Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Hormuz Strait

বন্ধ হরমুজ হাতিয়ার আমেরিকার! কৌশলে ভারতের উপর চাপ বাড়ানোর ছক ট্রাম্পের?

ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৬, ১৪:৫৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৬, ১৪:৫৪

options
link
বন্ধ হরমুজ হাতিয়ার আমেরিকার! কৌশলে ভারতের উপর চাপ বাড়ানোর ছক ট্রাম্পের? zoom
ইরান যুদ্ধের মাঝেই হরমুজের 'নাম বদল' মার্কিন প্রেসিডেন্টের!

ইরান যুদ্ধে বিশ্বের তেল বাণিজ্যে সিঁদুরে মেঘ। ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) বন্ধ করেছে ইরান। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে হরমুজে জাহাজ দেখলেই তা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘটনায় বিপাকে পড়েছে ভারত-সহ বহু দেশ। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে হরমুজকে সচল রাখতে সক্রিয় হয়ে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল বহনকারী জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিমা দেওয়ার ঘোষণা করলেন তিনি। যদিও সেই বিমা শুধুমাত্র আমেরিকার জন্য আনা তেল জাহাজেই বরাদ্দ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় ভারতের জন্য উদ্বেগ আরও বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্বের জ্বালানির লাইফলাইন কেটে দেওয়ার ঘোষণা করেছে তেহরান। যার জেরে ৮ শতাংশ বেড়েছে তেলের দাম। এরপরই হরমুজ ইস্যুতে তৎপর হয়ে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “প্রয়োজনে আমেরিকার নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা ট্যাঙ্কারগুলিকে এসকর্ট করবে। যাই হয়ে যাক না কেন, বিশ্বে অবাধ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।” শুধু তাই নয়, ইরানের হুঁশিয়ারির পর ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করতে নারাজ তেল সরবরাহকারী জাহাজ সংস্থাগুলি। তাদের উদ্দেশ্যেও ট্রাম্পের বার্তা, ‘স্টেট ডেভলপমেন্ট ফিনান্স কর্পোরেশন (United States Development Finance Corporation)-কে নির্দেশ দিয়েছি যে তারা যেন হরমুজে যাতায়াতকারী সমস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি বাণিজ্যের আর্থিক সুরক্ষার জন্য যেন গ্যারান্টি দেয়। সমস্ত শিপিং লাইনের জন্য এই সুবিধা থাকবে।’

Advertisement

আমেরিকার জ্বালানির লাইফলাইন ঠিক থাকলেও বাকিরা পড়বে বিপাকে। অতীতেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও শীতযুদ্ধের সময় আমেরিকার এহেন সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির নাটক দেখেছে বিশ্ব।

তবে ট্রাম্প আশ্বস্ত করলেও তাতে বিশেষ স্বস্তি দেখছে না বাকিরা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদি আমেরিকা জাহাজগুলিকে আর্থিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেয় তবে তা বরাদ্দ থাকবে শুধুমাত্র আমেরিকার জন্য তেল বহনকারী জাহাজগুলির জন্য। বাকি বিশ্ব সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে আমেরিকার জ্বালানির লাইফলাইন ঠিক থাকলেও বাকিরা পড়বে বিপাকে। অতীতেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও শীতযুদ্ধের সময় আমেরিকার এহেন সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির নাটক দেখেছে বিশ্ব। এদিকে হরমুজ বন্ধে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ভারত। সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়। ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকলে পোট্রোপণ্যের জোগান আটকাবে।

এখানেই শেষ নয়, এই পথেই সার-সহ বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানি ভারত। সেই সাপ্লাই চেন ব্যাহত হলে ভারতের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে ভারতের। এক্ষেত্রে অন্য দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হলে আমেরিকার উপরই নির্ভরশীল হয়ে উঠবে নয়া দিল্লি। সেক্ষেত্রে আমেরিকার থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়তে পারে দিল্লির। যা মোটেই সুবিধাজনক হবে না ভারতের জন্য।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.