Advertisement
Advertisement
Bengal Election 2026

ভোট আসতেই বেড়েছে কদর, উত্তরের পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে তৎপর তৃণমূল-বিজেপি!

ভোট বড় বালাই! ভোট এগিয়ে আসতে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নজরে এবার পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভোটের আগেই তাঁদের ঘরে ফেরাতে তৎপর উত্তরের আট জেলার তৃণমূল ও বিজেপি শিবির। এসআইআরের ফলে বহু ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বাংলায়। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট এবার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যই এবার তাঁদের ভোটের আগে বাড়ি ফেরাতে মরিয়া রাজনীতিকরা।

Advertisement
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ২১:২০

link
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ২১:২০

options
link
ভোট আসতেই বেড়েছে কদর, উত্তরের পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে তৎপর তৃণমূল-বিজেপি! zoom
উত্তরের পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে তৎপর তৃণমূল-বিজেপি!

ভোট (Bengal Election 2026) বড় বালাই! ভোট এগিয়ে আসতে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নজরে এবার পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভোটের আগেই তাঁদের ঘরে ফেরাতে তৎপর উত্তরের আট জেলার তৃণমূল ও বিজেপি শিবির। এসআইআরের ফলে বহু ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বাংলায়। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট এবার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যই এবার তাঁদের ভোটের আগে বাড়ি ফেরাতে মরিয়া রাজনীতিকরা। আগামী ২৩ তারিখ রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা ভোট।

কেন এই তৎপরতা? ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটারের সংখ্যা নেহাত কম নয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, উত্তরের আট জেলা থেকে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও মালদহ জেলায় এই প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। এরা মূলত দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণ শিল্পে যুক্ত। সব থেকে বেশি পরিযায়ী শ্রমিক মালদহে। জানা গিয়েছে, এবার ইদে ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন লক্ষাধিক শ্রমিক।

Advertisement

তথ্যই বলে দিচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মালদহের পরই রয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা। সেখানে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৭৫ হাজারের বেশি। দক্ষিণ দিনাজপুরে সংখ্যাটা ৫০ হাজারের কম নয়। আলিপুরদুয়ার জেলার অন্তত ৪০ হাজার মানুষ ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। তাদের বেশিরভাগ চা বাগানের বাসিন্দা। তৃণমূল ও বিজেপির তরফে বুথ কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ফোন নম্বর জোগার করে ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। গেরুয়া শিবির শ্রমিকদের নাম ঠিকানা জোগার করতে বিশেষ দল গঠন করেছে। তাঁদের ফেরাতে বিভিন্ন রাজ্যের দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। 

কেন এই তৎপরতা? ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটারের সংখ্যা নেহাত কম নয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, উত্তরের আট জেলা থেকে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও মালদহ জেলায় এই প্রবণতা অত্যন্ত বেশি।

এক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়েছে সঠিক তথ্যের অভাব। কারণ, কয়েক বছর আগে গ্রামের যে ছেলেরা ভিন রাজ্যে যাচ্ছেন, তাঁদের নামের তালিকা তৈরির কাজ গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে শুরু হলেও শেষপর্যন্ত এগোয়নি। যদিও গ্রামে ভোট প্রচারের কাজে আগের মতো যুবকদের না পেয়ে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের মালুম হয় সমস্যাটি। এরপরই শুরু হয় খোঁজ। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী বলেন, “কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোট দিতে আসতে বলা হচ্ছে। দলের কর্মীরা ওদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইতিমধ্যে অনেক ছেলে বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে।”

আরএসপি-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্মল দাস জানান, উত্তরের চা বলয়ে ৫০ হাজার ছেলের খোঁজ মিলেছে যারা গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, বেঙ্গালুরুতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছে। ওরা প্রত্যেকেই ভোটার। শুধু তো চা বলয় নয়। কৃষি এলাকাতেও একই ছবি ধরা দিয়েছে। জলপাইগুড়ির মাধবডাঙা, গধেয়াকুঠি, ভোটপট্টি, ক্রান্তি, আলিপুরদুয়ারের লতাবাড়ি, কামাখ্যাগুড়ি, শোভাগঞ্জ, রাঙ্গালিবাজনা, শিশুবাড়ির মতো একের পর এক গ্রামে ভোট প্রচারে প্রবীণরাই সংখ্যায় বেশি।” পরিস্থিতি অস্বীকার করেননি বিজেপির রাজ্য কমিটির অন্যতম সম্পাদক প্রবাল রাহা। তিনি বলেন, “প্রচুর ছেলে বাইরে আছে। বুথ কমিটিগুলোকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাড়িতে যোগাযোগ করে নামের তালিকা তৈরি করে যোগাযোগ করতে।”

এদিকে গ্রীষ্মকালীন যাত্রী চাপ সামাল দিতে ৯ এপ্রিল থেকে মালদহ টাউন ও উধনার মধ্যে বিশেষ ট্রেন চালু করেছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। ২৩ জুলাই পর্যন্ত ওই পরিষেবা চলবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি ওই ট্রেন পরিযায়ী শ্রমিক ভোটারদের ঘরে ফেরাতে সাহায্য করবে। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.