সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নওরোজ চলাকালীন কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১৮ জন। বিস্ফোরণ স্থল কাবুলের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় লাগোয়া পারসিদের ধর্মীয়স্থান কার্ট-ই-শাখি। নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে পারসি সম্প্রদায়ের প্রচুর লোক সেখানে জড়ো হয়েছিল। সুযোগ বুঝে সেই জমায়েতেই নিজেকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয় বোমারু জঙ্গি। উৎসবের মাঝে এহেন মর্মান্তিক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে প্রশাসনিক কর্তারাও পৌঁছে গিয়েছেন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
[কল্পবিজ্ঞানকেও হার মানাচ্ছে চিন! যুদ্ধক্ষেত্রে রিমোট পরিচালিত ট্যাঙ্ক নামাচ্ছে বেজিং]
বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে কাবুলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র নাসরত রাহিমি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা করেই হামলা চালানো হয়েছে। কেন না প্রতিবছরের মতো এ বছরেও নওরোজ উপলক্ষে উৎসবের আয়োজন হয়েছিল। এমনিতেই গোটা আফগানিস্তানে পারসি সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। রাজধানী কাবুলে সেই সংখ্যা তুলনায় বেশি। বসন্তকালেই উদযাপিত হয় পারসিদের নওরোজ। এদিনও নওরোজ পালনে মেতেছিল পারসি সম্প্রদায়ের মানুষ। দলে দলে কার্ট-ই-শাখির দিকে যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর লাগোয়া এলাকায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারের সন্ত্রাস দমন নীতিকে বানচাল করতে গেলে, এই সময়ই আঘাত হানা দরকার। তাই হিসেব কষেই হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। একসঙ্গে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ১৮ জন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকার শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ কাবুলে নতুন কোনও ঘটনা নয়। মাঝে মাঝেই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন-সহ তালিবানিরা নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে কখনও বিদেশি দূতাবাস কখনও বা জমজমাট এলাকায় হামলা চালিয়ে থাকে। তবে নতুন বছরের শুরু থেকেই সন্ত্রাস দমনে কড়া পদক্ষেপের ব্যবস্থা নিয়েছে কাবুল সরকার। তালিবান-সহ সমস্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছিল। সাফ বলা হয়েছিল, যদি ওই সংগঠনগুলি এই আলোচনায় যোগ না দেয়, তাহলে আর কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সেইমতো সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করতে উঠে পড়ে লাগে কাবুল প্রশাসন। এরপরেই শুরু হয় একের পর এক আক্রমণ। জানুয়ারিতেই বিস্ফোরণের জেরে ১০০ জনের মৃত্যু হয়। তারপর নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়িতে জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি হামলার ছক ভেস্তে যায়। তারপর থেকেই সুযোগ খুঁজছিল জঙ্গিরা। নওরোজকেই সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। ভিড়ের মধ্যে পুণ্যার্থী ও জঙ্গিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা। সেই সুযোগেই নিজেকে উড়িয়ে দেয় আত্মঘাতী জঙ্গি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন।
[জয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে পুতিনকে ফোন ট্রাম্পের, মুখোমুখি সাক্ষাতের সম্ভাবনা]
প্রসঙ্গত, নওরোজ বা নভরোজ পারসি সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। সমগ্র আফগানিস্তান জুড়েই বসন্তকালে নওরোজ পালিত হয়। জনসংখ্যা বেশি হলেও প্রায়ই কট্টরপন্থীদের বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয় পারসিদের। কট্টরপন্থীদের দাবি, নওরোজ ইসলাম বিরোধী অনুষ্ঠান।
সর্বশেষ খবর
-
‘এটাই লাস্ট ডান্স’, মন খারাপের খবর দিয়ে রোনাল্ডো বললেন, ‘আগের মতো খেলতে পারি না’
-
ভুলো বিল তৈরি করে কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসের ৫১ লাখ টাকা তছরূপ! গ্রেপ্তার সরকারি কর্তা
-
টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড, ইংল্যান্ডকে হেলায় হারিয়ে সাতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান অস্ট্রেলিয়া
-
টোটোতে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কা, চালকের হাত কেটে পড়ে গেল রাস্তায়! ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরে
-
বদ্রীনাথে অনুদান চুরির তদন্তে চার সদস্যের কমিটি, সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব