ভারতের রোষানলে পড়ে রাতারাতি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যে নেমে এসেছিল তুরস্কের সংস্থা সেলেবি। ১৭ বছর ধরে ব্যবসা চালানোর পর ভারতের-শিক্ষায় বিরাট ক্ষতি মাথায় নিয়ে রাতারাতি এই দেশে ব্যবসা বন্ধ করতে হয় তাদের। ২০২৫ সালের ১৫ মে ভারত সরকারের সেই কঠোর পদক্ষেপের কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে এনেছেন তুরস্কের শিল্পপতি তথা সেলেবি সংস্থার প্রধান কানান সেলেবিওগ্লু।
একটা সময় দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা সংস্থা হিসেবে গণ্য হত তুরস্কের সেলেভি অ্যাভিয়েশন। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলিতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্বে ছিল সংস্থাটি। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সব হিসেব বদলে যায়। ভারত-পাক যুদ্ধের আবহে পাক সেনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ ওঠে তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে। ভারতের যাবতীয় সাহায্যের কথা ভুলে গিয়ে যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানকে ড্রোন দিয়ে সাহায্য করে তুরস্ক সরকার। পাকিস্তানে সেনা পাঠানোর অভিযোগও ছিল। এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সঙ্গে সংস্থার সরাসরি যোগ ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই সংস্থার অংশীদার ছিলেন এরদোগানের মেয়ে। যার জেরে কড়া পদক্ষেপ করেছিল ভারত সরকার। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ওই সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা হয়। যার পরিণতি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার থেকে সংস্থাটি শূন্যে নেমে আসে।
আরও পড়ুন:
সংস্থার প্রধান বলেন, ‘৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি সংস্থা একদিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বিপুল অঙ্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান শূন্যে নেমে আসে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আমাদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়।’
গত বছরের সেই ঘটনার কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন কানান সেলেবিওগ্লু। তিনি বলেন, “১৭ বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি সংস্থা একদিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বিপুল অঙ্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান শূন্যে নেমে আসে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আমাদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। আমি ভারতকে ভীষণ ভালোবাসতাম। কিন্তু এই একটি ঘটনা আমাদের পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য এক বিরাট ধাক্কা ছিল।”
পহেলগাঁও হামলার পালটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর শুরু করেছিল ভারতীয় সেনা। কানানের দাবি অনুযায়ী, সময়টা ২০২৫ সালের মে মাস। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সুপারিশে সেই সময় ‘ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি’ (বিসিএএস) সেলেবির নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করা হয়। যে কোনও বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং পরিচালনার জন্য এই ছাড়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা ছাড়া কোনও সংস্থা রানওয়ে বা কার্গোতে প্রবেশ করতে পারে না। জানা যায়, তুরস্কের এই সংস্থায় অংশীদারিত্ব ছিল এরদোগানের মেয়ে সুমেইয়ে এরদোগানের। যার জেরেই সংস্থার ছাড়পত্র বাতিল হয়।
যদিও সেলেবির দাবি ছিল, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংস্থার কোনও আর্থিক সম্পর্ক নেই। দিল্লি হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে তারা দাবি করেছিল কোনও নোটিস ছাড়াই তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে নয়াদিল্লি। হঠাৎ করে এভাবে চুক্তি বাতিল করলে ৩৭৯১ জন কর্মী চাকরি হারাবেন। তবে জাতীয় নিরাপত্তার সামনে সে যুক্তি ধোপে টেকেনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এমবাপে ম্যাজিকেই বাজিমাত, সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ফ্রান্স
-
প্রথমবার নেহরু টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, হকিতে ভারত জয় পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের
-
হকার উচ্ছেদ ঘিরে কৃষ্ণনগর স্টেশনে ধুন্ধুমার! পুলিশের সঙ্গে বচসা, হাতাহাতি সিটু, এসইউসিআই কর্মীদের
-
‘ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে’, জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের সামনেই নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে উষ্মা মোদির
-
সরকারি কাজেই আধারের অপব্যবহার? এবার কেন্দ্র ও UIDAI-কে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের