সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রবিবার ভোরে রাষ্ট্রসংঘ ইরানের উপর তার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে। এই সিদ্ধান্তে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে খাবারের দাম বাড়বে হু হু করে। যার ফলে জনজীবন সমস্যার মধ্যে পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের তরফে পারমাণবিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং কোনও রকম সহযোগিতা না থাকার ফলেই ‘শেষ উপায়’ হিসেবেই এমন পদক্ষেপ করা হল। যদিও গত সপ্তাহেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, তাদের এই মুহূর্তে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের কোনও অভিপ্রায় নেই।
উল্লেখ্য, বারাক ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ইরানের সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল আমেরিকা, ব্রিটেন, চিন, ফ্রান্স ও রাশিয়া। ২০১৫-তে হওয়া এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, তাদের যে কোনও রকমের পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ রাখবে ইরান। প্রয়োজনে তাদের যে কোনও পারমাণবিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি চালাতে পারবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন বা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি। পরিবর্তে ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে মোটা অঙ্কের ত্রাণ পাঠাবে আমেরিকা। কিন্তু ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, শর্ত না মেনে গোপনে আণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইরান।
বিশ্বশক্তির সমীকরণ দেখলে বোঝা যাবে, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে অহরহ গবেষণা করে চলেছে ইরান। একের পর এক যুদ্ধাস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে তারা। যা চিন্তার কারণ আমেরিকা ও পশ্চিমি দুনিয়ার। তাই নানা নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে তেহরানের উপর। সম্প্রতি সেদেশের উপর ড্রোন উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ইরান। পালটা ভয়ংকর হাতিয়ার বানিয়েছে তারা। কামিকাজে ড্রোনটিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে। যা শত্রুপক্ষের উপর আরও শক্তিশালী আঘাত হানতে সক্ষম। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে ইরানের ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ‘মিসাইল সিটি’। যা আসলে তাদের তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার। যা আরও চিন্তা বাড়ায় হোয়াইট হাউসের। এই পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের এই সিদ্ধান্তে ইরান কী প্রতিক্রিয়া জানায় সেটাই দেখার।