সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিদ্রোহ আপাতত স্তিমিত। ‘মস্কো চলো’ অভিযানে ইতি টেনে ব্যারাকে ফিরেছে ওয়াগনার যোদ্ধারা। বেলারুশে নাকি বহাল তবিয়তে রয়েছেন কুখ্যাত ভাড়াটে বাহিনীটির প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন। আপাতত ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য রাশিয়ান ফ্রন্ট’। কিন্তু ক্রমে আরও ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। একাধিক রিপোর্ট মোতাবেক, গত শনিবার থেকেই নিখোঁজ শীর্ষ রুশ জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত শনিবার থেকেই থেকেই খোঁজ নেই রুশ জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনের। বর্তমানে রুশ মহাকাশ বাহিনীর প্রধানের পদে রয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সেনার সর্বাধিনায়ক হিসেবেও দাবিত্ব সামলেছেন তিনি। তবে যুদ্ধচালনায় সুরোভিকিনের ‘ব্যর্থতার’ জন্যই গত জানুয়ারি মাসে তাঁকে ফ্রন্ট থেকে সরিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দায়িত্ব বর্তায় রুশ সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভের হাতে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের সঙ্গে সুরোভিকিনের সখ্যতা বহু পুরনো। ইউক্রেন ফ্রন্টে জেনারেল সুরোভিকিনের আগমনে খুব খুশি হয়েছিলেন ওয়াগনার প্রধান। তবে সাম্প্রতিক বিদ্রোহের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তিনি। ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিগোজিনকে যুদ্ধ থামানোর আরজি জানিয়ে সুরোভিকিনে বলেন, “আমরা যোদ্ধা। আমেদের ধমনীতে যোদ্ধার রক্ত বইছে। আমরা একসঙ্গে লড়াই করেছি। জয় ছিনিয়ে এনেছি। সেই দাবিতেই আমি আপনাকে (প্রিগোজিন) এই সংঘর্ষ থামাতে অনুরোধ করছি।”
[আরও পড়ুন: মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করেই আমেরিকার উপর নজরদারি! চিনা বেলুন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি নয়া রিপোর্টে]
এদিকে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, ওয়াগনার বিদ্রোহের কথা জানতেন জেনারেল সুরোভিকিন। ওয়াগনারের রুস্তভ দখল-সহ গোটা পরিকল্পনাই নাকি তাঁর জানা ছিল। সুরোভিকিন নাকি এটাও জানতেন যে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগুকে অপহরণ করার ছক ছিল বিদ্রোহী সেনার। আর প্রিগোজিনের সঙ্গে এই দহরম মহরমের জন্যই তাঁর উপর খাঁড়া নেমে আসতে পারে। গোয়েন্দা রিপোর্টের মতে, সম্ভাব্য প্রহার এড়াতেই গা ঢাকা দিয়েছেন জেনারেল সুরোভিকিন। সবমিলিয়ে, রহস্য আরও ঘনীভূত।
উল্লেখ্য, ওয়াগনার বিদ্রোহে পুতিনের (Vladimir Putin) ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। প্রিগোজিন কী করবেন সেদিকে চোখ ওয়াকিবহাল মহলের। তবে আপাতত বলাই যায়, প্রিগোজিন তাঁর বাহিনীকে রোস্তভ-অন-ডন থেকে সরিয়ে বেলারুশে (Belarush) নিয়ে গিয়েছেন। প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করেছিল পুতিন সরকার। তবে পরে তা তুলে নেওয়া হয় বলে খবর। সেই ‘ডিল’ মেনেই পিছু হটতে রাজি হন ২৫ হাজার ভাড়াটে সেনার প্রধান। পরে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ জানিয়ে দেন, তাঁরাও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনও রকম পদক্ষেপ করবেন না।
[আরও পড়ুন: ওয়াগনার কাঁটাতেও কমেনি ঝাঁজ, ইউক্রেনের রেস্তরাঁয় ‘রুশ’ মিসাইল হামলায় মৃত ৮]
সর্বশেষ খবর
-
ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিস খালি করার নোটিস দমকলের, আদালতের স্থগিতাদেশেও কাটছে না জট
-
নাচে-গানে হুল্লোড়! হাতি তাড়াতে মধ্যরাতে বসছে আসর, এক অন্য ছবি লালগড়ে
-
অত্যাধুনিক একে-২০৩ রাইফেলের গুলি সরবরাহ করবে আদানির সংস্থা, বিরাট চুক্তি সম্পন্ন
-
উথাল-পাথাল গঙ্গা, ভাসল ভূতনি দ্বীপের অন্তত ১৯টি গ্রাম, জলবন্দি প্রায় ২ লক্ষ মানুষ
-
দিমাগি নকশালের পর এবার ‘নারাজ ফুফা’, জিডিপি বিতর্ক উড়িয়ে বিরোধীদের তোপ মোদির