২২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একদিকে চিন, অপরদিকে পাকিস্তান। দু’দেশেরই নজর ভারত মহাসাগরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সবসময় সজাগ থাকতে হয় নয়াদিল্লিকে। এহেন পরিস্থিতিতে এবার শ্রীলঙ্কার ঘোলা জলে মাছ ধরতে তৎপর পাকিস্তান।

সোমবার দ্বীপরাষ্ট্রের সদ্যনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনসংযোগ বাড়ানো নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত কথা হয়েছে। পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে পাক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির একটি চিঠি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিয়েছেন কুরেশি। শুধু তাই নয়, পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়েও গোতাবায়ার সঙ্গে কুরেশির কথা হয়েছে। এছাড়াও, মাদক পাচার ও সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের মদত চেয়েছেন গোতাবায়া। এতেই স্পষ্ট যে, এবার শ্রীলঙ্কার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পটভূমিতে ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে ইসলামাবাদ।

প্রসঙ্গত, গতমাসেই ভারত সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজপক্ষে। তাঁর সঙ্গে আলোচনার পর দ্বীপরাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন‌্য ৪৫ কোটি ডলার আর্থিক মদতের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা নামে যে বন্দরটি চিনকে ১১০ কোটি ডলারের বিনিময়ে ৯৯ বছরের লিজ দেওয়া হয়েছিল তা শ্রীলঙ্কা সরকার ফিরিয়ে নিতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, ‘চিনপন্থী’ গোতাবায়াকে অনেকটাই সন্দেহের চোখে দেখছে নয়াদিল্লি। এহেন পরিস্থিতিতে পাক বিদেশমন্ত্রীর শ্রীলঙ্কা সফরে যে সাউথ ব্লকে উদ্বেগ ছড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় চিন ঘনিষ্ঠ পরিবার বলেই পরিচিত রাজাপক্ষ পরিবার। এর আগে ২০১৫ সালে গোতাবায়ার দাদা ও শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপক্ষ যখন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন চিন প্রচুর টাকা ঢেলেছিল বলেও অভিযোগ। পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের কাছে ‘টারমিনেটর’ নামে পরিচিত গোতাবায়া একসময়ে শ্রীলঙ্কান সেনার প্রধান কর্তাও ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ১০ বছরের এলটিটিই সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করতে সমর্থ হয় শ্রীলঙ্কা। এবছরও ইস্টারের দিনে জঙ্গি হামলার পরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। যার জেরেই দেশের বেশিরভাগ মানুষকে তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

[আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় ‘ড্রাগন’কে ঠেকাতে গোতাবায়ার জন্য কল্পতরু প্রধানমন্ত্রী মোদি[

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং