২৬ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সমস্যা যাই-ই হোক, তার তোয়াক্কা না করে ধর্মীয় রীতিনীতি অটুট রাখার আপ্রাণ চেষ্টা৷ রীতি মেনে গজরাজকে দীর্ঘ রাস্তা প্যারেড করানো হল৷ আর তাতেই প্রাণ গেল বয়স্ক হাতির৷ ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তে শ্রীলঙ্কার বনদপ্তর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে৷

[আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক উসকানি, সাহায্যের হাত সরিয়ে জাকির নায়েকের সভা বন্ধ করল মালয়েশিয়া]

শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত স্থান ক্যান্ডি৷ গত সপ্তাহে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এসালা পেরহারা নামে এক উৎসব ছিল এখানে৷ যার অন্যতম অঙ্গ দীর্ঘ পদযাত্রা৷ যেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদেরও শামিল করা হয়৷ সেদিনের পদযাত্রায় অন্তত ২০০টি হাতি ছিল৷ যার মধ্যে তিকিরি নামে একটি হাতিকেও শামিল করে মঠ কর্তৃপক্ষ৷ তিকিরির বয়স সত্তরের কম কিছুতেই নয়৷ শরীর এখন অনেকটাই ভাঙা, গজরাজের সেই তেজ আর নেই৷ তা আড়াল করতে একটি সুন্দর বস্ত্রখণ্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় তার শরীর৷ দুর্বল শরীরেও গজগমনে অনেকটা রাস্তাই এগিয়েছিল তিকিরি৷ আর তারপরই লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় তার৷

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ সংগঠনগুলি রীতিমতো রে রে করে ওঠে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়৷ তাদের সমবেত প্রতিবাদের মুখে পড়ে ঘটনার প্রায় সপ্তাহখানেক পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পর্যটন ও বনমন্ত্রী জন অমরতুঙ্গা৷ এসালা উৎসবে বয়স্ক প্রাণীদের জোর করে শামিল করার রীতি বাতিল হওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে৷ মন্ত্রী অমরতুঙ্গা বলছেন, ‘পদযাত্রায় হাতির মৃত্যুর খবরটা শোনামাত্রই আমি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি৷ হাতির শরীর কেমন ছিল, অসুস্থ অবস্থায় থাকলে তাকে জোর করে হাঁটানো হল কেন, সবই তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসবে৷ সেইমতো আমরা ওই বৌদ্ধ মঠের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব৷’

[আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক উসকানি, সাহায্যের হাত সরিয়ে জাকির নায়েকের সভা বন্ধ করল মালয়েশিয়া]

রীতি অনুযায়ী, বৌদ্ধ মন্দির বা প্যাগোডাগুলিতে যেসব প্রাণীরা থাকে, তাদেরকেই সাধারণ কোনও উৎসবে শামিল করা হয়৷ কিন্তু ক্যান্ডির পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির দাবি, তিকিরি কখনওই ওই বৌদ্ধ মন্দিরের হাতি নয়৷ তাকে কার্যত রাস্তা থেকে তুলেই পদযাত্রায় হাঁটানো হয়েছে৷

এনিয়ে এশিয়ার হস্তী সংরক্ষণ কেন্দ্রের এক আধিকারিক তথা হস্তিবিশারদ জয়ন্ত জয়বর্ধনে স্পষ্টই জানাচ্ছেন, তিকিরি অপুষ্টিতে ভুগছিল৷ ক্যান্ডিতে এভাবেই হাতিদের উপর মানুষের অত্যাচার চলে৷ আর তাদের রুগ্ন শরীর ঢাকতে সবসময় কাপড়ে মুড়ে রাখা হয়৷ বৌদ্ধধর্ম অধ্যুষিত শ্রীলঙ্কায় হাতিদের এমনিতে বেশ শ্রদ্ধার চোখেই দেখা হয়৷ এদেশের ধনীরা অনেক সময়ে হাতি পোষেন৷ তবে তাদের যত্নআত্তি নিয়ে প্রায়শয়ই অভিযোগ উঠছে৷ এই পরিস্থিতিতে তিকিরির মৃত্যুতে আরও নিন্দার মুখে সেদেশের প্রশাসন৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং