স্বদেশে মাঝেমধ্যেই অপমান। কখনও তাঁর রচনার নেপথ্যে ব্রিটিশদের ‘দালালি’, কখনও তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বারবার বিদ্ধ দেশের শাসকদল। বাঙালি বলেই নোবেলজয়ী, বিশ্ববন্দিত কবির প্রতি এত উদাসীন বলে তোপ দেগেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে এই মুহূর্তে দেশে যখন এমন রাজনীতি, সেসময়ই দেশের বাইরে ঠিক অন্য ছবি। ইউরোপে ফের আদৃত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। চেক প্রজাতন্ত্রে রাজধানী প্রাগে একটি রাস্তার নামকরণ করা হল কবিগুরুর নামে। সোশাল মিডিয়ায় সেই ‘ঠাকুরোভা স্ট্রিট’-এর ছবি ছড়িয়ে পড়তেই এনিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। প্রাগের এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রাগের একটি রাস্তার নামে ‘ঠাকুরোভা স্ট্রিট’। একটি বাড়ির ঘি রঙা দেওয়ালে নামফলকে লাল কালিতে লেখা এই নাম। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোঁয়া। ইনস্টা পোস্টগুলি ফলো করলে প্রমাণিত হয়, সেটাই সত্যি। নোবেলজয়ী প্রথম অ-ইউরোপীয়, বাংলার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানাতেই ওই রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে ‘ঠাকুরোভা স্ট্রিট’।
আরও পড়ুন:

পোস্টে কবিগুরুর প্রাগ সফর-সহ ইতিহাসের বেশ কয়েকটি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাতে এও লেখা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকর্ম তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার শিল্পী, সাহিত্যিকরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ওই পোস্টে আরও লেখা, ১৯২০ এবং ১৯২৮ সালে প্রাগে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেখানে তিনি বক্তব্য পেশ করেন এবং নিজের তৈরি নাটকের পারফরম্যান্স দেখেন। সেসব দিনের কথা ভোলেননি প্রাগবাসী। তাই নোবেলজয়ী সাহিত্যিকের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধার নিদর্শন ‘ঠাকুরোভা স্ট্রিট’।
View this post on Instagram
প্রাগ বা চেক প্রজাতন্ত্রই শুধু নয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বসম্মান প্রাপ্তির এমন নিদর্শন রয়েছে হরেক। বিভিন্ন দেশেই তাঁর নামে পথঘাট রয়েছে। ফ্রান্সে রু টেগোর, হাঙ্গেরিতে টেগোর প্রমেনেড, তুরস্কে রবীন্দ্রনাথ টেগোর, ইজরায়েলে রেহভ টেগোর স্ট্রিটের কথা অনেকেরই জানা। সে অর্থে চেক রিপাবলিক হত ইউরোপের তৃতীয় দেশ, যেখানে রাস্তার নামকরণ করা হল কবিগুরুর নামে।