ঢাক-ডোল পিটিয়ে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Mecca Defence Pact) বা ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠন করেছিল সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। কথা ছিল, কারও উপর হামলা হলে একযোগে তার প্রতিরোধ করবে বাকি দুই দেশ। প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পরই এবার অগ্নি পরীক্ষার মুখে পড়ল মুসলিম ন্যাটো। সৌদি আরবের উপর ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হাউথির হামলায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের তরফে বিবৃতি এলেও জোটের কোনও তৎপরতা দেখা গেল না। এদিকে এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে জোটে ঢুকতে আগ্রহী বাংলাদেশ। ভারতের তরফে হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর থেকে দক্ষিণ সৌদি আরবে তেল শোধনাগারগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুথি। আবহা, খামিস মুশাইত, নাজরান ও জাজান অঞ্চলে অবস্থিত বেসামরিক ও জ্বালানি ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হয়। হাউথির লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মহিলা ও শিশু-সহ অন্তত ৭৩ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। বুধবার এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভারত। যেখানে বলা হয়েছে, “সৌদি ভূখণ্ডে সাধারণ নাগরিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার উপর আক্রমণের নিন্দা করছে ভারত।” পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, “এই ধরনের হামলার জেরে বাব আল মান্দেব প্রণালীতে স্বাধীন জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে। এই হামলাকে কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না।” নিন্দা জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ও তুরস্কের তরফেও।
আরও পড়ুন:
বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ‘সৌদি ভূখণ্ডে সাধারণ নাগরিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার উপর আক্রমণের নিন্দা করছে ভারত।’
ইসলামিক ন্যাটো নামের এই ইসলামিক জোটের মূল শর্ত হল, যদি এই তিন দেশের কোনও একটিতে হামলা হয়, তবে বাকি দুই দেশ এই হামলাকে নিজেদের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে। তাহলে এত বড় হামলার পর এবার কী হাউথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে মুসলিম ন্যাটো? সেক্ষেত্রে ইরান সমর্থিত হাউথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার অর্থ পরোক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা। বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, কড়া বিবৃতি এসেছে পাকিস্তানের তরফে। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির বলেন, “মক্কা চুক্তির মধ্যে থাকা কোনও সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে আগ্রাসন হলে কিংবা ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি পর্যন্ত বিস্তৃত হলে আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্তগুলি কার্যকর করা হবে। আমরা চুক্তি দ্বারা আবদ্ধ প্রয়োজন পড়লে, যা করার ইনশাআল্লা যা করার তা করব।” তারপরই অবশ্য তিনি বলেন, “এর অর্থ এটা নয় যে কারও আগ্রাসনের জবাব আমরা সামরিক শক্তি দিয়েই দেব। ইটের জবাবে পাথর চালানোর প্রয়োজন নেই।” মক্কা চুক্তি নিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য না করলেও হামলার নিন্দায় সরব হয়েছে তুরস্কও।
পাশাপাশি এই হামলার নিন্দায় সরব হয়েছে মক্কা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ। বুধবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই হামলার তীব্র নিন্দা করে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক পরিকাঠামো ও নাগরিকদের উপর যে হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলাদেশ সৌদি সরকার ও সেখানকার জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন রয়েছে।
উল্লেখ্য, শিয়া মতাবলম্বী হাউথির সঙ্গে সৌদির সমর্থনপুষ্ট সুন্নি গোষ্ঠীগুলির সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপে এই সংঘাত খানিক থামলেও আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের আবহে তা ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ‘মিত্র’ বলে পরিচিত একাধিক দেশে হামলা চালাচ্ছে হাউথিরা। ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ বিভিন্ন অঞ্চল বর্তমানে হাউথির নিয়ন্ত্রণে। সৌদি আরবের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের সুন্নি মুসলিম গোষ্ঠীর সরকার ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে হাউথিদের বিরুদ্ধে। এর পালটা সৌদিকে নিশানা করছে হাউথিরা। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের এবার নতুন করে মুসলিম ন্যাটোর মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে। গোটা পরিস্থিতিতে বিশ্বের কাছে ‘হাসির পাত্র’ হচ্ছে এই প্রতিরক্ষা জোট।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
৯১ বছরেও তরতাজা তরুণী! অবিশ্বাস্য ভল্টের ভিডিও ভাইরাল হতেই শিরোনামে মার্কিন বৃদ্ধা
-
লক্ষ্মীবারেই কৌশিকী অমবস্যা! তারাপীঠ মন্দিরে যাওয়ার আগে রইল সমস্ত খুঁটিনাটি
-
সেপ্টেম্বরেই পুজোর বোনাস জুটমিল শ্রমিকদের! উন্নয়নে বাংলাকে গুজরাট করার ডাক অর্জুনের
-
রামনবমীর অশান্তিতে ‘মাস্টারমাইন্ড’ অপরূপা পোদ্দারের স্বামীই! চার্জশিটে আর কী উল্লেখ এনআইএ-র?
-
৪৮ দিনের কারাবাসে ওজন কমেছে ২১ কেজি! নরবলিতে অভিযুক্তকে জামিন বম্বে হাই কোর্টের