Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
Israel

খিদের জ্বালায় মৃত ১২৪, প্রবল বিতর্কের মাঝে প্রথমবার গাজায় ত্রাণ পাঠাল ইজরায়েল

গাজার তিনটি অঞ্চলে যুদ্ধবিরতিও ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২৫, ২১:৩১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২৫, ২১:৩১

options
link
খিদের জ্বালায় মৃত ১২৪, প্রবল বিতর্কের মাঝে প্রথমবার গাজায় ত্রাণ পাঠাল ইজরায়েল zoom
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হাড়-চামড়া একাকার হয়ে যাওয়া মৃতপ্রায় শিশুর দল। খাবারের বাটি হাতে ভিক্ষুকের বেশে দাঁড়িয়ে আছে অসহায় মা। গত কয়েকদিন ধরে মৃত্যুপুরী গাজার এমনই সব ছবি সামনে আসতে শুরু করেছে সোশাল মিডিয়ায় দৌলতে। ইতিমধ্যেই ক্ষিদের জ্বালায় সেখানে মৃত্যু হয়েছে ১২৪ জনের। যার মধ্যে ৮১ জন শিশু। গোলা-গুলির পর গাজাকে শেষ করতে ইজরায়েলের এই ‘ক্ষুধার অস্ত্র’ সমালোচিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে। প্রবল বিতর্কের মাঝে পড়ে অবশেষে মুখরক্ষায় তৎপর হল ইজরায়েল। প্রথমবার গাজার মাটিতে বিমানে করে ফেলা হল খাদ্য সামগ্রী।

ইজরায়েলের সেনা বাহিনীর তরফে জানা গিয়েছে, রবিবার গাজার মাটিতে বিমানে করে খাবার পাঠানো হয়েছে। সেই খাদ্য তালিকায় রয়েছে আটা, চিনি, ওষুধ ও প্যাকেটবন্দি খাবার। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই খাবার পাঠিয়েছে ইজরায়েল সেনা। পাশাপাশি গাজায় যাতে কোনও সাহায্য না আসতে পারে তার জন্য মার্চ মাস থেকে গাজা অবরুদ্ধে করে রেখেছিল ইজরায়েল সেটাও খুলে দেওয়া হয়েছে। গাজার তিনটি অঞ্চলে যুদ্ধবিরতিও ঘোষণা করা হয়েছে। ইজরায়েল জানিয়েছে, গাজায় আন্তর্জাতিক সহায়তায় কোনও রকম বাধা দেবে না তারা। ইজরায়েলের তরফে জানানো হয়েছে, গাজার সাধারণ নাগরিকের জন্য আকাশ পথে সাহায্য পাঠানো শুরু করেছে তারা। ভয়ংকর খাদ্য সংকট দূর করতে অন্যান্য দেশগুলিকেও সেখানে সাহায্য পাঠাতে কোনও বাধা দেওয়া হবে না।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত ২২ মাস ধরে যুদ্ধ চলছে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে। অসম এই লড়াইয়ের বলি হচ্ছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলের হামলায় গাজায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের। আহতের সংখ্যা দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে তার চেয়েও ভয়াবহ আকার নিয়েছে এখানকার খাদ্য সংকট। খিদের জ্বালায় এখানে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের যার বেশিরভাগই শিশু। শুধু মাত্র জুলাই মাসে এখানে ৪০ জনের অনাহারে মৃত্যু হয়েছে যার মধ্যে ১৬ জন শিশু। ত্রাণ শিবিরে খাবার আনতে গেলে সেখানেও গুলি ছোড়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট বলছে, গত মে মাস থেকে এখনও পর্যন্ত গাজার ত্রাণ শিবিরগুলিতে খাবার আনতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে হাজারের বেশি মানুষের। দেশটির খাদ্যসংকট চরম সীমায় পৌঁছেছে। ২০ লক্ষের বেশি মানুষ খাদ্য ও জীবনধারণের ন্যূনতম রশদ পাচ্ছেন না। একমাত্র উপায় ত্রাণ শিবির। সেখানেও ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভুখা পেটে গুলি ছুড়ছে ইজরায়েলের সেনা। এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে গাজা মৃত্যু এবং ধ্বংসের এমন এক স্তরে রয়েছে, যার তুলনা নেই।” অভিযোগ উঠেছে, গাজাকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে খিদের অস্ত্র ব্যবহার করছে ইজরায়েল। যা মানবতার বিরোধী। এহেন সমালোচনার মুখে ত্রাণ সরবরাহ আটকানোর একগুঁয়ে মনোভাব থেকে কিছুটা পিছু হটতে শুরু করেছে ইজরায়েল। সমালোচনা এড়াতে এবার আকাশপথে পাঠানো হল খাবার।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.