Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কোণঠাসা ইসলামাবাদ, জইশের সদর দপ্তর দখল পাক পুলিশের

রাষ্ট্রসংঘ পুলওয়ামা হামলার নিন্দা করায় পাকিস্তান আরও বিপাকে পড়ল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯, ০৮:৪৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯, ০৮:৪৪

options
link
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কোণঠাসা ইসলামাবাদ, জইশের সদর দপ্তর দখল পাক পুলিশের zoom
ফাইল ফটো

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে চাপে পড়ে পাঞ্জাব প্রদেশের প্রশাসন বহাওয়ালপুরে জইশের সদর দপ্তরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছে পাকিস্তান। পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হানার পর স্বভাবমতো অস্বীকারের পর্ব চালালেও তাতে চিঁড়ে ভিজছে না। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেন, পুলওয়ামা কাণ্ডে পাকিস্তান পুরোপুরি ‘একঘরে’ হয়ে পড়েছে। এমনকী, পাকিস্তানের ‘পরম বন্ধু’ চিনও এই ইস্যুতে ভারতের পাশে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাজনাথের আরও হুঁশিয়ারি, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এবার ‘নির্ণায়ক লড়াই’ হবে। তবে কবে, কোথায় প্রত্যাঘাত হবে, তা ভারতীয় সেনাবাহিনীই ঠিক করবে।

[সীমান্তে দাঁড়িয়ে কয়েকশো পণ্যবোঝাই ট্রাক, চরম আর্থিক সংকটের মুখে পাকিস্তান]

Advertisement

পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার পুলওয়ামা কাণ্ডের কড়া বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তাতে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের নাম রয়েছে। একই সঙ্গে এই ধরনের নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, ষড়যন্ত্রী, সংগঠক, মদতদাতা ও আর্থিক সাহায্য করা প্রত্যেককেই বিচার করে শাস্তি দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করা হয়েছে। যা ইসলামাবাদের কাছে যথেষ্টই অস্বস্তিকর। তাই চাপের মুখে তড়িঘড়ি শুক্রবার পাঞ্জাব প্রদেশের বহাওয়ালপুরে জৈশের সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে প্রাদেশিক প্রশাসন। কাজকর্ম চালাতে একজন প্রশাসকও নিয়োগ করা হয়েছে। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারই পুলওয়ামায় কাণ্ডের ‘কঠোরতম’ নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ। ‘ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত’ হামলার জন্য জইশ-ই-মহম্মদের নাম করা হয়েছে। জইশের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রসংঘ পুলওয়ামা হামলার নিন্দা করায় পাকিস্তান আরও বিপাকে পড়ল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইসলামাবাদ যে প্রবল অস্বস্তিতে, তার প্রমাণ মিলেছে শুক্রবার সন্ধ্যায়। পাক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাঞ্জাব প্রদেশের প্রশাসন বহাওয়ালপুরে জইশের সদর দফতরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ওই ক্যাম্পাসে মাদ্রেসাতুল সাবির নামে একটি মাদ্রাসা ও জামা-ই-মসজিদ শুভানাল্লা নামে মসজিদ রয়েছে। আছে প্রায় ৬০০ ছাত্র এবং ৭০ জন শিক্ষক। সেখানে একজন প্রশাসকও বসানো হয়েছে। পাক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ।

আপাতত ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে পাঞ্জাব পুলিশ। জইশ দপ্তর দখল নেওয়ার পাশাপাশি শুক্রবার পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট আনাতোলিও নং মাকে একটি চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন, ভারত যেভাবে আগ্রাসনের হুমকি দিচ্ছে তাতে উপমহাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে। এর ফলে গোটা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। ভারত যেভাবে পাকিস্তানকে জল বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে তাও উপমহাদেশের শান্তির পক্ষে ক্ষতিকর বলে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন। অর্থাৎ চিন-সহ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি দেশ যেভাবে পুলওয়ামা কাণ্ডের নিন্দায় সরব হয়েছে তাতে যে পাকিস্তান আতঙ্কিত, তা স্পষ্ট হচ্ছে কুরেশির চিঠি থেকে। ওই চিঠিতে তিনি আরজি জানিয়েছেন, ভারত যেন উত্তেজনা না বাড়িয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ফ্রান্স, আমেরিকা ও ব্রিটেন জানিয়েছে যে, নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ প্রস্তাব অনুযায়ী মাসুদ আজহারকে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করতে ফের উদ্যোগ নেবে তারা। উল্লেখ্য, উরি হামলার পরেও এই তিন স্থায়ী সদস্য দেশ (পি-ফাইভের অন্যতম) মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছিল। যা তিনবার ‘ভেটো’ দিয়ে আটকে দেয় বেজিং। সূত্রের খবর, নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি জারি আটকানোর চেষ্টা করেছিল বেজিং। সব দেশ ভারত সরকারকে সহযোগিতা করুক, নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রস্তাবেও নাকি আপত্তি তুলেছিল চিন। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, “গতকাল নিরাপত্তা পরিষদ একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের নাম থাকলেও সেটা রুটিন উল্লেখ মাত্র। ওই বিবৃতি কোনও সিদ্ধান্ত বা রায় নয়।” তবে বিশেষজ্ঞদের মত, নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইসলামাবাদের ভূমিকা তারা ভাল চোখে দেখছে না। এদিকে শুক্রবার রাতে কাশ্মীরের অন্যতম বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে আটক করা হয়েছে। তাঁর নিরাপত্তা আগেই সরানো হয়েছিল। সরকার যে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের প্রতি কঠোর হচ্ছে এটা তার ইঙ্গিত।

[সিওল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.