মক্কায় নয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তির প্রধান শর্ত হল, যদি কোনও একটি দেশের উপর হামলা হয় তবে অন্য দেশ এই হামলাকে নিজের উপর হামলা হিসাবে ধরবে। ন্যাটোর ধাঁচে তৈরি এই সমঝোতাকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলে দাবি করছেন কূটনৈতিক মহল। তবে রিপোর্ট বলছে, মক্কা চুক্তির নেপথ্যে আসল কারিগর আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে সামাল দিতে ঘুরপথে এই ‘কাগুজে বাঘ’ তৈরি করেছে সিআইএ। যদিও বাকি মুসলিম দেশ এই ফাঁদে পা রাখার আগেই মার্কিন দাবার বোর্ড উলটে দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হাউথি।
ন্যাটোর ৫ নম্বর ধারার মতো মক্কা চুক্তির মূল বিষয় হল, এই চুক্তির অধীনে থাকা কোনও একটি দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে বাকি দেশগুলি তা নিজের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে এবং সমুচিত জবাব দেবে। এই চুক্তি এমন সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে যখন পশ্চিম এশিয়া ও তার আশপাশের অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলি হামলার মুখে পড়েছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে তছনছ হয়েছে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি। ইরানকে জব্দ করা তো দূর বরং নাক কাটা যাচ্ছে আমেরিকার। ট্রাম্প চাইছেন মধ্যপ্রাচ্যের বাকি দেশগুলিও ইরানের উপর আক্রমণ শুরু করুক। কিন্তু সোজা পথে তা সম্ভব নয়। তাই এই ঘুরপথ।
আরও পড়ুন:
চুক্তির প্রধান শর্ত হল, যদি কোনও একটি দেশের উপর হামলা হয় তবে অন্য দেশ এই হামলাকে নিজের উপর হামলা করবে। ন্যাটোর ধাঁচে তৈরি এই সমঝোতাকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলে দাবি করছেন কূটনৈতিক মহল।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ডিরেক্টর তারা কার্থা এই চুক্তির নেপথ্যে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, একজন মার্কিন কংগ্রেসম্যান দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে মক্কা চুক্তির মধ্যস্থতায় সাহায্য করেছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো উইলসন এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার আরেকটি উদাহরণ। এদিকে শিয়া আলেম আগা সৈয়দ জাওয়াদ নাকভির নেতৃত্বে শিয়া ধর্মগুরুরা এই চুক্তির বিরুদ্ধে সরব। তাঁদের মতে এটি আমেরিকা ও আরবের এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। তাঁদের অভিযোগ, চুক্তির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে টেনে আনা।
জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে নিয়ে এই চুক্তি হলেও পরে আরও কিছু দেশকে এখানে টেনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় সবার আগে রয়েছে আফ্রিকার শক্তিশালী দেশ মিশর। যাদের রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ সেনা, হাজার হাজার ট্যাঙ্ক, আধুনিক বিমান ও নৌবাহিনী। পাশাপাশি কাতার, কুয়েত, জর্ডান, আজারবাইজান এবং সিরিয়াও এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও এই জোটের শক্তি ইতিমধ্যেই মেপে নিয়েছে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র সংগঠন হাউথি। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরদিন সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় সংস্থা সৌদি আরামকোর এক তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেল শোধনাগার। হাউথির তরফে জানানো হয়েছে, ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের ড্রোন অনুপ্রবেশের জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার পর বিশ্বমঞ্চে কার্যত হাসির পাত্র হয়ে উঠেছে তিন দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সদ্য গঠিত মুসলিম ন্যাটো। হামলার পর সৌদি সরব হলেও বাকিরা কেউ মুখ খোলেনি। এই অবস্থায় সদ্য নির্মিত জোটের পরবর্তী পদক্ষেপের উপরই নির্ভর করছে মুসলিম ন্যাটোর ভবিষ্যৎ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে