সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের জঙ্গি ক্যাম্পে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরেও চিন-সহ কোন দেশই তাদের হয়ে কথা বলছে না বলে আক্ষেপ করলেন তাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি। একসময়ে আমেরিকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত থাকা পাকিস্তানের ওই প্রাক্তন কূটনৈতিকের কথায়, জঙ্গিদের আঁতুরঘর হিসেবে চিহ্নিত পাকিস্তানের কাজকর্মে ধৈর্য্য হারিয়েছে গোটা বিশ্ব। এই ঘটনা তারই ফলশ্রুতি।
মঙ্গলবার ভোরে ভারত-পাক সীমান্ত থেকে ৮০ কিলোমিটার ভিতরে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে থাকা জইশ-ই-মহম্মদের সবচেয়ে বড় ট্রেনিং ক্যাম্প ধ্বংস করে ভারতীয় বায়ুসেনা। এর ফলে খতম হয় ৩০০ জন জইশ জঙ্গি, প্রশিক্ষক ও পাঁচ শীর্ষ নেতা। ১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানের মাটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করার পরেও গোটা বিশ্ব থেকে কেউই ভারতের বিরোধিতা করেনি। উলটে বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে অনেকেই। যা দেখার পরেই পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হাক্কানির আক্ষেপ, “ভারতের বিমান হানার পরেও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার কেউ নেই। এমনকী ভারতের তরফে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়ে ভারতের নিন্দা করেনি চিন। শুধুমাত্র দুপক্ষকে সংযত থাকার বার্তা দিয়ে বিষয়টি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।”
[ভারতীয় বায়ুসীমায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা পাক যুদ্ধবিমানের, প্রতিহত করল বায়ুসেনা]
একসময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত থাকলেও বর্তমানে আমেরিকার ওয়াশিংটনে বসবাসকারী হাডসন ইনস্টিটিউট থিঙ্কট্যাঙ্কের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগের অধিকর্তা হুসেন হাক্কানির সঙ্গে সম্পর্ক ভাল নয় সেদেশের সেনাবাহিনীর। পাকিস্তানের বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠনগুলির তরফে মাঝে মাঝে হুমকি ফোনও আসে তাঁর কাছে। তবে তাতে চিন্তিত নন তিনি। বরঞ্চ তাঁর খারাপ লাগে সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে গিয়ে সারা বিশ্বের কাছে পাকিস্তানের যে ছবি ফুটে উঠেছে তা দেখে। এই নিয়ে খুব সম্প্রতি একটি বইও লিখেছেন তিনি। রিইমাজেনিং পাকিস্তানঃ ট্রান্সফর্মিং এ ডিসফাংশনাল নিউক্লিয়ার স্টেট নামে ওই বইতে কীভাবে একটি দেশকে আসতে আসতে জঙ্গিদের মদতদাতা হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে তার উল্লেখ করেছেন।
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ এই পাক কূটনীতিকের কথায়, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ সেভাবে উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাবকে সমর্থন না জানালেও যেভাবে দেশটি জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য পরিণত হচ্ছে তাতে গোটা বিশ্বের ধৈর্য্যচ্যুতি হচ্ছে। যার ফল পাকিস্তানের পক্ষে ভাল হবে না। একইসুরে বর্তমান পাক সরকারের সমালোচনা করেন সেদেশের আরেক কূটনৈতিক মোহিদ ইউসুফ। বলেন, বর্তমানে গোটা বিশ্ব ভারতের পাশে আছে। তাই ভারত পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলেও কেউ নিন্দা করেনি। তাই পাকিস্তানের উচিত চুপচাপ এই বিমান হানার ঘটনাটি মেনে নেওয়া। এর প্রতিক্রিয়ায় যেকোনও ধরনের পদক্ষেপ তাদেরই ক্ষতি করবে।
সর্বশেষ খবর
-
যুদ্ধের ধাক্কায় বেসামাল, ফুরিয়ে এসেছে অস্ত্র! এবার হার মানবে ইরান?
-
নবদ্বীপের ‘ত্রিপলচোর’ তৃণমূল চেয়ারম্যানের মামলাই লড়লেন না আইনজীবীরা! এজলাসের বাইরে ‘চোর’ স্লোগান, পড়ল ডিম
-
৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি! রেলমন্ত্রীর বুলেট ট্রেন ঘোষণায় খুশির হাওয়া উত্তরে
-
রক্তারক্তি কাণ্ড! হাসপাতালে অশোক ভট্টাচার্য, কেমন আছেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা?
-
উনিশেই সেরার শিরোপা, ইতিহাস গড়ে ফরাসি ওপেনের নতুন রানি মীরা আন্দ্রিভা