সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দাবানল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এতদিন পর এ নিয়ে দেশবাসীর কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আজই তিনি বলেন, ”গোড়া থেকে আমার অনেক কিছুই আরও সাবধান, গুরুত্ব দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হত, যা করা হয়নি।” এর জন্য সরকারের জলবায়ু নীতির সমালোচনাও তিনি গ্রহণ করে নিয়েছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দাবানলে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চল। প্রাকতিক বিপর্যয়, তবে নিজের ভূমিকায় তাতেও কার্যত মুখ পুড়েছে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের। তিন মাস পরও তিনি গুরুত্ব না বুঝে ক্রিসমাসের ছুটি কাটাতে চলে গিয়েছিলেন হাওয়াই দ্বীপে। প্রবল সমালোচনার মুখে তড়িঘড়ি ফিরেছিলেন ঠিকই। তবে তারপরও জনরোষ কমেনি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েন মরিসন। কেউ তাঁর সঙ্গে করমর্দন করতে প্রত্যাখ্যান করেন, তো কেউ সরাসরি মুখের পর বলে দেন, ”মুর্খ! আপনি এখান থেকে একটাও ভোট পাবেন না।”
[আরও পড়ুন: কাশ্মীর নিয়ে উদ্বিগ্ন আমেরিকা, মার্কিন প্রশাসনের টুইটে বিড়ম্বনায় কেন্দ্র]
এভাবে ধাক্কা খেয়ে গদি যে টলোমলো, তা বেশ টের পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে দিন যত গড়িয়েছে, ততই পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকেই এগিয়েছে। এ পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অনেকেই দমকল কর্মী। জঙ্গলের ভয়াবহ আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে তাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় ৫০ কোটি বন্যপ্রাণ ঢলে পড়েছে মৃত্যুর মুখে। এসবের মাঝে কার্যত চাপে স্কট মরিসন। এবার তিনিও ধীরে ধীরে বুঝেছেন, পরিস্থিতি হাতের বাইরে। নিজেদের গাফিলতিগুলোও হয়ত চোখে পড়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মরিসন বলছেন, ”এবারের গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ, উষ্ণতর, শুষ্কতর। গোড়া থেকেই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত। আরও সরাসরি কাজ করতে হত। আমাদের জলবায়ু নীতিও এর জন্য দায়ী।” এরপরই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এই আপদকালীন পরিস্থিতিতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে অস্ট্রেলীয় প্রশাসন? সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে মরিসন বলেন, ”পরিবেশ বাঁচাতে হাতে হাত ধরে কাজ করতে হবে।”
[আরও পড়ুন: পারিবারিক সমস্যা মেটাতে আসরে রানি এলিজাবেথ, বৈঠকে বসছেন উইলিয়াম-হ্যারি]
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, ২৫ বছরের কার্বন নিঃসরণ ২৫ থেকে ২৮ শতাংশ কমানোর টার্গেট দেওয়া হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। এখন বাকি মাত্র ১০ বছর। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া টার্গেট পূরণে সমর্থ হবে কি না, সে নিয়ে বেশ সন্দেহ আছে। তবে এবার দাবানলের মতো এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে কি প্রধানমন্ত্রী তথা প্রশাসন নড়েচড়ে বসবে? উদ্যোগী হবে পরিবেশ রক্ষায়? নাকি স্রেফ শুকনো মুখে আক্ষেপ করেই সারবেন কর্তব্য? উত্তর দেবে সময়।
সর্বশেষ খবর
-
‘দর্শক আমার ছবি ব্লকবাস্টার করবে’, পুজো রিলিজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সৃজিত
-
উপনির্বাচনের আগেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে হুমায়ুন? রেজিনগরে নয়া সমীকরণ!
-
গান্ধীজয়ন্তীতে মহাচমক! বাপুকে স্মরণ করে ‘জাতির জনক’ অবতারে এলেন মনোজ বাজপেয়ী
-
সোশাল মিডিয়ায় জাত তুলে গালি, তফসিলি জাতি-উপজাতি আইনে বিচার হবে, রায় কলকাতা হাই কোর্টের
-
১৯৬৭-তে চন্দননগরে আসেন সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র! কেউ জানত না?