সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঐতিহাসিক করমর্দন। ১৯৯৩-এ হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে করমর্দন করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইৎসাক রাবিন ও প্যালেস্তাইনি নেতা ইয়াসের আরাফত। ২০১২-য় রক্তাক্ত আন্দোলনের স্মৃতি ভুলে ‘আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি’র (আইআরএ) প্রাক্তন শীর্ষ কর্তা ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের তৎকালীন ডেপুটি ফার্স্ট প্রাইম মিনিস্টারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ২০১৩-য় কয়েক দশকের শত্রুতা ভুলে নেলসন ম্যান্ডেলার স্মরণ অনুষ্ঠানে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর হাত ধরে ঝাঁকাতে দেখা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে। ২০১৫-য় ঐতিহাসিক করমর্দনের দৃশ্য ফিরেছে যুযুধান দুই প্রতিবেশী দেশ চিন ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মা ইয়াং জেউয়ের হাত ধরে।
[জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক মোদির, ইন্দো-চিন সম্পর্কে নতুন দিগন্তের আভাস]
২০১৮-র ২৭ এপ্রিল হয়তো আগের সমস্ত দৃশ্যকেই ছাপিয়ে গেল। ১১ বছর পর ফের পরস্পরের মুখোমুখি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন এবং প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। শরীরী ভাষাতে উষ্ণতার ছাপ ছিল যথেষ্টই। কে বলবে, দু’দেশের মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক। যাবতীয় তিক্ততা সরিয়ে হাসিমুখে করমর্দন করাই শুধু নয়, নতুন যুগের সূচনার ইঙ্গিতও দিলেন দুই রাষ্ট্রনায়ক। এবং এই পদক্ষেপের পিছনে চিনের কূটনৈতিক দৌত্য সফল হল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এশিয়ার রাজনৈতিক মঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফের টেক্কা দিলেন জিনপিং।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯.৩০টায় সীমান্ত লাইন ধরে কয়েক মিনিট হেঁটে দক্ষিণ কোরীয় সেনাবিহীনর এলাকায় প্রথমবার প্রবেশ করলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। সেখানেই অপেক্ষা করছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন।
দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে ১৯৫৩ সালে পানমুনজমের সেনাবিহীন এলাকাতেই সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে সই করেছিল দুই কোরিয়া। পোঁতা হয়েছিল গাছ। শেষবার যখন এই এলাকায় এসেছিলেন মুন জায়ে ইন, তিনি তখন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত। অনুষ্ঠান উপলক্ষে হাজির ছিল ৮১৩ জন সেনা, ২৭টি হেলিকপ্টার, বি-৫২ বোমারু বিমান ও সমুদ্রতীরে অপেক্ষারত বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ। ‘অপারেশন পল বুনিয়ান’-এ মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় সেনা পপলার গাছ কেটে ফেলেছিল। কারণ, নজরদারিতে সমস্যা।
শুক্রবার মুন জায়ে ইনের হাতে অস্ত্র ছিল না। ছিল বেলচা। একই ভাবে বেলচা হাতে ছিলেন কিম জং উনও। হাতে সাদা দস্তানা। উজ্জ্বল সূর্যালোকে পানমুনজমের সেনাবিহীন এলাকায় দুই কোরিয়ার সীমান্তে প্রতীকী বৃক্ষরোপণ করলেন দুই রাষ্ট্রনায়ক। পাইন গাছের গোড়া খুঁড়লেন। পিয়ং ইয়ংয়ের টেডং নদীর জল ঢাললেন মুন জায়ে ইন। আর সোলের হান নদীর জল ঢাললেন কিম জং উন। নাকি শান্তির গোড়ায় জলসিঞ্চন করলেন? বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক দুই প্রতিবেশীর শীতল সম্পর্কে কতটা বদল আনবে, তা এখনই বলা শক্ত। তবে একে ঐতিহাসিক ঘটনা বলে ইতিমধ্যেই ব্যাখ্যা করতে শুরু করছে রাজনৈতিক মহল।
[চাপে মায়ানমার, রোহিঙ্গা ‘গণহত্যার’ তদন্ত করবে আমেরিকা]
কিম বলেন, “আমরা কোরীয়রা বলি, পাইন গাছ দৃঢ়। সারা বছর সবুজ হয়ে থাকে। তাই পাইন গাছের মতোই সমস্ত চ্যালেঞ্জ জয় করে আমরা শান্তির পথে এগিয়ে যাব। নতুন ইতিহাসের সূচনা হল আজ।” এতদিন যে কিমের মুখ থেকে শুধুই পরমাণু হুমকি শোনা যেত, এদিন উত্তর কোরিয়ার সেই প্রেসিডেন্টই শান্তির বার্তা শোনালেন। শুক্রবার পানমুনজমে কিম জং উনকে দেখে মুন বলেছেন, “আপনাকে দেখে ভাল লাগছে। দুই কোরিয়ার শান্তিকামী মানুষকে বড়সড় একটা উপহার দিতে আমাদের চেষ্টা করতেই হবে।” কে বলবে, মাস খানেক আগেও পরস্পরের বিরুদ্ধে হুমকিযুদ্ধ চালিয়েছে দু’পক্ষই।
দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা শেষ বার আলোচনার টেবিলে বসেছিলেন ২০০৭ সালে। কিন্তু ২০১১ সালে কিম ক্ষমতায় আসতেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে বাক্যালাপ বন্ধ হয়ে যায়। চড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। কমকরে ৮৯টি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে গোটা বিশ্বের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছিলেন কিম জং উন। হুমকি দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়া এমনকী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও। কিন্তু এখন যে সময় বদলেছে, তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শাসক। তাঁর কথায়, “ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে চলতে চাই।” স্বাভাবিকভাবেই দুই প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসেছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিও। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যে তিনি রাজি, কিম আগেও তা জানিয়েছেন। ‘নতুন করে শুরু করার’ কথা বলে তিনি তা ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে শান্তির বার্তা প্রকাশ্যে না দিলেও সেই পথেই হাঁটছিলেন কিম। সম্প্রতি চিন সফরে গিয়ে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে আগ্রহী বলে জানান তিনি। মনে করা হচ্ছে জিনপিংয়ের দেখানো পথেই প্রতিবেশীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বদল এনে আমেরিকা তথা ট্রাম্পের দাদাগিরি ও আক্রমণের সম্ভাবনা কিম ভোঁতা করে দিলেন। যদিও মে মাসের গোড়ায় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বসার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশ।
[কানাডায় ১০ পথচারীকে পিষে মারল বেপরোয়া গাড়ি, ধৃত যুবক]
সর্বশেষ খবর
-
‘তফাত শিরদাঁড়ায়’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে ‘হারাধনের দশ ছেলে’কে স্যালুট সুদীপ্তার, বিঁধলেন কোন ‘বিপ্লবী’দের?
-
লন্ডনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হেনস্তা! নিন্দায় সরব ভারত, নেপথ্যে ডিপ স্টেট?
-
ডিম হাতে শওকতের অপেক্ষা ভাঙড়ের জনতার, ‘মাছ চোর’ গানের ছন্দে নাচ এনআইএ অফিসের সামনে
-
খোসা ছাড়ানো যাচ্ছে না, স্বাদ মাটির মতো! আলু সেদ্ধ করার সময় এই ভুলগুলো করছেন কি?
-
‘স্মৃতিভ্রংশে’ ভুগছিল চ্যাটজিপিটি, সতর্ক ওপেনএআই, এবার আপনাকে ভুলবে না চ্যাটবট!