Advertisement
Advertisement
Assembly Elections 2026

থিম সং-এ ভোটবঙ্গের পারদ চড়ছে, গানের ‘অকালবোধন’ জন্ম দিচ্ছে নতুন অর্থনীতির

বাংলার নির্বাচন মানেই দেওয়াল লিখন, স্লোগান আর তপ্ত রাজনৈতিক তরজা। কিন্তু এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন। পুজোর থিম সং-এর আদলে এবার প্রার্থীদের নিজস্ব 'প্রচার গীতি' বা ক্যাম্পেন সং-এর নয়া ট্রেন্ড চলছে।

Advertisement
গৌতম ব্রহ্ম
গৌতম ব্রহ্ম

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১৬:১২

link
গৌতম ব্রহ্ম
গৌতম ব্রহ্ম

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১৬:১২

options
link
থিম সং-এ ভোটবঙ্গের পারদ চড়ছে, গানের ‘অকালবোধন’ জন্ম দিচ্ছে নতুন অর্থনীতির zoom
পুজোর আগেই বাঙালিকে নতুন গান বাজার উপহার দিল ছাব্বিশের ভোট!

এও যেন এক অকালবোধন! পুজোর আগেই বাঙালিকে নতুন গান বাজার উপহার দিল ছাব্বিশের ভোট!

বাংলার নির্বাচন (Assembly Elections 2026) মানেই দেওয়াল লিখন, স্লোগান আর তপ্ত রাজনৈতিক তরজা। কিন্তু এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন। পুজোর থিম সং-এর আদলে এবার প্রার্থীদের নিজস্ব ‘প্রচার গীতি’ বা ক্যাম্পেন সং-এর নয়া ট্রেন্ড চলছে। নতুন গান নিয়ে ভোটারদের মনের দরজায় কড়া নাড়ছেন প্রার্থীরা। গ্রাম থেকে শহরে, গলি থেকে রাজপথে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নতুন গান। তৃণমূল, বিজেপি তো বটেই, এবার বাম-কংগ্রেসও ভোটের গানে সমানতালে পাল্লা দিচ্ছে। পুজোর সময় যেমন প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে বদলে যায় থিম সং, আবহ। তেমনই ভোট বাজারেও এবার মোড়ে মোড়ে বদলে যাচ্ছে গান। এ-যেন পুজোর আগেই পুজোর গান (পড়ুন ভোটপুজো)। অকালবোধন। এক সুরকার তো বলেই ফেললেন, “এবার ভোটের গান নিয়ে প্রতিযোগিতা হলে অবাক হব না।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বাংলার নির্বাচন মানেই দেওয়াল লিখন, স্লোগান আর তপ্ত রাজনৈতিক তরজা। কিন্তু এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন। পুজোর থিম সং-এর আদলে এবার প্রার্থীদের নিজস্ব ‘প্রচার গীতি’ বা ক্যাম্পেন সং-এর নয়া ট্রেন্ড চলছে। নতুন গান নিয়ে ভোটারদের মনের দরজায় কড়া নাড়ছেন প্রার্থীরা। গ্রাম থেকে শহরে, গলি থেকে রাজপথে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নতুন গান। তৃণমূল, বিজেপি তো বটেই, এবার বাম-কংগ্রেসও ভোটের গানে সমানতালে পাল্লা দিচ্ছে।

দাদাঠাকুর ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত একবার বর্ধিত পুরকরের প্রতিবাদে নিজের পছন্দের এক তেলেভাজার ব্যবসায়ী কার্তিকচন্দ্রকে ভোটে দাঁড় করিয়েছিলেন। তারপর কার্তিকের ভোট প্রচারে বাঁধেন গান। “ভোট দিয়ে যা-আয় ভোটার আয়/ মাছ কুটলে মুড়ো দিব/গাই বিয়োলে দুধ দিব…।’ ইতিহাস তৈরি করা দাদাঠাকুরের সেই গান জিতিয়ে দিয়েছিল তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে। এবার বিভিন্ন পার্টির নেতা-কর্মীরাও প্রার্থীর কাছে নিজস্ব গানের আবদার জুড়েছে। ফলে, স্টুডিওগুলির ব্যস্ততা বেড়েছে। কেউ কেউ আবার এআই দিয়ে ৩০ সেকেন্ডের গান বানিয়ে চালিয়েছে। তবে, পূর্ণাঙ্গ গানের চাহিদাই বেশি।

নির্বাচনী প্রচারে এবার জাতীয় ইস্যুর পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা ও সরকারি সাফল্যকে গুরুত্ব দিয়ে গান তৈরি করা হচ্ছে। তৃণমূলের ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’, বিজেপির ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’ কিংবা বামেদের ‘চুপচাপ ইভিএমে, সব ভোট সিপিএমে’-এই ক্যাচলাইনগুলো এখন আমজনতার মুখে মুখে। উত্তর কলকাতার বেলেঘাটা কেন্দ্রের প্রার্থী কুণাল ঘোষের জন্য তৈরি ‘বেলেঘাটা বলছে, কুণাল ঘোষ জিতছে’ গানটি তো রীতিমতো মুম্বই থেকে মিক্স-মাস্টারিং হয়ে এসেছে। রেকর্ডিংও হয়েছে টিনসেল টাউনে। পিছিয়ে মানিকতলার শ্রেয়া পাণ্ডে বা শ্যামপুকুরের শশী পাঁজাও। এই ট্রেন্ড কেবল প্রচারেই সীমাবদ্ধ নেই, জন্ম দিয়েছে এক নতুন অর্থনীতির।

লাভবান হচ্ছেন শিল্পীমহল থেকে শুরু করে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীরা। গীতিকার, সুরকার এবং রেকর্ডিং স্টুডিওর মালিকদের নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। ছোট-বড় সব মাপের শিল্পীদেরই দু-পয়সা বাড়তি রোজগার হচ্ছে। গান বাজানোর জন্য প্রচার গাড়িতে রাখতে হচ্ছে উন্নত মানের সাউন্ড বক্স। ফলে সাউন্ডম্যানদের চাহিদাও আকাশছোঁয়া। প্রার্থীদের মতে, নিজস্ব গান থাকলে কর্মীদের মধ্যে বাড়তি ‘জোশ’ বা উদ্দীপনা তৈরি হয়, যা দীর্ঘ রোড-শো বা পদযাত্রার ক্লান্তি কমিয়ে দেয়। তা ছাড়া নিজস্ব একটা আইডেনটিটি তৈরি হয়। আগে শুধু দলের সাধারণ গান বাজত, এখন প্রার্থীরা ব্যক্তিগত স্তরে গান বানাচ্ছেন। এটা এক ধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বাংলার ভোট-সংস্কৃতিতে রাজনীতি আর বিনোদন মিলেমিশে একাকার। ভোটের (Assembly Elections 2026) ফল যা-ই হোক না কেন, এই ‘সমান্তরাল অর্থনীতি’ যে আপাতত অনেকের হেঁশেলেই হাসি ফুটিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.