৪ ভাদ্র  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে ভারতীয় দূতকে ‘একা’ এবং ‘সরাসরি’ কথা বলতে দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল পাকিস্তান। ৩৭০ ধারা বাতিল ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সংঘাত তুঙ্গে ওঠার মুহূর্তেই কুলভূষণ নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানাল ইমরান খানের সরকার।

[আরও পড়ুন: ‘প্যাটেল, শ্যামাপ্রসাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছি’, জাতির উদ্দেশে বললেন মোদি]

আন্তর্জাতিক আদালতের সমালোচনার মুখে পড়ে বন্দি ভারতীয় কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে ভারতের দূতকে দেখা করতে দিতে রাজি হয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু তাদের শর্ত ছিল, ভারতীয় কনস্যুলেটের কোনও কর্মী যখন কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করবেন, সেখানে উপস্থিত থাকবেন পাকিস্তানের কোনও প্রতিনিধি। ভারত এই শর্ত মানেনি। দিল্লি দাবি জানিয়েছিল, ভারতের দূত যখন বন্দির সঙ্গে কথা বলবেন, তখন সেখানে তৃতীয় কেউ উপস্থিত থাকবেন না। একান্তেই কুলভূষণের সঙ্গে কথা বলবেন ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই দাবি নাকচ করে দিল পাকিস্তান। ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কঠোক পদক্ষেপ করে নিজেদের ভারত বিদ্বেষ বজায় রাখল পাকিস্তান।

১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত রায় দেয়, ভারতীয় বন্দি কুলভূষণের সঙ্গে তার স্বদেশের দূতকে দেখা করতে না দিয়ে আন্তর্জাতিক বিধি ভঙ্গ করেছে পাকিস্তান। এর পরে ইসলামাবাদ থেকে বলা হয়, একটি শর্তে ভারতীয় কনস্যুলেটের কোনও কর্মী বন্দির সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। দেখা করার সময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন পাকিস্তানের কোনও প্রতিনিধি।

ভারত পালটা দাবি জানায়, কুলভূষণের সঙ্গে ভারতের দূত যখন দেখা করবেন, তখন সেখানে ভয়ের পরিবেশ, নজরদারি থাকলে চলবে না। সাক্ষাৎকারের সময় কেউ যেন বাধা না দেন। কিন্তু ভারতের এই শর্ত খারিজ করে দিয়েছে পাকিস্তান। ফলে ভারতের দূত কবে কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন সেই বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ গোটা বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার অজয় বিসারিয়া। কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের  প্রেক্ষিতে যেখানে অজয় বিসারিয়াকেই বহিষ্কার করে দিয়েছে পাক সরকার, সেখানে কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাহলে দিল্লি থেকে কি আলাদা কোনও দূত বা কূটনীতিক যাবেন দেখা করতে? তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু জানায়নি ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এই মুহূর্তে ৩৭০ ধারা ও কাশ্মীর নিয়ে তিক্ততা এতটাই চরমে যে কুলভূষণ ইস্যু কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে।

সূত্রের খবর, একা, সরাসরি, পাকিস্তানের নজরদারির বাইরে এবং নিরাপদে ভারতীয় দূতকে কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ভারত ফের আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবেদন জানাতে পারে। সাউথ ব্লকের সাফ কথা, কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় দূতের কথা বলার সময় তৃতীয় কারও উপস্থিতি,তিনি পাকিস্তানি হোন বা অন্য দেশের নাগরিক, তাঁকে কিছুতেই বরদাস্ত করবে না ভারত সরকার।

আইনজ্ঞদের মতে, মামলার রায় দেওয়ার সময় ভারতীয় দূতকে নিঃসঙ্কোচে বিনা বাধায় কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে দিতে পাকিস্তানকে নির্দেশ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক আদালত। কিন্তু সেখানে এটা স্পষ্ট করে বলা ছিল না, পাকিস্তানের কেউ উপস্থিত থাকতে পারেন কি না। এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই পাকিস্তান নিজের লোক রাখতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের দাবি, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ভারতীয় নৌসেনা কমান্ডার কুলভূষণ যাদব ‘হুসেন মুবারক প্যাটেল’ নামে ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়ে পাকিস্তানে ঢুকেছিল নাশকতা ও সন্ত্রাস চালাতে। ভারতের ‘র’—এর চর কুলভূষণকে বালুচিস্তান থেকে প্রমাণ সমেত গ্রেপ্তার করেছিলেন পাক গোয়েন্দারা। ভারত বরাবরই পাকিস্তানের এই দাবি খারিজ করে এসেছে।

[আরও পড়ুন: ৩৭০ ধারা বাতিলের জের, ফের ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধ পাকিস্তানে

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং