সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা সংক্রমণের জেরে বেহাল আমেরিকা। ভেঙে পড়ছে অর্থনীতিও। তাই দ্রুত জনজীবন স্বাভাবিক করতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্কুল-কলেজ চালু করতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার অন্যতম সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ডাঃ অ্যান্টনি ফাউচি। তাঁর মতে, ব্যাপারটা অত্যন্ত ঝুঁকির হয়ে যাবে। কিন্তু তাতে আদৌ পাত্তা দিতে রাজি নন ট্রাম্প। বুধবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রস্তাব তাঁর কাছে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।
[আরও পড়ুন: করোনায় ভয় নেই প্রেসিডেন্টের! মাস্ক না পরেই মাস্ক বিলি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প]
মঙ্গলবার সেনেটরদের সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ডাঃ ফাউচি ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলে দেন, “আমার কাছে তাঁর এই মত গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত, স্কুল খোলার ক্ষেত্রে। একমাত্র নির্দিষ্ট বয়সের চেয়ে বড় শিক্ষক-অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে বাড়িতে থাকা মেনে নেওয়া যায়। তাঁদের সশরীরে ক্লাস নিতে হবে না। তাঁরা আরও কয়েক সপ্তাহ বিষয়টি মেনে নিতে পারেন। কিন্তু বাকি কোনও ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার দরকার নেই।” উল্লেখ্য, নভেম্বরে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন। ফের জিতে ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছেন ট্রাম্প। এর আগে নির্বাচনী প্রচারে তিনি আর্থিক বনিয়াদ শক্তিশালী করার কথাই বলেছিলেন। সেটাই তাঁর প্রচারের মূল চালিকাশক্তি। করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে বাণিজি্যক প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু বহুদিন ধরেই তিনি সেগুলি খুলে দেওয়ার পক্ষে। এমনকী, যে সমস্ত প্রদেশ এ বিষয়ে রাজি, তাদের তিনি উৎসাহও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, তাঁর সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জিক অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের ডিরেক্টর ডাঃ ফাউচি। লকডাউনের সমর্থক এই ৭৯ বছরের বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে করোনা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই ৮২ হাজার মার্কিন নাগরিক করোনা সংক্রমণের জেরে মারা গিয়েছেন। সেই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে। কিন্তু তাঁর এই অবস্থান দেশের দক্ষিণপন্থী মানুষের পছন্দ হয়নি। পাল্টা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তিনি। সংক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর মতভেদ প্রকাশ্যে চলে আসায় তা আরও বেড়েছে। ডাঃ ফাউচি বলেছিলেন, আরও আগে লকডাউন কার্যকর করলে বহু মৃত্যু ঠেকানো যেত। তার পরেই তাঁকে সরানোর দাবিতে করা টুইট ট্রাম্প রি-টুইট করেন। এটা গত এপ্রিলের ঘটনা। তা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হওয়ার পর ট্রাম্প নিজেই তাতে জল ঢালেন। কিন্তু নিজের অবস্থানও পাল্টাননি। বুধবার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অ্যান্টনি খুব ভালো মানুষ। কিন্তু আমি ওর সঙ্গে একমত নই। সবকিছু সাবধানে চালু করা উচিত। কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব সবকিছু খুলে দেওয়া দরকার। বিশেষত, স্কুল-কলেজের বিষয়ে আমি পুরোটাই ওর মতের বিরোধী।” যদিও এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, ফাউচি সত্যিকারের আশঙ্কার কথাটাই তুলে ধরেছেন। তিনি ফাউচির সঙ্গে একমত। অত্যন্ত সাবধানে, সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হবে। উল্লেখ্য, করোনা জেরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিউ ইয়র্ক। আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু ঘটেছে এই শহরেই।
[আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে ভেস্তে যাওয়ার মুখে শান্তিপ্রক্রিয়া, তালিবালের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ঘানির]
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক