যুদ্ধের আগুনে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রুদ্ধ ছিল ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী। অবশেষে সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব মেনে তা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। কিন্তু যুদ্ধ থামতেই এবার তারা ওমানের সঙ্গে মিলে হরমুজে কর বসানোর পথে হাঁটছে। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে তেমনটাই দাবি করা হচ্ছে।
ইরান সরকারের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা ‘এপি’ জানিয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে তেহরানে বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে আমেরিকা-ইজরায়েল। তাই হরমুজে কর আরোপ করে যে আয় হবে, তা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যবহার করার কথা ভাবছে ইরান।
আরও পড়ুন:
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজের ধরন, পণ্যসম্ভার এবং অন্যান্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ‘ট্রানজিট ফি’ বা কর নির্ধারিত হবে। ইরানের উপ বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, হরমুজে কর বসানো নিয়ে তেহরান ওমানের সঙ্গে মিলে একটি খসড়া প্রোটোকল তৈরি করছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হরমুজে জাহাজ চলাচল আটকানো নয় বরং সহজ করা। কিন্তু ইরানের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেনি সংযুক্ত আরব আমিশাহী, কাতার-সহ উপসাগরীয় দেশগুলি। হরমুজে তারা অবাধ জাহাজ চলাচলের দাবি জানিয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এটি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ।
ইরান যদি সত্যিই এধরনের পদক্ষেপ করে তাহলে ভারতের উপর কী প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের আগুনে হরমুজে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহ বড় ধাক্কা খেয়েছে। তার উপর উচ্চ বিমা খরচের ফলে তেল পরিবহন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এর উপর ইরান যদি হরমুজে ‘ট্রানজিট ফি’ আরোপ করে, তাহলে ভারতেও স্বাভাবিকভাবে বাড়বে তেলের দাম। ফলে সমস্যায় পড়বে সাধারণ মানুষ।
কিন্তু ইরান কি এভাবে হরমুজে ‘ট্রানজিট ফি’ বা কর আরোপ করতে পারে? রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন (UNCLOS) অনুযায়ী, কোনও প্রণালীর সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলি শুধুমাত্র সেখানে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য কোনও অর্থ দাবি করতে পারে না। তবে তারা যদি কোনও রকম পরিষেবা প্রদান করে, তাহলে তারা সীমিত ফি আরোপ করতে পারে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এটি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানি করে থাকে। তেলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস—বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। তারা হরমুজের মাধ্যমে গ্যাস রপ্তানির ওপরেই নির্ভরশীল। এই সব কারণেই হরমুজকে ‘বিশ্বের জ্বালানির লাইফলাইন’ বলা হয়।
সর্বশেষ খবর
-
নতুন তৃণমূল আত্মপ্রকাশের পরদিনই সন্দীপনের বাড়িতে বিক্ষোভ, কাটমানি-তোলাবাজিতে সরব বিজেপি
-
আরজিকর কাণ্ড এবার বড়পর্দায়, পরিচালনায় শঙ্কুদেব পণ্ডা, ‘অভিশপ্ত’ আগস্টেই শুরু শুটিং
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা