৩১ ভাদ্র  ১৪২৬  বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেরিতে হলেও ঘুম ভাঙল ব্রাজিল প্রশাসনের। আমাজন অরণ্যের আগুন নেভাতে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে সশস্ত্র সেনাবাহিনীকে আমাজনের জঙ্গলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলসোনারো জানিয়েছেন, ‘আমি সেনাবাহিনীকে পাঠিয়েছি আমাজনের জঙ্গলে। তাঁরা নিজেদের শক্তি, বুদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে দমকল বাহিনীকে সাহায্য করবে।’ প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রাণীকুলকে বাঁচাতে সেনাবাহিনী ছাড়া যে উপায় নেই, তা টের পেয়েই বলসোনারোর এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

[আরও পড়ুন: জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস, আমাজনের জঙ্গল বাঁচানোর অনুরোধ ‘শংকর’ দেবের]

প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তাঁর মদতেই কাঠমাফিয়া এবং প্রমোটাররা আমাজনের জঙ্গল সাফ করে নগরায়নের পথে হাঁটার সাহ পাচ্ছেন। যার প্রতিফলন, চিরসবুজ অরণ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। গাছগাছালির পাশাপাশি অরণ্য এবং পাশের আমাজন নদীর জীবকুল বিপন্ন। ভয়ংকর বিষাক্ত সাপ থেকে নদীর রাক্ষুসে মাছ পিরানহা, দূষণে প্রাণ হারানোর মুখে সকলে।এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্যের জীববৈচিত্র্য তো বটেই, ধ্বংসের মুখে পড়বে ব্রাজিলের অর্থনীতিও।   

আমাজনে অগ্নিকাণ্ডের জেরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে ব্রাজিল। ফ্রান্স, জার্মান, আয়ারল্যান্ড-সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ কার্যত ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফিনল্যান্ডের আবেদন, আগুনের জেরে দূষণ গ্রাস করায় ব্রাজিল থেকে বিফ আমদানি বন্ধ করা হোক। এর পালটায় আবার ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট বলসোনারো স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে দায়সারা বিবৃতি দিয়েছেন, ‘পৃথিবী জুড়েই দাবানলের সমস্যা চলছে। এর জন্য কোনও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় না।’ ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আমাজনের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ উঠছে। যদিও সেসব অস্বীকার করে তাঁর বক্তব্য, ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে। বরং শুষ্ক প্রাকৃতিক পরিবেশে কষ্ট করে ব্রাজিলবাসীকেই দিনযাপন করতে হয় বলে উচ্চস্বরে দাবি করেছেন বলসোনারো।

AMAZON-army

আমাজন জঙ্গলের আগুন নিভিয়ে ফেললেই যে সমস্ত বিপদ কেটে যাবে, তেমনটা মনে করছেন না পরিবেশবিজ্ঞানীরা। কারণ, এই অগ্নিকাণ্ড প্রকৃতির অনেক বিষাক্ত উপাদানকে সক্রিয় করে তুলছে বলে তাঁদের আশঙ্কা। যেমন, এই উচ্চ তাপমাত্রা মাটির নিচের কার্বনের অংশকেও ভূপৃষ্ঠের বাইরে এনে ফেলে বাতাসে মিশিয়ে দিচ্ছে। যার জেরে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে বিশ্ব উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করছে। ইতিমধ্যেই আমাজনকে বাঁচাতে একাধিক পরিবেশপ্রেমী সংগঠন মাঠে নেমেছে। ‘সেভ আমাজন’-এর মতো বেশ কিছু হ্যাশট্যাগ তৈরি হয়েছে। সারা বিশ্বেরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পৃথিবীর ফুসফুস।   

[আরও পড়ুন: আমাজনের আগুন ‘ম্যানমেড’, স্যাটেলাইট ছবি দেখে নিশ্চিত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং