মহাভারতের যুদ্ধে অর্জুনের জন্য তুলে রাখা অস্ত্র ঘটোৎকচের বিরুদ্ধে খরচ করেছিলেন কর্ণ। ইরান যুদ্ধে কার্যত সেটাই হয়েছে আমেরিকার সঙ্গে। তেহরানকে বাগে আনতে চিনের জন্য তুলে রাখা ক্ষেপণাস্ত্রও খরচ করে ফেললেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয় রিপোর্ট বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে কার্যত শেষের পথে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার। প্রতিদিন আমেরিকার খরচ হচ্ছে ৯০ কোটি।
মাঝের সংঘর্ষবিরতি বাদ দিলে গত ৩৮ দিনে ইরানের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে বহু গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল খরচ করে ফেলেছে আমেরিকা। রিপোর্ট বলছে, ইতিমধ্যেই খরচ হয়েছে ১১০০টি দূরপাল্লার স্টিলথ মিসাইল (JASSM-ER)। মার্কিন ভাণ্ডারে এই অস্ত্র ছিল ১৫০০টি। অর্থাৎ এখন পড়ে রয়েছে মাত্র ৪০০টি। এই অস্ত্র অদূর ভবিষ্যতে চিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রেখেছিল আমেরিকা। প্রতিটি JASSM-ER মিসাইলের দাম আনুমানিক ১.১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও খরচ হয়েছে ১০০০-এর বেশি টমাহক মিসাইল। অবশ্য এখনও ৩০০০টি টমাহক অবশিষ্ট রয়েছে অস্ত্রভাণ্ডারে। জানা যাচ্ছে প্রতিটি টমাহকের দাম ৩.৬ মিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন:
অস্ত্র তো বটেই এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচের বহরও লাগামছাড়া। রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধে নেমে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার খরচ হয়েছে ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
শুধু তাই নয় রিপোর্ট বলছে, বহুমূল্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার থেকে। ইতিমধ্যেই আমেরিকা ইরানে ব্যবহার করে ফেলেছে ১২০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল। যার এক একটির মূল্য ৪ মিলিয়ন ডলার। অস্ত্র তো বটেই এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচের বহরও লাগামছাড়া। রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধে নেমে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার খরচ হয়েছে ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দৈনিক ১ বিলিয়ন ডলার করে খরচ হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৯০ কোটি টাকা।
আরও জানা যাচ্ছে, অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে আমেরিকার এটিএসিএমসি ক্ষেপণাস্ত্র। ৩০০ কিমি পাল্লার এই অস্ত্র ১০০০টির বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ইরানে। তবে পেন্টাগন সূত্রের খবর, কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ঘাটতি আগে থেকেই কম ছিল। বর্তমানে সেইসব অস্ত্রের ঘাটতি আরও প্রবল হয়েছে। অবশ্য হোয়াইট হাউস অবশ্য এই ধরনের দাবি পুরোপুরি খারিজ করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বলেন, আমেরিকার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনা। এবং এরকম বহু যুদ্ধ লড়ার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রও মজুত রয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র অবশ্য নিরাপত্তার ডহাই দিয়ে এই ধরনের কোনও তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। অবশ্য জানা যাচ্ছে, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই ৫.৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হয় আমেরিকার পাশাপাশি একাধিক অপারেশনেও ক্ষতি কম হয়নি। বহু মার্কিন বিমান ভেঙে পড়েছে যুদ্ধে তার খরচও কম নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ছাব্বিশে ফিরল ʼ১৪-র স্মৃতি, ৭ গোল দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জার্মানির
-
সই জাল কাণ্ডে কুণাল-অভিষেককে মুখোমুখি জেরা, বয়ানে অসংগতি সাংসদের! ফের তলবের ভাবনা সিআইডির
-
লেবানন নিয়ে ইজরায়েল-ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা, ‘আমরা শান্তির দোরগোড়ায়’, বার্তা ট্রাম্পের
-
ক্রিকেট মাঠে ফের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ভারতের, পাকিস্তানকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু স্মৃতি-দীপ্তিদের
-
হাতের সঙ্গে জুড়ছে মমতার তৃণমূল? জল্পনার মাঝেই ২১ জুলাই ‘শহিদ তর্পণে’ রাহুলকে আনার প্রস্তুতি প্রদেশ কংগ্রেসের