সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুসারে বেলা একটায় তাঁরা একসঙ্গে দ্বিপ্রাহরিক আহার সারবেন। ক্যাবিনেট রুমের সেই বৈঠকে কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই। প্রেসিডেন্টের দৈনিক কর্মসূচি প্রকাশ করার সময় এই বৈঠকের কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পাক সেনাপ্রধান ও ট্রাম্পের এই নিভৃত বৈঠকের দিকে যেমন নজর থাকবে ভারতের, তেমনই ইরান-সহ বাকি বিশ্বেরও। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে পাকিস্তা।! প্রয়োজনে তেল আভিভে পারমাণবিক হামলা চালাবে। যদিও সেই দাবি অচিরেই উড়িয়ে দেয় পাকিস্তান। সাফ জানায়, নিজের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত না হলে আণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না তারা। পাকিস্তানের এই ভোলবদলের নেপথ্যে আমেরিকার হাত দেখছে বিশ্ব কূটনৈতিক মহল। এহেন পরিস্থিতিতে মুনির ও ট্রাম্পের মধ্যে কী কথা হবে তা নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। এদিকে গত মে মাসে ভারত-পাক সংঘাতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। এরপরই পাক সেনাপ্রধানের বৈঠক স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তি কৌতূহল তৈরি করছে।
রবিবার পাঁচদিনের মার্কিন সফরে গিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। আমেরিকার সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি, এমন একটা গুঞ্জন ছিল। সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। পাক সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, মুনিরের এই সফর একান্তই কূটনৈতিক সফর। এবং কোনও বিদেশি সেনাপ্রধানকে আমেরিকার আড়াইশোতম সেনা দিবসে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ট্রাম্প ছাড়াও মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গেও মুনির সাক্ষাৎ করবেন বলে সংবাদমাধ্যনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে মুনিরের আমেরিকা আসার খবর পেয়ে রবিবার ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের দূতাবাসের সামনে ভিড় জমান পাক নাগরিকরা। সেখানে বর্তমান পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। রীতিমতো চিৎকার করে তাঁরা বলতে থাকেন, ‘কোথায় লুকিয়ে রেখেছেন? ওই কসাইকে বাইরে বের করুন।’ বিক্ষোভকারীদের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে মুনিরের উদ্দেশে লেখা ছিল, মুনির সংবিধান লঙ্ঘনকারী, নির্বাচনে কারচুপি ও পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রধান মাথা। শুধু তাই নয়, ইমরান খানের সমর্থকরা দূতাবাসের সামনে একটি ডিজিটাল ভ্যানও দাঁড় করিয়ে রাখে। যেখানে তুলে ধরা হয় মুনিরের কুকীর্তির খতিয়ান। দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে জেলবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। যদিও খান সমর্থকদের দাবি, কারচুপি করে ভোটে হারানো হয়েছে ইমরানকে। এই গোটা ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনা প্রধান আসিম মুনির। মুনিরের বিরুদ্ধে এবার আমেরিকার মাটিতে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা গেল পাকিস্তানিদের।
সর্বশেষ খবর
-
জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কা! আগাম জামিন চেয়ে হাই কোর্টে অতীন
-
চল্লিশে অবসর ভেঙে প্রত্যাবর্তন, খালি হাতেই ফের আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নয়্যার
-
রেস্তরাঁ থেকে বেরতেই পাপারাজ্জিদের ‘হামলা’, মেজাজ হারিয়ে কী করলেন সোনাক্ষী?
-
‘দুর্নীতির অভিযোগে লেখা চিঠি অভিযুক্তকেই পাঠাতেন’, মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক বৈশাখী, শুভেন্দুর প্রশংসা
-
ভোরবেলা মোদিকে ফোন করতে চান ট্রাম্প! ‘বন্ধুরা এরকমই’, মন্তব্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতের