সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চলতি ‘তেল-যুদ্ধ’ নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি হুমকি দিল ইরান। ইরান বলেছে, আমেরিকা যেভাবে তার বন্ধু দেশগুলিকে ইরান থেকে তেল কিনতে বাধা দিচ্ছে তার ফল কিন্তু ভাল হবে না। এই হুমকির প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, ইরান কি ব্যবস্থা নেবে? ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানির জবাব, ‘দেখতেই পাবেন।’
[পাতের মাছেও চিনা থাবা! পঙ্গপালের মতো সমুদ্রে হানা ‘ড্রাগন’ জলযানের]
রৌহানির জবাব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই ওয়াকিবহাল মহলের জল্পনা, এবারও সেই পুরনো রাস্তায় হাঁটছে তেহরান। অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে তারা। এই হরমুজ প্রণালীর রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভাল করে তারাই। বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে হরমুজের গুরুত্ব অপরিসীম। এখান দিয়েই বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ তেল ও পেট্রোপণ্য আমদানি, রপ্তানি হয়। হরমুজ বন্ধ করে দিলে বিশ্বের বহু দেশ কে চড়া মাসুল দিয়ে বিরাট ঘুরপথে তেল আমদানি ও রপ্তানি করতে হবে। বিপদে পড়বে কাতার, বাহরিন, সৌদি আরবের মতো দেশগুলিও যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি হরমুজ প্রণালীর উপর টিকে রয়েছে। ফলে তেল-যুদ্ধ এবং তেল-সংকট গুরুতর আকার নেবে। আগেও যখন ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আমেরিকা, তখন ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে পালটা চাপ তৈরি করেছিল। এই কৌশলে সফলও হয়েছিল তারা। রাষ্ট্রসংঘের কাছ থেকে ছাড়পত্র আদায় করে নিতে পেরেছিল।
অস্ট্রিয়া সফররত ইরানের বিদেশমন্ত্রী জাভেদ জরিফ এবং প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানির অভিযোগ, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া-সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিকে আমেরিকা ভয় দেখিয়ে বাধ্য করছে যাতে ইরান থেকে এক তেল না কেনা হয়। সবরকমভাবে চাপ তৈরি করছে ওয়াশিংটন যাতে ইরানকে বয়কট করা হয়। এভাবে চাপ তৈরি করলে হিতে বিপরীত হবে। ইরানও পালটা ব্যবস্থা নেবে। শুধু তাই নয়, ভারত ও চিন হল ইরানের বড় ক্রেতা। তেল কিনলে তাদের বিরুদ্ধেও অবরোধ জারি করার হুমকি দিচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু আমেরিকা ভুলে যাচ্ছে তেল উৎপাদক সংস্থা ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক দেশ হল ইরান। ইরান ওপেক ছেড়ে বেরিয়ে এলে ওপেক ভেঙে যাবে। তখন বিশ্বজুড়ে তেলের দামে নৈরাজ্য তৈরি হবে।
[পাক জেলে বন্দি ৪৭১ জন ভারতীয়, চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট নয়াদিল্লির হাতে]
এই অবস্থায় ইউরোপ সফররত রৌহানি এবং জাভেদ জরিফ বলেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তিতে থাকতে চায়। আমেরিকা পরমাণু চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে গেলেও বাকি দেশগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া মজবুত করতে চায় ইরান। তাই শুক্রবার ভিয়েনায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ব্রিটেন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও চিনের প্রতিনিধিরা। ইরানকে চুক্তিতে রাখতে তার জন্যই সুবিধাজনক আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে বাকি দেশগুলি। একইসঙ্গে পরমাণু প্রকল্পের সব কাজ বন্ধ রাখতে ইরানকে বাধ্য করাও তাদের উদ্দেশ্য। এর আগে ইরান বাকি দেশগুলিকে হুমকি দিয়েছিল, তেহরানের সঙ্গে অবিচার হলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া চালু করে দেবে।
সর্বশেষ খবর
-
আজ জানে কি জিদ না করো… চোখের জলে মহাকাব্যে ইতি টানলেন মহানায়ক রোনাল্ডো
-
লাস্ট ডান্সেও অধরা মাধুরী, স্পেনের কাছে হেরে শূন্য হাতেই বিশ্বকাপকে চিরবিদায় রোনাল্ডোর
-
কাচ বসানো বালা পরিয়ে বৃদ্ধার ৫০ লক্ষের হিরের গয়না হাতিয়ে পালায় আয়া! কী হল তারপর?
-
চুলের মুঠি ধরে মার! কলেজ প্রজেক্টের ছবি তুলতে গিয়ে হেনস্থার শিকার ৪ ছাত্রী
-
বাবা-ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লক্ষ মুক্তিপণ দাবি! ধৃত ৩