১৯ আষাঢ়  ১৪২৭  সোমবার ৬ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

লকডাউন তুললে বিপদের আশঙ্কা, ব্রিটিশ সরকারকে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: May 30, 2020 3:39 pm|    Updated: May 31, 2020 12:15 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউন উঠে যাওয়ার পথে। দু’জনের বেশি মানুষ একজায়গায় জমায়েত করতে পারবেন, স্কুলও খুলে যাবে। কিন্তু তাতে বিপদ ষোলো আনা। ব্রিটেনে লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে সপ্তাহান্তে তা একবার পুনর্বিবেচনা করা হোক। এমনই আরজি ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মহলের।

দ্য সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ ফর এমার্জেন্সি (SAGE)-র পরামর্শ, লকডাউন তুলে দেওয়ার পর কী কী মেনে চলতে হবে, তার প্রকাশ করুক সরকার। এই বিজ্ঞানী মহলের সঙ্গেই ব্রিটিশ সরকার একাধিক বৈঠক, আলাপ-আলোচনা করেছে সেখানকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এবং একই অনুষঙ্গে লকডাউন নিয়েও। SAGE’এর দাবি, প্রয়োজনীয় বৈঠক সংক্রান্ত গোপন কথাও প্রকাশ করা হোক। তাহলে আমজনতার কাছে গোটা ছবিটা পরিষ্কার হবে। তাঁরা নিজেরাও সচেতন হতে পারবেন। গবেষক মহলের একাংশের মত, এটা একেবারেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কেউ আবার স্পষ্টতই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও খুব বেশি। লকডাউন শিথিল বা প্রত্যাহার হলে, তা আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাবে।

[আরও পড়ুন: সিনেমা বানাতে সুন্দরী নায়িকাকে অপহরণ করেছিলেন কিম জং উনের বাবা]

SAGE-এর পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে সে দেশে দিনে গড়ে হাজার জন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছিলেন। এখন সেই সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার। অধ্যাপক পিটার হরবির কথায়, ”এভাবে রাশ ছেড়ে না দেওয়াই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লকডাউন উঠছে মানে এই নয় যে, কোনও পরীক্ষা, শনাক্তকরণের কাজ চলবে না। বরং আমরা চেষ্টা করব, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার। আমি এটাই বলতে চাইছি যে এই মুহূর্তে রাশ আলগা করলে যেটুকু নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা তো জলে যাবেই। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়া অস্বাভাবিক নয়।” তাঁর পরামর্শ, সোমবার থেকে যতই বিধিনিষেধ না থাকুক, মানুষজন যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকেন। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত ধোয়া, মাস্ক, গ্লাভসের ব্যবহার না ভোলেন।

[আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ, WHO’র সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন ট্রাম্প]

লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনে কর্মরত অধ্যাপক স্যালি ব্লুমফিল্ড স্পষ্টই নিজের আশঙ্কা প্রকাশ করে বললেন, ”আমার ভয় করছে এই ভেবে যে, জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া মানেই সবাই ভাবতে শুরু করবেন, এবার তাহলে পার্টি করা যাবে। পিকনিক বা পার্টিতে সবাই যে যার খাবার নিজেই খাবে, ভাগ করবে না অন্যদের সঙ্গে, তা তো হয় না। সুতরাং, লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটা পুনর্বিবেচনা করা দরকার।” SAGE-এর মতে, হাতে খুব কম সময়, এর মধ্যেই সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এরপর পরিস্থিতি এমন না হয় যে আরও বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করে আরও কঠিন লকডাউনের পথে হাঁটতে হয়।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement