতোয়ালি ভবনের বাইরের কেউ। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.