রাষ্ট্রসংঘে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দিল্লিকে কাঠগড়ায় তুলতেই পালটা দিল ভারত। একদিকে অপারেশন সিঁদুর, অন্যদিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি- লাগাতার নানা আক্রমণ করতে দেখা গেল শরিফকে। এরপরই শনিবার ‘উত্তর দেওয়ার অধিকার’ করল ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের পার্মানেন্ট মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানালেন, শরিফের মন্তব্য খুবই অদ্ভুত। কেননা ৯/১১-র ‘মাস্টারমাইন্ড’ ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানেই লুকিয়ে ছিলেন। সেই সঙ্গেই তাঁর হুঁশিয়ারি, সন্ত্রাসবাদীদের পরিণাম ভুগতেই হবে।
তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘গত বছর আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে, সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়ার বা লুকিয়ে থাকার কোনও জায়গা থাকবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার অধিকার আমরা প্রয়োগ করব। আর পাকিস্তানকে তাদের জঙ্গিপনার পরিণাম ভোগ করতে হবে।” সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, ”৯/১১ হামলার বর্ষপূর্তি হয়েছে সদ্য। এই হামলার মাস্টারমাইন্ড পাক সেনার নাকের ডগায় লুকিয়ে ছিল।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার পাক সাংবাদিক জয়শংকরের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘‘দক্ষিণ এশিয়া আর কতদিন নিউদিল্লি, কাবুল, পাকিস্তান সৃষ্ট সন্ত্রাসের মুখোমুখি হবে?” প্রশ্ন শুনে বিস্মিত ও বিরক্ত জয়শংকরের তাৎক্ষণিক জবাব ছিল, ‘‘আপনি ভুল মানুষকে প্রশ্নটা করছেন। আমি এমন কোনও মন্ত্রী নই যিনি উত্তরটা জানবেন। বরং পাকিস্তানের মন্ত্রীরা আপনাকে বলতে পারবেন যে কতদিন তাঁরা এই সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার কাজটা করে যাবেন। আপনিই বলুন কতদিন পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ পুষে রাখবেন?” এরপর আরও বিরক্তির স্বরে জয়শংকর বলে ওঠেন, “একটা সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্নটা করছে!”
কার্গিল যুদ্ধ থেকে পহেলগাঁও হামলা – সন্ত্রাস লালনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ঠিক কী ভূমিকা, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা বারবার প্রমাণ-সহ তুলে ধরেছে ভারত। বিশেষত ২০২৫ সালে ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুরের পর যেভাবে পাক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের গা জ্বালা মনোভাব প্রকাশ্যে আসছিল, তাতেই স্পষ্ট হয় ভারতীয় উপমহাদেশের সন্ত্রাস ছড়ানোর পিছনে তাদের মদত ঠিক কতটা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘শুধরে যাও, নাহলে…’, নাম না করে রাষ্ট্রসংঘে ফের ‘সন্ত্রাসী’ পাকিস্তানকে তুলোধোনা জয়শংকরের
-
পুরভোটের আগে ফের সাংগঠনিক রদবদল বঙ্গ বিজেপিতে, বড় দায়িত্বে সজল
-
ভিনিসিয়াস-নুনেজদের স্বাগত জানাতে সেজে উঠছে যুবভারতী
-
রাষ্ট্রসংঘে মহানাটক! ইরানের দূতকে রহস্যময় উপহার দিতে গেলেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি, তারপর…
-
২৪ দিনে ৫৫ নবজাতকের মৃত্যু! বিতর্কে কী বলছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল?