কখনও মিমি, কখনও নুসরত, কখনও কাঞ্চন। লোকসভা হোক কিংবা বিধানসভা নির্বাচন, বারবারই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রার্থী তালিকায় রেখেছেন তারকা চমক। এমনকী গত লোকসভা নির্বাচনে রচনা বন্দোপাধ্যায় থেকে ইউসুফ পাঠানকে টিকিট দিয়ে চমকে দিয়েছিল শাসকদল তৃণমূল। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তাই তারকা প্রার্থী নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছিল, এবার হয়তো তৃণমূলের টিকিটে দেখা যেতে পারে সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী, অভিনেত্রী শ্রাবন্তী কিংবা অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। তবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গেল, এবার আর কোনও নতুন টলিউডি চমক নয়! বরং পুরনোদের উপরেই আস্থা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী। টিকিট পেলেন না কাঞ্চন মল্লিক, চিরঞ্জিৎ।
‘সেলেব’ তালিকায় শুধু নতুন সংযোজন শ্রেয়া পাণ্ডে। প্রয়াত সাধন পাণ্ডের ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এবারও বারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রাজ চক্রবর্তী, বরানগর থেকে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি, চন্দননগরে টিকিট পেয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। প্রার্থী করা হয়েছে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকেও। তবে তাঁর কেন্দ্র বদল হয়েছে। চণ্ডীপুরের বদলে করিমপুর থেকে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। ‘সেলেব’ তালিকায় শুধু নতুন সংযোজন শ্রেয়া পাণ্ডে। প্রয়াত সাধন পাণ্ডের ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। গত বিধানসভা উপনির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন সাধন পাণ্ডের স্ত্রী তথা শ্রেয়ার মা সুপ্তি পাণ্ডে। কিন্তু এবার শ্রেয়াতেই আস্থা দলনেত্রীর।

প্রশ্ন হল, কেন এবার প্রার্থী তালিকায় নতুন কোনও টলিউডি নামকে রাখা হল না? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসকদল তৃণমূল এবার চমকে নয়, বরং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। আর সেই কথা একাধিকবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও উঠে এসেছে। কোনও নেতাকে ধরে যে প্রার্থী হওয়া যাবে না, তাও বহুবার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আর সেই কারণে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হল ‘ভূমিপুত্র’ পবিত্র করকে, হলদিয়ায় প্রার্থী তাপসী মণ্ডল, ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী করা হয়েছে মহম্মদ বাহারুল ইসলামকে। এর আগে বাংলার একাধিক ভোটে তারকা প্রার্থীকে কেন্দ্র করে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। তৃণমূলের সৈনিক হিসেবে সারা বছর কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রেই টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে, যা নিয়ে ভোটের মুখে অস্বস্তির মধ্যেও পড়তে হয়েছে দলকে।
এখানেই শেষ নয়, তারকা প্রার্থী হিসাবে জয়ের পর তাঁদের কাজ নিয়েও অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। বহু ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, ডাকলেই নাকি তাঁদের পাওয়া যায় না! তাই হয়তো এবার তারকা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই ‘সাবধানী’ শাসকদল তৃণমূল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সর্বশেষ খবর
-
সভাপতি পদে দায়িত্ব নিয়েই মহামেডানকে ঋণমুক্ত করার আশ্বাস হুমায়ুনের, বার্তা ‘রাজনীতি’ নিয়েও
-
আগামী সপ্তাহেই সংসদে ‘অপারেশন লোটাস’! মমতার নির্দেশে হঠাৎ দিল্লিতে অভিষেক
-
‘ওয়াকা ওয়াকা’র নস্ট্যালজিয়া উসকে ফিরছে শাকিরা ম্যাজিক, কোন গানে ‘ফিফা’র মঞ্চ মাতাবেন নোরা?
-
‘ভাইকিং’ পোশাকে ফোটোশুট হালান্ডদের, বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে
-
কারা পাবেন আবাসের বাড়ি? সুবিধাভোগী যাচাইয়ে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা, রয়েছে ‘সেলফ সার্ভে’র সুবিধাও
নিবেদিত


