কুণাল ঘোষ (লন্ডন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী): বিলেত সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যশালী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে ভাষণ দেবেন তিনি। নারী ক্ষমতায়ন এবং বাংলায় উন্নয়নের মডেল তুলে ধরবেন ‘কাছের মেয়ে, কাজের মেয়ে’। ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠান হাউসফুল। ভাষণ শুনতে চেয়ে অনেকেই ওয়েটিং লিস্টে। এই প্রেক্ষাপটে আর জি কর কাণ্ড (RG Kar Case) নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রস্তুত। সাফ জানিয়েছেন, “ওরা বল দিলে আমি ব্যাট চালাব। ছক্কা মারব!” বলে রাখা ভালো, আর জি কর মেডিক্যালে তরুণী চিকিৎসক খুন হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। বিরোধীদের, বিশেষ করে বাম-অতিবাম দলগুলোর নানা কুৎসা সত্ত্বেও পুলিশের তদন্তেই মান্যতা দেয় সিবিআই। আদালতে যাবজ্জীবন জেলের সাজা হয় সঞ্জয়ের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায় ধর্ষণ রোধে আসে ‘অপরাজিতা’ বিল। বাকিটা ইতিহাস।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার কেলগ কলেজে ভাষণ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও নানা সামাজিক প্রকল্প চালনা এবং নারী ক্ষমতায়নের যে মডেল বাংলা দেশকে দেখিয়েছে, তাই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন তিনি। তবে লন্ডনের হিম ভেজা বাতাসে পারদ নামলেও আর জি কর উত্তাপ যে চড়তে পারে, তা মমতা ভালোই জানেন। যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতেও তৈরি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন গণতন্ত্রে সবার প্রশ্ন করার অধিকার আছে। একইভাবে, ভিন্নমতের জন্যও জায়গা ছাড়া প্রয়োজন। এভাবেই গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো মজবুত হয়। আর জি কর কাণ্ডে বারবার আন্দোলনরত চিকিৎসকদের আলোচনায় ডেকে নিজেও উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি। তাই আর জি কর কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন এলে সটান উত্তর তিনি দেবেন। মমতার কথায়, “ওরা বল করলে আমিও ব্যাটিং শুরু করব! ছক্কা মারব। ওরা কি ভেবেছে আমি তৈরি হয়ে আসিনি? নথি আমার কাছেও আছে। আমিও জবাব দিতে জানি।”
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী যে হলে ভাষণ দেবেন সেখানে এর আগে কিং চার্লস, বান কি মুন, ডেসমন্ড টুটুর মতো জগৎবিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য রেখেছেন। স্বভাবতই বাংলার ঘরের মেয়ের এমন নজিরবিহীন ঐতিহাসিক সম্মানপ্রাপ্তিতে টেমস তীরের বঙ্গভাষীদের মধ্যেও উন্মাদনা চরমে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি করে ধর্ষণ ও খুন হন কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসক। তাঁর মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলা। কয়েকঘণ্টার মধ্যে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তদন্তভার পায় সিবিআই। এদিকে কর্মবিরতিতে শামিল হন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। তবে বিরোধীদের, বিশেষ করে বাম-অতিবাম দলগুলোর নানা কুৎসা সত্ত্বেও পুলিশের তদন্তেই মান্যতা দেয় সিবিআই। কিন্তু এখনও ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সঞ্জয় ছাড়া আর কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। তাকে আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সাজায় আমজনতার পাশাপাশি খুশি নয় রাজ্যও। দোষীর ফাঁসির দাবি জানিয়ে হাই কোর্টে যায় রাজ্য।
সর্বশেষ খবর
-
পরিত্রাতা বিষ্ণু, ইন্ডিয়ান আর্মিকে হারিয়ে ডুরান্ডের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল
-
মেয়ের নাবালিকা বান্ধবীকে যৌন হেনস্তা! গণপিটুনির পর অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দিল স্থানীয়রা
-
দুশ্চিন্তা কিছুতেই কমছে না? ২০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসেই মিলতে পারে সমাধান
-
এআই, সোশাল মিডিয়ায় জোর, জেন জি-র মন জিততে নয়া প্রচার কৌশল বঙ্গ বিজেপির
-
‘এই দিনটার স্বপ্ন দেখেছিলাম,’ পূজারা-দ্রাবিড়ের নজির ছুঁয়ে ২ বছরের পরিশ্রমের গল্প ফাঁস পাড়িক্কলের