Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

ভিনরাজ্যে ‘বাংলাদেশি’ বললেই দেখাবেন ভোটার স্লিপ! কাজে ফেরার আগে সতর্ক পরিযায়ীরা

ভোটার কার্ড, আধার কার্ড মানতে নারাজ বাইরের পুলিশ! সে জন্যই প্রত্যেকেই এই বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার স্লিপ ল্যামিনেশন করে ব্যাগে ভরেছেন।

Advertisement
বাবুল হক
বাবুল হক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১৮:৪৩

link
বাবুল হক
বাবুল হক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১৮:৪৩

options
link
ভিনরাজ্যে ‘বাংলাদেশি’ বললেই দেখাবেন ভোটার স্লিপ! কাজে ফেরার আগে সতর্ক পরিযায়ীরা zoom
ভোট শেষ। ফিরতে হবে কর্মস্থলে। মালদহ স্টেশনে ভিড় পরিযায়ী শ্রমিকদের। নিজস্ব চিত্র

ভিন রাজ্যের পুলিশকে কার্যত সবক শেখাতে এবার ল্যামিনেশন করা ভোটার স্লিপকেই হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। মহারাষ্ট্র থেকে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, দিল্লি কিংবা ওড়িশা। যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই বাংলাদেশি অপবাদে সেই রাজ্যের পুলিশ তাঁদের হেনস্তা করেছে, জেলে পুড়েছে, শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। এমনই একাধিক ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড মানতে নারাজ বাইরের পুলিশ। সে জন্যই প্রত্যেকেই এই বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) ভোটার স্লিপ ল্যামিনেশন করে ব্যাগে ভরেছেন। 

২৩ এপ্রিল ভোট মিটতেই ফের ভিন রাজ্যে যাচ্ছেন মালদহ, মুর্শিদাবাদ তথা উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভোট দিয়েছেন, বিএলও’র দেওয়া ভোটদানের বৈধ স্লিপ পেয়েছেন। তাতেই দুশ্চিন্তা অনেকটা কেটেছে পরিযায়ীদের। মালদহের রতুয়ার পিরগঞ্জ এলাকার এক শ্রমিক সফিকুল আলম বলেন, “সবাই ভোটার স্লিপ ল্যামিনেশন করে নিয়েছি। এটাই আমাদের বড় পরিচয়পত্র। বাইরের পুলিশ কিছু বললে এই স্লিপ দেখানো হবে। এবার তো মানবে, আমরা বাংলাদেশি নই।”  আরেকজন বলেন, “ভোট দিয়েছি, তার প্রমাণ ভোটার স্লিপ। এই স্লিপ তো এবার আর অমান্য করতে পারবে না ভিন রাজ্যের পুলিশ।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মালদহ টাউন স্টেশনে ব্যাপক ভিড়। গোটা স্টেশন কার্যত তাঁদের দখলে। অমৃত ভারত থেকে দিল্লিগামী ফরাক্কা এক্সপ্রেস, দূরপাল্লার যে কোনও ট্রেন স্টেশনে এসে পৌঁছতেই ওঠার জন্য তুমুল হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি সামলানোর উপায় নেই। রেলের নিরাপত্তা রক্ষীরাও হুড়োহুড়ির দাপটে উধাও। ট্রেনেও তিল ধারণের জায়গা থাকছে না। কেউ উঠতে পারছেন, কেউ উঠতে পারছেন না। ফের রাতভর অপেক্ষা পরবর্তী ট্রেনের। শ্রমিকদের বক্তব্য, কর্মস্থলে ফিরে নির্দিষ্ট সময়ে কাজে যোগ দিতেই হবে।

শুধু ট্রেন নয়, মালদহের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর সংখ্যক বাস ভাড়া করেছেন তাঁরা। জেলার বামনগোলা ব্লকের ১২ মাইল থেকে রাতেই পরপর ১৫টি বাস ছাড়ে। প্রতিটি বাসের গন্তব্যস্থল তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদ। সেই শ্রমিকদের কারও বাড়ি বামনগোলা, কারও হবিবপুর ব্লকে। তাঁদের কাছেও ছিল সেই ‘পরিচয়পত্র’ ল্যামিনেটেড ভোটার স্লিপ। থাকছে রেশন কার্ড, ভোটার-আধার কার্ডও। তবে মালদহ টাউন স্টেশনের ভিড়ের ছবিটা অবাক করার মতোই। স্টেশনের কাউন্টার থেকে বাইরের চত্বর, ছয়টি প্ল্যাটফর্ম, কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। এক রেলকর্মী বলেন, “রবিবার থেকেই শ্রমিকদের কাজে ফেরার পালা শুরু হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে ভিড় বাড়ছে। ট্রেনের সংখ্যা নতুন করে বাড়েনি। যদিও তাঁদের এই যাত্রা সপ্তাহ খানেক ধরে চলবে। নতুন স্পেশাল ট্রেন দেওয়া উচিত রেলদপ্তরের।” অনেকেই জানালেন, এসআইআরে ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে। কিন্তু এবার ভোট না-দিলে যদি সেই নাম ফের ‘ডিলিট’ হয়ে যায়! এই আতঙ্কেই তাঁদের অনেকে নিজের পয়সা খরচ করে ভোট দিতে ফিরেছিলেন। ভোট দিয়েছেন। কুতুবগঞ্জের বাসিন্দা সাদেক ইসলাম বলেন, “কেরলে দীর্ঘদিন ধরে কুয়ো তৈরির কাজ করি। ভোট দিতে এসেছিলাম। এবার কাজে ফিরছি। এখানে বসে থাকলে পেট চলবে না।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.