Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

‘হোম ভোটিং’ শুরু হতেই বিপত্তি, বিএলও’র নজর এড়িয়ে কোথায় গেল ভোটার! হয়রান আধিকারিকরা

পুরুলিয়া ২ নং ব্লকের ছররা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩৪ নং বুথে মানসিক ভারসাম্যহীন ভোটারকে নিয়ে হিমশিম দশা!

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১৬:১৫

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১৬:১৫

options
link
‘হোম ভোটিং’ শুরু হতেই বিপত্তি, বিএলও’র নজর এড়িয়ে কোথায় গেল ভোটার! হয়রান আধিকারিকরা zoom
হোম ভোটিং শুরু হতেই মানসির ভারসাম্যহীন ভোটারকে নিয়ে বিপত্তি পুরুলিয়ায়। নিজস্ব ছবি

ভোটদানের গরজ তো ভোটারদেরই বেশি। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) হোম ভোটিং অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণের কাজ শুরু হতেই উলটপুরাণ! ভোটারকে খুঁজে এনে ভোট দেওয়ালেন নির্বাচনী আধিকারিকরা। মঙ্গলবার পুরুলিয়ার ছররার ঘটনা। এখানে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভোটারের ভোট নিতে গিয়ে আধিকারিকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হল। শেষমেশ প্রায় ৪৫ মিনিট পর গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তবে গ্রাম ছাড়লেন কমিশনের সদস্যরা।

ঠিক কী ঘটেছে? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, পঁচাশি বছরের বেশি বয়সি ভোটার এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভোট বাড়ি গিয়ে গ্রহণ করেন কমিশনের আধিকারিকরা। ছাব্বিশের ভোটে মঙ্গলবার থেকেই সেই কাজ শুরু হয়েছে। আর তার শুরুতেই বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হল কমিশনকে। পুরুলিয়া ২ নং ব্লকের ছররা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩৪ নং বুথে ভোটগ্রহণ করতে গিয়েছিলেন আধিকারিকরা। ছিলেন মাইক্রোঅবজার্ভার কবিতা কুমারী, বিএলও শুভসিঞ্চন মাহাতো। ভোটার ঝুনি বাউড়ি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা। তিনি সকাল হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান, রাতে ফিরে আসেন। সারাদিন কাটান বাড়ির গ্রামের প্রান্তে এক পুকুরপাড়ে। সেখানেই খাবার পৌঁছে দিয়ে আসতে হয় তাঁকে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কিন্তু আজ ঝুনি বাউড়ির ভোট (West Bengal Assembly Election) নেওয়া হবে বলে বিএলও তাঁকে সকাল থেকে আগলে রেখেছিলেন, যাতে নজর এড়িয়ে বাড়ি থেকে না বেরতে পারেন। কিন্তু তবু কোনও এক ফাঁকে তিনি বেরিয়ে যান। এরপর যখন নির্বাচনী আধিকারিকরা ভোটগ্রহণের জন্য বাড়িতে যান, তখন তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। এতে হয়রানি হয় বিএলও-রই। তিনি অন্তত বার তিনেকের চেষ্টায় ঝুনি বাউড়িকে খুঁজে আনেন। কিন্তু তিনি তো ভোট দিতে পারবেন না! তাহলে কী হবে? এক্ষেত্রেও কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। মানসিক ভারসাম্যহীন বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের আপনজনরা তাঁদের হয়ে জনমত দিতে পারেন। ঝুনি বাউড়ির ভাই নিত্যানন্দ বাউড়িই বরাবর দিদির হয়ে ভোট দেন। এবারও তাই দিলেন। তবে যে কাজ আধঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়, তা হতে ৪৫ মিনিট সময় লেগে গেল।

পুরুলিয়ার ছররায় মানসিক ভারসাম্যহীন ভোটার ঝুনি বাউড়িকে নিয়ে সমস্যায় কমিশনের আধিকারিকরা। নিজস্ব ছবি।

এনিয়ে বিএলও শুভসিঞ্চন ঘোষ বলেন, ‘‘সকাল থেকে ওঁকে (ঝুনি বাউড়ি) চোখে চোখে রেখেছিলাম। কিন্তু কখন বেরিয়ে গিয়েছেন, বুঝিনি। উনি এরকমই। সকালে ঘুম ভাঙলেই বেরিয়ে যান, সেই রাতের বেলা বাড়ি ফেরেন। আজ ভোট নেওয়া হবে বলে নজর রাখছিলাম, যাতে উনি বেরিয়ে যেতে না পারেন। তারপর যখন কমিশনের অফিসাররা ভোট নিতে এলেন, তখন দেখি উনি নেই। আমি ঘুরে ঘুরে তাঁকে খুঁজে এনেছি। তারপর তাঁর হয়ে ভাই ভোট দিয়েছেন।” তাঁর ভাই নিত্যানন্দ বাউড়ি জানান, ‘‘বরাবর আমিই দিদির হয়ে ভোট দিই। ওর তো মানসিক সমস্যা আছে, ভোট দিতে পারে না। প্রতিবার বুথে গিয়ে অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে ভোট দিই। এবার প্রথম বাড়িতে ভোট নিতে এসেছে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.